একটি সেতুর অভাবে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা, চর শৌলমারী ও সাহেবের আলগা ইউনিয়নের ৩০টি গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ।
হলহলিয়া নদীর ওপর সেতু না থাকায় বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা তাদের। বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ রূপ নেয় সীমাহীন কষ্টে। উপজেলা প্রশাসন বলছে, সেতু নির্মাণ প্রকল্পের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে শুরু হবে নির্মাণকাজ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার কাজাইকাটা, গাছবাড়ি, ফুলকার চর, খড়ানির চর, নামাজের চর, জাহাজের আলগা, লাউবাড়ি, বাংলা বাজারসহ ৩০ গ্রামে নেই চলাচলের উপযোগী রাস্তা। এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে ৪০০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন ওইসব গ্রামের মানুষকে বাঁশের তৈরি সাঁকো দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। কর্দমাক্ত রাস্তা ও স্থানীয় উদ্যোগে নির্মিত এই সাঁকো বর্ষায় আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েন অন্তঃসত্ত্বা, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা।
স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল রানা, মর্জিনা বেগম, সমশের আলীসহ অনেকে জানান, বহু বছর ধরে তারা সেতু ও রাস্তার দাবি জানিয়ে আসছেন। তারা পাকা রাস্তা ও সেতুর দাবিতে আন্দোলনও করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ভোটের সময় নেতারা এসে প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তী সময়ে তা বাস্তবায়ন হয়নি।
জানা গেছে, সেতু ও পাকা রাস্তা না থাকায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পাশাপাশি অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে এলাকায় বেড়েছে বাল্যবিয়ে ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধ। শিক্ষার হার কমে যাচ্ছে এবং স্বাস্থ্যসেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত সেতু ও পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হলে রৌমারী থেকে জেলা শহর পর্যন্ত যাতায়াতে অল্প সময় লাগবে। এতে সময় ও অর্থ- দুটিই সাশ্রয় হবে। সেই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে আসবে ইতিবাচক পরিবর্তন। এলাকাবাসী তাই আর প্রতিশ্রুতি নয়, এবার বাস্তব কাজ দেখতে চায়।
এ ব্যাপারে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার হালদার বলেন, ‘হলহলিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণের জন্য ৩ হাজার ৬৩০ মিটার চেইনেজ সেতুর একটি প্রস্তাব জেলায় পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে চলতি অর্থবছরেই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হবে।’