চট্টগ্রামের পটিয়ার কেলিশহর ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় কাজ করতে গিয়ে তিন শ্রমিক অপহৃত হয়েছেন। মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদের ছাড়িয়ে আনা হয়েছে। কিন্তু ঘটনা প্রকাশ হলেও থানা পুলিশ কিছুই জানে না বলে জানিয়েছে।
পটিয়া থানা পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগীদের থানায় আসতে বলা হয়েছে, কিন্তু তারা আসেন নি, এতেই পুলিশের কাজ শেষ। এ চক্রকে ধরার জন্য পুলিশ কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) সকালে বাগানের কাজে যাওয়ার সময় সশস্ত্র দুষ্কৃতিকারীদের হাতে পড়েন পটিয়ার কেলিশহর এলাকার তিন শ্রমিক। অপহরণকারীরা মোবাইল ফোনে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবির ভয়ঙ্কর বার্তা পাঠায়, ‘টাকা দাও, না হলে জীবন যাবে।’ অপহৃতরা হলেন- মো. নাছের (৪০), পলাশ শীল (৩৩) ও রাজু শীল (২৫)।
তাদের অপহরণের পর পরিবারের কাছ থেকে মোট প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করে অপহরণকারীরা।
স্থানীয়রা জানান, সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা পলাশ ও রাজুর পরিবারের কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং নাছেরের পরিবারের কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিকাশে আদায় করে। মুক্তিপণ পরিশোধের পর শুক্রবার রাত ১১টার দিকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
পলাশ শীলের ভাই বিপ্লব শীল জানান, তাদের মারধর করা হয়েছে। ফোনে হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করেছে। বলেছে, টাকা না দিলে বাঁচবে না। অপহরণকারীদের স্পষ্ট বার্তা ছিল, ‘টাকা দাও, না হলে জীবন যাবে।’
পটিয়ার কেলিশহর ইউনিয়নের সচিব সৈয়দ চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে পাহাড়ি এলাকায় কিছু সন্ত্রাসীদের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। তারা বিভিন্ন মানুষকে বন্দি করে মুক্তিপণ আদায় করছে। এতে স্থানীয় এলাকাবাসী আতঙ্কিত।
পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরুজ্জামান খবরের কাগজকে বলেন, আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ দেয়নি সুতরাং এ ঘটনায় আমাদের কোনো দায় নেই। অভিযোগ দিলে তখন দেখব।
তিনজন শ্রমিক অপহরণ ও ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় পুলিশের কোনো দায়িত্ব আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই লোকগুলো থানায় না এলে আমি কী করব? এখানে আমাদের করার কিছুই নেই।
চট্টগ্রাম আদালতের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আহমদ কবীর করিম খবরের কাগজকে বলেন, ভুক্তভোগীদের তো ভয় দেখানো হয়েছে, আইনের কাছে না যাওয়ার জন্য, ভুক্তভোগীদের প্রাণ নাশের হুমকি আছে। এ ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পুলিশ চাইলে স্বপ্রণোদিত হয়ে আইন প্রয়োগ করতে পারে। সন্ত্রাসী দমনের জন্য পুলিশ যেকোনো ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারে। ভুক্তভোগী থানায় আসেননি তাই পুলিশের দায়দায়িত্ব নেই বলার অর্থ হলো ওসির দায়িত্বে অবহেলা।
আবদুস সাত্তার/মাহফুজ