রাঙামাটির বাঘাইহাট-সাজেক সড়কের চার স্থানে পাহাড়ের মাটি ধসে সাড়ে ৯ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। এ সময়ে সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় সাজেকে আটকা পড়েন ৬ শতাধিক পর্যটক।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) ভোররাতে বাঘাইছড়ি উপজেলার বাঘাইহাট-সাজেক সড়কের চম্পাতলী ও নন্দারাম নামক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ফলে সড়কটিতে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাহাড় ধসের কারণে সড়কের দুই প্রান্তে পর্যটকসহ স্থানীয়দের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ের একাংশ ধসে গিয়ে এ অবস্থা তৈরি হয়। তবে বিকেল সাড়ে ৩টায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় মাটির একাংশ সরানো হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এরপরেই ফিরতে শুরু করেন আটকে পড়া পর্যটকরা।
এর মধ্যে চম্পাতলীতে প্রায় ৫০ মিটার এবং নন্দারাম এলাকায় ৩টি স্থানে ৫০, ৩০ এবং ৩০ মিটার সড়ক পাহাড় ধসে সম্পূর্ণভাবে মাটি দিয়ে ভরাট হয়ে যায়। খবর পেয়ে খাগড়াছড়ির দিঘীনালা উপজেলার ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় মাটি সরানোর কাজ শুরু করে। তবে ফায়ার সার্ভিসের কাছে মাটি সরানোর পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি না থাকায় কাজ চলে ধীরগতিতে।
এতে যান চলাচল বন্ধ হওয়ায় সড়কের দুইপ্রান্তে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। একইসঙ্গে সাজেকগামী পর্যটক এবং সাজেক থেকে ফিরতে না পারায় ৬ শতাধিক পর্যটক সেখানে আটকা পড়েন।
সাজেক রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি সুবর্ণদেব বর্মন বলেন, ‘সাজেক-বাঘাইছড়ির নন্দারাম এলাকায় পাহাড় ধসে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। সাজেক থেকে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা ও আড়াইটায় পর্যটকবাহী গাড়িগুলো ছেড়ে যায়। কিন্তু আজ সড়ক বন্ধ থাকায় সকাল সাড়ে ১০টা ও আড়াইটার গাড়িগুলো বিকেল সাড়ে ৩টায় ছেড়ে যায়।’
বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, ‘পাহাড় ধসের ঘটনায় বাঘাইহাট-সাজেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে সেনাবাহিনী, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় মাটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।’
জুয়েল/রিফাত/