ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলম। ছবি: সংগৃহীত
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (পুলিশ পরিদর্শক) খোরশেদ আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
অভিযোগ ওঠার পরপরই প্রশাসনিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নোয়াখালী পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। শনিবার (১৩ জুন) রাতে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন।
ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার জানায়, তার মা ও ভাই দীর্ঘদিন ধরে জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের মেসে রান্নার কাজ করে আসছেন। সেই সুবাদে ওই কিশোরীও প্রায়ই তদন্ত কেন্দ্রে যাতায়াত করত।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলম বিভিন্ন সময় মেয়েটিকে তার ঘরে ডেকে নিতেন। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগীর পরিবার দাবি করেছে। ঘটনাটি কাউকে না জানাতে কিশোরীকে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সময় টাকার প্রলোভনও দেখানো হতো। পরিবারের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এতদিন বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল বলে জানান তারা।
ধর্ষণের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলম। তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, 'জাহাজমারা তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত এক এএসআইয়ের (উপ-পরিদর্শক) অনিয়মের কারণে তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছিল। এতে তিনি আমার ওপর ক্ষুব্ধ হন এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।'
খোরশেদ আলমের দাবি, যে কিশোরীকে দিয়ে অভিযোগ করানো হয়েছে, সে মূলত ওই এএসআইয়ের বাসায় কাজ করত। বদলির প্রতিশোধ নিতেই ওই এএসআই (উপ-পরিদর্শক) পরিকল্পিতভাবে এই অপপ্রচার চালাচ্ছেন। একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হলেই প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে সরকারি একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে দোষীর কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় অভিযোগ পাওয়ামাত্রই অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া করা হবে।