২০১৩ সালে খুলনা নগরীর বাসস্ট্যান্ড থেকে খালাসীর মোড় পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)। কিন্তু নির্মাণের কিছু দিনের মধ্যেই সড়কের পিচ ও খোয়া উঠে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়। এরপর টানা ১২ বছর সড়কটিতে চলাচলে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। চলতি বর্ষা মৌসুমে খানাখন্দে ভরা সড়কটিতে বিপজ্জনক অবস্থা তৈরি হয়েছে।
কয়েক দফা ইটের সলিং দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামত করা হলেও এখন সেটা ভেঙে আবারও বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। একইভাবে সময়মতো নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় রূপসা ট্রাফিক মোড় থেকে খানজাহান আলী সেতু পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তা মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। এ রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন হাজারও মানুষ চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। দীর্ঘ এক যুগেও রাস্তাটির নির্মাণকাজ শেষ হয়নি।
জানা গেছে, নগরীতে কেডিএ, কেসিসি ও সড়ক বিভাগের আওতায় বেশ কয়েকটি রাস্তার নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু উদাসীনতার কারণে সময়মতো কাজ শেষ না করায় ভোগান্তি বাড়ছে। প্রায় ৬৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা সিটি করপোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামত প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয় গত ৩০ জুন। কিন্তু বৃষ্টির কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে এখনো পিচ ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়নি।
এরই মধ্যে বৃষ্টিতে সড়কের ১৮০-১৮৫টি স্থান আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কেসিসির খ অঞ্চল ১ থেকে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে মুজগুন্নি সড়ক, বয়রা জংশন রোড, শিরোমণি মাইলপোস্ট মেইন রোড, আনসার ফ্লাওয়ার মিল মেইন রোড, মহেশ্বরপাশা মেইন রোড, কার্তিককুল, দেয়ানা মেইন রোড, সবুজ সংঘ রোডসহ ৮০-৮৫টি স্থানে চার ফিট বাই চার ফিট বা চার ফিট বাই তিন ফিট আকারে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া কেসিসির ক অঞ্চল ১৬ থেকে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে মজিদ সরণি, কেডিএ অ্যাপ্রোচ রোড, গগন বাবু রোড, আহসান আহমেদ রোড, টুটপাড়া, সামসুর রহমান রোডসহ শতাধিক স্থানে সড়কে খানাখন্দ ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, ‘সিটি করপোরেশন দাবি করছে, সড়কটি কেডিএর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে তাদের কিছুই করার নেই। অন্যদিকে কেডিএ বলছে, প্রকল্পে শুধু চার লেনের কাজ অন্তর্ভুক্ত; সংস্কারের বরাদ্দ নেই, তাই তারা কিছু করতে পারছেন না। ফলে উভয় পক্ষ হাত গুটিয়ে বসে থাকলেও জনদুর্ভোগ ক্রমেই বেড়েছে। এ সড়ক দিয়ে শহরে প্রবেশ করেন বান্দাবাজার, চানমারী, শিপইয়ার্ড এলাকা, দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি, সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, আধুনিক রাইস মিল ও চিংড়ি প্রসেসিং জোনের কয়েক হাজার শ্রমিক।
আরও রয়েছে বাসস্থান ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াত। প্রতিদিনই কেউ না কেউ সড়কের গর্তে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহবুব ব্রাদার্স এবং কেডিএ প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদি অবহেলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এটি খুলনা শহরের প্রবেশপথ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না।’
কেডিএর প্রধান প্রকৌশলী মো. সাবিরুল আলম বলেন, ‘জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় প্রকল্পটি ২০১৩ সালে অনুমোদন দেওয়া হলেও কাজ শুরু হয় ২০২২ সালে। পরে খুলনা ওয়াসার কারণে প্রকল্পের কাজে ধীরগতি দেখা দেয়। পাইপলাইন স্থাপন কাজে বিদেশি ঠিকাদার এবং পরামর্শকরা নিজ দেশে চলে যাওয়ায় তাদের কাজ বন্ধ ছিল। সেটা না হলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়ে যেত।’
সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে কেসিসির সড়কের সব কাজ বন্ধ রয়েছে। ১৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পের সময় বাড়ানো হয়েছে। বৃষ্টি কমলে ঢালাইকাজ দ্রুত শেষ করা হবে। বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা নিয়মিত সংস্কারের অংশ হিসেবে পরে মেরামত করা হবে।’