ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কারাগারে অভিনেতা জাহের আলভী কুমিল্লায় ১৬০০০০ ইয়াবা জব্দ; আটক ৫ কাতার ম্যাচে ফিরছেন কানাডার অধিনায়ক আলফনসো ডেভিস আন্তর্জাতিক ইয়োগা দিবসে বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে ‘ব্লেন্ডার’স চয়েস আনপ্লাগড’ আইসিইউতে চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার ভারতের ‘মাইকেল জ্যাকসন’, শাড়ি পরে মুনওয়াক গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী ফটিকছড়িতে গ্রিড সাবস্টেশন নির্মাণে অচলাবস্থা, বিদ্যুৎসংকট চরমে রাঙ্গুনিয়ায় ভবন থেকে পড়ে ইলেক্ট্রিশিয়ানের মৃত্যু সততার মাপকাঠি কেমন হওয়া উচিত? সোনারগাঁয়ে শপিংমলে আগুন, ক্ষতি প্রায় ২০ লাখ টাকা পাবনার আটঘরিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে  যুবকের মৃত্যু আরেক ধাক্কা খেলেন মমতা ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন অধ্যায়ের ৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান সুন্দরবনে কুমিরের হামলায় নারী জেলের মৃত্যু সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন পেছাল ১২৭ বার ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের জোক্সস, ‘ভাবছি মেসিকে ব্রাজিল দলে নিব’ প্রাথমিকে 'ম্যাথ ল্যাব' প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: ববি হাজ্জাজ উন্নয়নের মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ গড়ব: প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ পঞ্চগড়ে বালি-পাথরে পাওয়া গেলো মর্টার শেল অনুশীলনে ড্রোন আতঙ্ক, বিরক্ত কোরিয়ান কোচ হামে সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় ২ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭১ রাবির জিএস আম্মারের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ মুন্সীগঞ্জে আরিফ হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও থানায় বিক্ষোভ অগ্ন্যুৎপাতে বইছে আগুনের স্রোত, ভাইরাল ভিডিও স্নায়ুচাপ কাটিয়ে জয়ে চোখ মেক্সিকো কোচের গাজীপুরে পোশাক কারখানায় পানি পান করে অসুস্থ ২ শতাধিক শ্রমিক ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ১২০ মোড়ে বসছে এআই ক্যামেরা বিধিনিষেধ আরোপ সময়ের দাবি রাঙামাটির বরকল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে রসুন ও সার জব্দ
Nagad desktop

কাঁঠালিয়ায় ৩ পরিবারের চরম অমানবিক জীবনযাপন

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৫, ০১:২১ পিএম
আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২৫, ০৪:০৪ পিএম
কাঁঠালিয়ায় ৩ পরিবারের চরম অমানবিক জীবনযাপন
কাঁঠালিয়া উপজেলার দক্ষিণ শৌলজালিয়া গ্রামে ৩টি পরিবারের চলাচলের রাস্তা না থাকায় ঝুপড়ি ঘরেই অমানবিক জীবনযাপন। ছবি: খবরের কাগজ

বাড়ি থেকে বের হওয়ার পথ না থাকায় চরম ভোগান্তি এবং অমানবিক জীবনযাপন করছেন কাঁঠালিয়ার শ্রমজীবী মো. শের আলীর পরিবারসহ তিনটি পরিবার।

২০১৮ সালের বর্ষা মৌসূমে রাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন শ্রমজীবী মো. শের আলীর স্ত্রী জোছনা বেগম। মুঠোফোনে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে রোগের ধরন অনুযায়ী তিনি সকাল ৬টার মধ্যে রোগী নিয়ে দেখা করতে বলেন। বাড়ি থেকে বের হওয়ার পথ না থাকায় প্রতিবেশিরা কেউ এগিয়ে আসেনি সাহায্য করতে। পরিবারের লোকজন নিয়ে অনেক কষ্ট করে হাতে হাতে ধরে বের হতে সকাল ৯টা পেরিয়ে যায়। একটি ভ্যানে করে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। জোছনা বেগম তখন ৩বছরের ছেলে ও ৫বছর বয়সী মেয়েকে রেখে যান। ছেলে মো. ইয়াছিন (১১) হাফেজি মাদ্রাসায় পড়ে এবং মেয়ে লামিয়া আক্তার এবার এসএসসি উত্তীর্ণ হয়েছে। শের আলীর বড় ভাই আব্দুর রাজ্জাক ওরফে নাগর আলী কাঁচা মালের ব্যবসা করেন। ভ্যানগাড়িতে করে বাজারে বাজারে ঘুরে শাক-সবজি বিক্রি করেন তিনি। তিনি এক মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের জনক।

পারিবারিক অভাব-অনটনের মধ্যেও উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন সন্তানদের। ঢাকায় এক আত্মীয়ের বাসায় নিয়ে মেয়ে আসমা আক্তারকে বিয়ে দিয়েছেন। ওই বাসা থেকেই বরপক্ষ মেয়েকে নিয়ে যান। বাড়িতে যাতায়াতের পথ না থাকায় দীর্ঘ ৫বছরেও জামাইসহ মেয়ের বাড়ির লোকজনকে বেড়াতে (নাইওর) আনতে পারেননি বাড়িতে ঢোকার পথ না থাকায়। 

ছেলে আসলাম হোসেন রাসেল বিএসসি উত্তীর্ণ হয়েছে, কিন্তু তার কোন সহপাঠি বা বন্ধুকেও বাড়িতে আনতে পারছেন না। 

ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন গার্মেন্টস কর্মী। তিনি ২০০৩ সালে বিয়ে করেছেন যশোরের রুকসানা আক্তারকে। তাদের সংসারে ২ মেয়ে- বড় মেয়ে রেজওয়ানা আফরিন উর্মী অনার্সের ছাত্রী এবং ছোট মেয়ের বয়স দুই বছর। মেয়ে বিয়ের উপযুক্ত হলেও বাড়ি যাতায়াতের পথ না থাকায় কোনো প্রস্তাব আসছে না, মেয়ে দেখতেও আসছেন না। যাতায়াতের পথ না থাকায় এভাবেই তিনটি পরিবার যুগের পর যুগ ধরে চরম অমানবিক জীবনযাপন করছেন। 

ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার দক্ষিণ শৌলজালিয়া গ্রামে বিরল এ অমানবিক জীবনযাপন, যা দেখলে যে কারোরই মন কুকড়ে উঠবে। প্রশ্ন তুলবে কীভাবে এমন জীবনযাপন করা সম্ভব? 

শের আলী বলেন, 'পূর্বপুরুষ থেকেই আমাদের যাতায়াতের কোন পথ নাই। আমাদের সীমাহীন কষ্টে চলাফেরা করতে হচ্ছে। তবুও জীবন চলছে অন্যের জায়গা দিয়ে হাঁটা, অন্য বাড়ি থেকে পান করার পানি সংগ্রহ করা। এজন্য অনেক সময় ভিন্ন ধরনের কথা শুনতে হয় প্রতিবেশীর।

অশ্রুভরা চোখে তিনি বলেন, ২০১৮ সালে বর্ষার মৌসূমে মধ্যরাতে হঠাৎ আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিক একজন চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করি। তিনি অসুস্থতার ধরন শুনে সকাল ৬টার মধ্যে তার কাছে যেতে বলেন। কিন্তু অতো সকালে তাকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। বাড়ি থেকে বের হবার পথ নেই। একজন সুস্থ্য মানুষেরই বের হতে অনেক কষ্ট হয়, তারপর অসুস্থ্য মানুষ নিয়ে কিভাবে বের হব? তবুও নিকটাত্মীয়দের সহযোগিতায় হাতে হাতে ধরে তাকে নিয়ে হাসপাতালে ৯টা বেজে যায়। ততক্ষণে সে দুনিয়া ছেড়ে চির বিদায় নেয়। 

তখন ৩বছর বয়সী দুধের ছেলে ও ৫বছর বয়সী মেয়েকে রেখে যায়। বর্ষায় বাড়িতে ঢুকার পথ না থাকায় আমার স্ত্রীর জানাজা পড়তেও তেমন লোকজন আসতে পারেনি। ছেলেটি হাফিজি মাদ্রাসায় পড়ে এবং মেয়েটি এ বছর এসএসসি উত্তীর্ণ হয়েছে। মেয়ের বিয়ে দেয়া নিয়ে বড়ই দুশ্চিন্তায় আছি। আমাদের পথ ঘাট নেই, মেয়েকে কেউ বিয়ে করতেও আসবে না। 

বড় ভাই আব্দুর রাজ্জাক ওরফে নাগর আলীর স্ত্রী ফিরোজা বেগম (৫৮) বলেন, আমার স্বামী কাচামালের (শাক-সবজি) ব্যবসা করেন। আমাদের বিয়ের সময় তখন তার বাজারে আড়ত ছিল। বাবার বাড়ির লোকজন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কথা বলে বিয়ে চুড়ান্ত করেছেন। তাদের সিদ্ধান্তেই আমাদের বিয়ে হয়েছে। কিন্তু বিয়ের বয়স ৪৫বছর হলেও আমার বাবার বাড়ি থেকে এখন পর্যন্ত কেউ বেড়াতে আসেনি। ছেলে-মেয়ে দুটোকে পড়াশুনা করিয়ে উচ্চশিক্ষিত করেছি। মেয়েটাকে ঢাকায় ওর মামার বাসায় নিয়ে বিয়ে দিয়েছি। তখনই তারা নিয়ে গেছে। ৫ বছর অতিবাহিত হয়েছে। বাড়িতে ঢোকার পথ না থাকায় জামাইসহ মেয়ের শ্বশুরবাড়ি থেকে কোনো মেহমান আজ পর্যন্ত বেড়াতে আসেনি। ছেলেটাও প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছে, বিয়ে করানো প্রয়োজন। কিন্তু যাতায়াতের পথ না থাকায় কোনো ঘটক আসছে না বা মেয়ের পক্ষ আমাদের সঙ্গে আত্মীয়তা করতেও আগ্রহী হচ্ছে না।' 

তিনি আরও বলেন, তাছাড়াও আমার দুই দেবরের দুটি মেয়ে আছে, তারাও বিবাহ উপযুক্ত। তাদের জন্যও কোনো প্রস্তাব আসছে না। সরকারী সম্পত্তির একটা হালোট তাও বেদখল হয়ে আছে। সেখান থেকে যদি আমাদের চলাচলের জন্য রাস্তার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়, তাহলে আমাদের একটু হলেও সস্তি আসত।

ছোট ভাই আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী রুকসানা বলেন, '২০০৩ সালে ঢাকায় চাকুরিকালীন আমাদের বিয়ে হয়েছে, বাবার বাড়ি যশোরে। বিয়ের পরে আমরাই শুধু বেড়াতে যাই, বাবার বাড়ির কাউকে এখন পর্যন্ত আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আনতে পারিনি। চলাচলের পথ না থাকায় তাদের আসতেও বলতে পারছি না। মেয়ে বড় হইছে, অনার্সে পড়ে। ওর জন্যও কোন প্রস্তাব আসছে না। আমাদের পথ না থাকলে মেহমান আসবে কিভাবে? বলে ওড়না দিয়ে চোখের পানি মুছেন তিনি। আব্দুর রাজ্জাক ওরফে নাগর আলী জানান, এই রাস্তার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে বহুবার গেছি। নির্বাচনের আগে এবং পরে জনপ্রতিনিধিরা শুধু আশ্বাসই দেন। তারা বাস্তবায়নে কোন পদক্ষেপ নেয় না। আমরা শ্রমজীবী মানুষ, বারবার যেতেও পারছি না। তাহলে আবার সংসারের উপার্জন বন্ধ হয়ে যাবে। মেয়েটাকে বিয়ে দিয়েছি, তাকেও দেখতে যেতে পারি না। মেয়ে-জামাইকেও এখন পর্যন্ত বাড়িতে আনতে পারিনি।' 

শৌলজালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক এবং হক্কেন্নুর দরবার শরীফের পীর মো. মঞ্জিল মোর্শেদ ওই তিন ভাইয়ের অসহায়ত্বের কথা প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রতিকারের ব্যবস্থা দাবি করেন।

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী গোলাম সরোয়ার শহীদ বলেন, আব্দুর রাজ্জাকের আরও দুইজন ছোট ভাই আছেন। ওরা তিনটি পরিবার একই বাড়িতে বসবাস করেন। কিন্তু ওদের বাড়িতে যাতায়াতের কোনো পথ নেই। কেউ অসুস্থ হলেও বাড়ি থেকে বের করা যায় না। এ কারণেই শের আলীর স্ত্রী বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে। অন্যের ঘরের পাশ, পিছন দিয়ে চলাফেরা করতে গিয়ে অনেকসময় প্রতিবেশীর ভিন্ন ধরনের কটাক্ষমূলক কথাও শুনতে হয়। সুপেয় পানির ব্যবস্থাও নেই। চরম অমানবিক জীবনযাপন করতে হচ্ছে ৩টি পরিবারের লোকজনকে।

তিনি আরও বলেন, ওদের বাড়ির পাশেই সরকারী জমির একটি হালোট রয়েছে। যা বেদখল হয়ে আছে। স্থানীয় সরকার থেকে যদি উদ্যোগ গ্রহণ করে হালোট দিয়ে যাতায়াতের ব্যবস্থা করে তাহলে তারা ৩টি পরিবার অমানবিক জীবনযাপন থেকে রক্ষা পেত।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শামসুল আলম বলেন, আব্দুর রাজ্জাক ওরফে নাগর আলীরা তিনভাই যে বাড়িতে বসবাস করে, ওদের চলাচলের কোন পথ নেই। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বরাদ্দ পেলে তাদের যাতায়াত পথের ব্যবস্থা করা হবে।

কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, আমিতো জানতাম না কেউ এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো আবেদন করেনি। আমি খোঁজ নিচ্ছি। ওই পরিবারগুলোকে আমার কাছে আবেদন দিতে হবে। আবেদন পেলে আমি ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।

কুমিল্লায় ১৬০০০০ ইয়াবা জব্দ; আটক ৫

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম
কুমিল্লায় ১৬০০০০ ইয়াবা জব্দ; আটক ৫
কুমিল্লার পদুয়ারবাজারে কাভার্ডভ্যান থেকে উদ্ধারকৃত ইয়াবার চালান দেখছেন পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান ও ডিবির কর্মকর্তারা। —ছবি: খবরের কাগজ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ারবাজার এলাকায় ১ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবাসহ পাঁচজনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে পদুয়ারবাজার এলাকায় গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে একটি কাভার্ডভ্যান কেটে ইয়াবার চালান চব্দ করে পুলিশ।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, চৌদ্দগ্রাম এলাকা থেকে একটি প্রাইভেটকারের এস্কট করে ইয়াবার চালান ঢাকামুখী হয়ে যাচ্ছিল। গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা প্রাইভেটকারটির চালক ও যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা স্বীকার করেন যে, একটি কাভার্ডভ্যানে লবণ পরিবহনের আড়ালে ইয়াবা পাচার করা হচ্ছে।

তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পদুয়ারবাজার এলাকায় কাভার্ডভ্যানটি আটক করা হয়। পরে গাড়িটির উপরের অংশে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১৬টি প্যাকেট থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় আটকরা হলেন- কাভার্ডভ্যানের মালিক সিরাজগঞ্জের শিপন শেখ, প্রাইভেটকারচালক রুবেল, যাত্রী সোহেল রানা, কাভার্ডভ্যানচালক মোজাহের শেখ এবং হেলপার সুরুজ হোসেন।

পুলিশ জানায়, জব্দ করা ইয়াবার বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আটকদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
 
জহির শান্ত/আজহার/

ফটিকছড়িতে গ্রিড সাবস্টেশন নির্মাণে অচলাবস্থা, বিদ্যুৎসংকট চরমে

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৩:১০ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম
ফটিকছড়িতে গ্রিড সাবস্টেশন নির্মাণে অচলাবস্থা, বিদ্যুৎসংকট চরমে
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় ৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩২/৩৩ কেভি জিআইএস গ্রিড সাবস্টেশন নির্মাণের কাজ ১৮ মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পাঁচ বছরে তা কেবল পাইলিংয়েই আটকে রয়েছে। প্রকল্পটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনার্জিপ্যাক এবং পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) সমন্বয়হীনতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে উপজেলার লাখো মানুষ, হাসপাতাল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে চরম বিদ্যুৎসংকটে ভুগছে।

বর্তমানে ফটিকছড়িতে বিদ্যুতের একমাত্র উৎস হাটহাজারী গ্রিড থেকে আসা ৩৮ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ৩৩ কেভি লাইন। এই লাইনের কোনো বিকল্প সংযোগ না থাকায় সামান্য ত্রুটিতেই পুরো উপজেলা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় বড়ুয়া খবরের কাগজকে বলেন, ৩৩ কেভি লাইনের জন্য ৩৮ কিলোমিটার অনেক বেশি দূরত্ব। এতে শেষ প্রান্তে ভোল্টেজ এতটাই কমে যায় যে কারখানার ভারী যন্ত্র চালানোও কঠিন হয়ে পড়ে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে জনজীবন ও স্বাস্থ্যসেবায়।

ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. কামরুল হাসান খবরের কাগজকে জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ভর্তি রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা ব্যহত হচ্ছে।

বিবিরহাট বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি সাইয়েদ মো. ইলিয়াছ খবরের কাগজকে বলেন, বিদ্যুৎ গেলে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যায়, ব্যাংক লেনদেন থেকে পণ্যের অর্ডারসহ সব কাজ থমকে যায়। একদিনের বিদ্যুৎহীনতায় ব্যবসায়ীদের ক্ষতির পরিমাণ বিশাল।

প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, সংকট নিরসনে ২০২১ সালের ৪ আগস্ট পিজিসিবি এবং হিয়োসাং এনার্জিপ্যাক কনসোর্টিয়ামের মধ্যে নারায়ণহাটে সাবস্টেশন নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। শর্ত ছিল ১৮ মাসের মধ্যে, অর্থাৎ ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। তবে ২০২০ সালে এই প্রকল্পের শুরুতেই দরপত্র জমার সময়সীমা অন্তত পাঁচ বার বাড়ানো হয়েছে। পরে ডলারসংকট ও কোভিডের অজুহাতে মেয়াদ বাড়তে থাকে, কিন্তু কাজ এগোয়নি।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর ফটিকছড়ি জোনাল অফিসের এজিএম আশিক মাহমুদ সুমন খবরের কাগজকে বলেন, পিডিবি থেকে হস্তান্তরিত পুরনো এই লাইন দিয়ে উপজেলার ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, 'এই গ্রিড না হওয়া পর্যন্ত আপনারা ভালো বিদ্যুৎ পাবেন না। এটা হলে আশা করি ৮০ শতাংশ সমস্যার সমাধান হবে। বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে দেখেন যেনো নারায়ণহাটের নতুন গ্রিডটা যেন দ্রুত চালু হয়। সবচেয়ে বড় কথা হলো, পিডিবি থেকে হ্যান্ডওভার হওয়া এই পুরনো জরাজীর্ণ লাইনটাই ফটিকছড়ির মূল সমস্যা।'

প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা পিজিসিবির উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহিদ হাসান খান জানান, ডলারের দাম ৮০ থেকে ১২২ টাকায় বাড়ায় ঠিকাদার কাজে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। চুক্তি বাতিলের চেষ্টা হলেও নতুন টেন্ডারের জটিলতায় এখন একই ঠিকাদার দিয়ে সমঝোতার মাধ্যমে কাজ শেষ করার পথ খোঁজা হচ্ছে।

কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে এনার্জিপ্যাকের কর্মকর্তা আমিনুর রহমানসহ একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউ কথা বলতে রাজি হননি। সাইট ইঞ্জিনিয়ার সালমানকে সরেজমিনে গিয়েও পাওয়া যায়নি। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি আর ফোন ধরেননি।

নাজমুল আলম/থিওটোনিয়াস

রাঙ্গুনিয়ায় ভবন থেকে পড়ে ইলেক্ট্রিশিয়ানের মৃত্যু

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম
রাঙ্গুনিয়ায় ভবন থেকে পড়ে ইলেক্ট্রিশিয়ানের মৃত্যু
নিহত সৈয়দ নুরুল বশর বাহাদুর। ছবি: খবরের কাগজ
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় পানির ট্যাংক স্থাপনের কাজ করতে গিয়ে ভবন থেকে পড়ে সৈয়দ নুরুল বশর বাহাদুর (৫৮) নামে এক ইলেক্ট্রিশিয়ানের মৃত্যু হয়েছে।
 
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের দিঘিরপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
 
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকার আবদুলের একতলা ভবনে পানির ট্যাংক স্থাপনের কাজ করছিলেন ইলেক্ট্রিশিয়ান সৈয়দ নুরুল বশর বাহাদুর। কাজের একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত পা পিছলে তিনি ভবন থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
 
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় নিজ এলাকায় মরহুমের নামাজে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন করা হবে।
 
এদিকে তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয়রা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
 
মুহাম্মদ তৈয়্যবুল/আজহার/

সোনারগাঁয়ে শপিংমলে আগুন, ক্ষতি প্রায় ২০ লাখ টাকা

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম
সোনারগাঁয়ে শপিংমলে আগুন, ক্ষতি প্রায় ২০ লাখ টাকা
ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আল মদিনা শপিংমলে আগুনের ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

এ ঘটনায় শপিংমলের বেইসমেন্টে থাকা বৈদ্যুতিক মিটার ও বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পুড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

খবর পেয়ে সোনারগাঁও ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে আগুনের সূত্রপাত বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে হয়ে থাকতে পারে ।

সোনারগাঁও ফায়ার স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা জাহিদ চৌধুরী জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। আগুনে শপিংমলের বেইসমেন্টে থাকা বৈদ্যুতিক মিটার ও অন্যান্য ইলেকট্রিক সরঞ্জাম পুড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে ঘিরে শপিংমলের কয়েকজন দোকান মালিকের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, মার্কেট থেকে উচ্ছেদ করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানো হয়ে থাকতে পারে। দোকান মালিকদের দাবি, আগুন লাগার মাত্র একদিন আগে তাদের দোকান ছেড়ে দেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নোটিশ পাওয়ার পরদিনই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটায় বিষয়টিকে তারা ‘রহস্যজনক’ বলে মনে করছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

তবে শপিংমলের মালিক মাজারুল ইসলাম নবী অভিযোগ নাকচ করে বলেন, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে।

ইমরান হোসেন/খাদিজা রুমি/

পাবনার আটঘরিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে  যুবকের মৃত্যু

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম
পাবনার আটঘরিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে  যুবকের মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার দেবোত্তর বাজারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শাহাদাৎ (৩০) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে আক্তার নামে এক ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১০টার দিকে দেবোত্তর বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেবোত্তর বাজারের আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের অ্যাজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের ছাদের ওপর জমে থাকা বৃষ্টির পানি নিচে আকুল স্টোরের ছাদে পড়ছিল। পানি পড়া বন্ধ করার উদ্দেশ্যে শাহাদাৎ ছাদে ওঠেন। একপর্যায়ে তার পা পিছলে নিচে থাকা বৈদ্যুতিক তারে পড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শাহাদাৎকে উদ্ধার করতে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে ব্যবসায়ী আক্তার আহত হন।

পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা শাহাদাতের মরদেহ উদ্ধার করে তার নিজ বাড়ি কদমডেঙা গ্রামে পৌঁছে দেন। আহত আক্তারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

আমিনুল জুয়েল/তামান্না রুপা/