ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
স্মৃতির ভেতর অন্ধকারের গান রেকর্ড থেকে ৫ কদম দূরে দিবু মার্তিনেস সমাজবোধ ও জীবনবীক্ষা জুহান্নুস: ফিনল্যান্ডের সেই অনন্য উৎসব, যখন পুরো দেশ চলে যায় প্রকৃতির কোলে জামিন পেয়েও নতুন মামলায় আটক সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী হাইতি ম্যাচে পরিবর্তনের আভাস আনচেলত্তির বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য ফুটবল ও লাতিন আমেরিকার কথাসাহিত্য ‘আফ্রিকান ব্রাজিলিয়ান’ মরক্কো ফুটবল শেখাল আসল ব্রাজিলকে: বোমেল প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যায়ের ১৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে সাজিনাস হাসপাতালের পরিচালকসহ ৮ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দেশে স্বর্ণের দামে বড় পতন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আ. লীগ নেতা সবার আগে নকআউটে মেক্সিকো চট্টগ্রামে হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালাল স্বামী টিভিতে আজকের খেলা বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করতে চায় পাকিস্তান দেখা পেলাম দুষ্প্রাপ্য চামেলির সোনারগাঁয় ফয়জুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি সজিব গ্রেপ্তার বাংলাদেশের সিরিজ বাঁচানোর লড়াই আল্লাহর মাস মুহাররমে করণীয়-বর্জনীয় দেশের ১৩ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা পোলাওয়ের চাল ১৯০ টাকা কেজি! পদ্মা রেলসেতুর মাটি কাটায় ঝুঁকি নেই: সেতুমন্ত্রী ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ – গ্রুপ ‘এ’ থেকে যোগ্যতা অর্জনের সম্ভাব্য পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে সেনা মোতায়েন পুনর্বিবেচনা করছে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে হামলা অব্যাহত ইসরায়েলের সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা জমা বেড়েছে ৪১ শতাংশ

সাদা পাথর লুটের মামলার একমাত্র সাক্ষী গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ!

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৫, ০৪:৩২ পিএম
আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০২৫, ০৪:৩৩ পিএম
সাদা পাথর লুটের মামলার একমাত্র সাক্ষী গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ!
ছবি: খবরের কাগজ

সিলেটের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর থেকে পাথর লুট ও চুরির ঘটনায় মামলা করেছে খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি)। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) বিএমডির মহাপরিচালক (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ আনোয়ারুল হাবিব বাদী হয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন। এই মামলার একমাত্র সাক্ষী করা হয়েছে বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং বিভিন্ন টেলিভিশন নিউজকে।

এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কোনো মৌলিক সাক্ষী না দিয়ে দালিলিক সাক্ষী দিয়ে এজাহার দায়ের করা কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয় বলে মনে করেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

পাশাপাশি পরিবেশবিদরা মনে করছেন, পাথর ইস্যুতে এ ধরনের অযৌক্তিক কাজ পরবর্তীতে এই মামলার গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করবে।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ১২ আগস্ট পর্যন্ত ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি হতে পাথর লুটপাটের ঘটনায় বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, বিভিন্ন টেলিভিশন নিউজকে সাক্ষী হিসেবে দেওয়া হয়েছে। অথচ দীর্ঘ সময় ধরে ঘটে যাওয়া এই পাথর লুটপাটের ঘটনায় সিলেটের জেলা, উপজেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিজিবি বিভিন্ন সময় অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে। এছাড়া এ সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্সও বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করেছে। তাই সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দায়িত্বশীলদের সাক্ষী না করে শুধুমাত্র গণমাধ্যমকে দালিলিক সাক্ষী করা এই মামলার দুর্বলতা হিসেবে গণ্য হবে বলে মনে করেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ আছে, অজ্ঞাতনামা কিছু দুষ্কৃতকারী ব্যক্তি কর্তৃক গত ৫ আগস্ট, ২০২৪ পরবর্তী সময়ে সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাধীন গেজেটভুক্ত ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি হতে অবৈধ/অননুমোদিতভাবে সম্প্রতি কোটি কোটি টাকার পাথর লুটপাট করা হয়েছে মর্মে বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী পাথর লুটপাটে অজ্ঞাতনামা আনুমানিক ১৫০০-২০০০ ব্যক্তি জড়িত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। সরকারের গেজেটভুক্ত কোয়ারি হতে পাথর লুট/চুরি এ ধরনের কর্মকাণ্ড খনি ও খনিজসম্পদ (নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন) আইন, ১৯৯২ এর ধারা ৪(২) (ঞ) এবং খনি ও খনিজসম্পদ বিধিমালা, ২০১২-এর বিধি ৯৩(১) এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর হওয়ায় মৌখিক নির্দেশনায় খনি ও খনিজসম্পদ (নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন) আইন, ১৯৯২ এর ৫ ধারা অপরাধে ও দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৩৭৯নং ধারা ও ৪৩১নং ধারায় অভিযোগ দায়ের করা প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, সরকারি নির্দেশনায় ও সরকারি স্বার্থে সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাধীন গেজেটভুক্ত ভোলাগঞ্জ কোয়ারি হতে পাথর লুট/চুরির দায়ে দায়ী (অজ্ঞাতনামা) ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।

এ বিষয়ে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), সিলেট-এর সদস্যসচিব আব্দুল করিম কিম খবরের কাগজেক বলেন, গণমাধ্যমের প্রতিবেদনকে মামলায় স্বাক্ষী হিসাবে উপস্থাপন করাকে স্বাগত জানাই। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনকে এই লুটপাটের বিষয়ে কেন স্বাক্ষী করা হলো না? স্থানীয় প্রশাসনের সামনেইতো এই লুটপাট হয়েছে। তাই এ নিয়ে জনমনে প্রশ্নের অবকাশ রয়ে যায়। 

তিনি আরও বলেন, পাথর ইস্যুতে দায়িত্বশীলদের খামখেয়ালিপনা থাকলে পরবর্তীতে তা মামলার গ্রহনযোগ্যতা নষ্ট করতে পারে।

এ বিষয়ে সিলেট জেলা বারের আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহীন খবরের কাগজকে বলেন, এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে শুধুমাত্র মিডিয়াকে সাক্ষী করা কোনোভাই যুক্তিসঙ্গত নয়। শুধু দালিলিক, শুধু প্রচারমাধ্যম, শুধু গণমাধ্যম নিউজ সাক্ষী নয়। মৌলিক সাক্ষী হিসেবে স্থানীয় মানুষ দিতে হবে যারা এই লুটপাটের সঙ্গে জড়িত নয়। এবং ওই এলাকায় প্রশাসনিক দায়িত্বে যারা আছেন তারা সাক্ষী হবেন। যেমন সংশ্লিষ্ট উপজেলা ইউএনও, ওসি, ভূমি কর্মকর্তাকে সাক্ষী করতে হবে এবং এই এজাহার সংশোধন করতে হবে। 

তিনি বলেন, শুধুমাত্র সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষী করে করা এই মামলা বিচারকের সামনে উপস্থাপন করলে মামলার ভিত নষ্ট হবে। কারণ স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ হলো দালিলিক সাক্ষী। একটি মামলার একমাত্র সাক্ষী শুধুমাত্র দালিলিক হতে পারে না। এক্ষেত্রে স্থানীয় এ সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের গুরুত্ব বেশি। এ মামলায় জেলা প্রশাসকও সাক্ষী হওয়া উচিত। নিয়মে খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় এই মামলার আসামি হবে। কারণ এই খনিজসম্পদ সংরক্ষণ করার দায়িত্ব তাদের। তারা সংরক্ষণ করে নাই। এতে বুঝা যায় তারও এই লুটপাটে পরোক্ষভাবে জড়িত।  

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুদীপ্ত অর্জুন খবরের কাগজকে বলেন, বর্তমান আইনে এই ধরনের মিডিয়া রিপোর্টকে সাক্ষী ধরা হয়। কিন্তু সাদা পাথরের লুটপাটের এই মামলাতে শুধুমাত্র মিডিয়া রিপোর্টকে বেইজ ধরা হয়েছে। কিন্তু এই মামলার মূল সাক্ষী করা উচিত ছিল বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতা, স্থানীয় যারা এই পাথর তোলায় প্রতিবাদ করছেন তাদের এবং স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বশীলদের। পাশাপাশি এই মৌখিক সাক্ষীদের দাবিকে সমর্থন করার জন্য মিডিয়া রিপোর্টকে সাপোর্ট সাক্ষী করা যেত। তাই শুধুমাত্র গণমাধ্যমকে সাক্ষী করা এই মামলার দুর্বলতা হিসেবে পরিলক্ষিত হচ্ছে।

শাকিলা ববি/অমিয়/

জামিন পেয়েও নতুন মামলায় আটক সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১১:২৬ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১১:৩৮ এএম
জামিন পেয়েও নতুন মামলায় আটক সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী
ছবি: খবরের কাগজ

প্রায় এক বছর তিন মাস পর হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েও কারামুক্ত হতে পারেননি সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে আদালত একটি পৃথক মামলায় তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠায়।

কাজী কেরামত আলীর আইনজীবীরা জানান, ২০২৪ সালের ৩০ আগস্ট জিআর নং-৩৩২/২৪ মামলার ২ নম্বর আসামি হিসেবে তাকে ২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর জিআর নং-৩৩৪/২৪ মামলাতেও তাকে আসামি দেখানো হয়।

জিআর ৩৩৪/২৪ মামলায় ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর এবং জিআর ৩৩২/২৪ মামলায় গত ৪ জুন হাইকোর্ট থেকে জামিন লাভ করেন কাজী কেরামত আলী। এসব মামলায় জামিন পাওয়ার পর গত ৯ জুন তার কারামুক্ত হওয়ার কথা ছিল। তবে ওই দিনই পুলিশ তাকে জিআর ৩৬৫/২৪ অপর একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজবাড়ীর ১ নং আমলি আদালতে এ শুনানি হয়। শুনানি শেষে পুনরায় কাজী কেরামত আলীকে কারাগারে পাঠানো হয়।

কাজী কেরামত আলীর আইনজীবী এ‌্যাড. আশরাফুল ইসলাম আশা খবরের কাগজকে বলেন, কাজী কেরামত আলী একজন বিনয়ী ও সাদামাটা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি ছয়বার জাতীয় সংসদ সদস্য ছিলেন। যেসব মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে, তা জামিনযোগ্য। এ ছাড়া এসব ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ৭৫ বছর বয়সী কাজী কেরামত আলী শারীরিকভাবে অসুস্থ। হাসপাতালে ভর্তি রেখে তাকে চিকিৎসা সেবা প্রদান অত্যন্ত জরুরি। 

সুমন বিশ্বাস/থিওটোনিয়াস

সাজিনাস হাসপাতালের পরিচালকসহ ৮ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৫০ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১১:০০ এএম
সাজিনাস হাসপাতালের পরিচালকসহ ৮ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার সাজিনাস হাসপাতাল-এ চিকিৎসা অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে সাজিনাস হাসপাতালের পরিচালকসহ মোট আটজন চিকিৎসককে আসামি  করে মামলা করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিশুর মা আমাতুল মাকনুন বৃহস্পতিবার (১৮জুন) চট্টগ্রামের ৩য় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেনের আদালতে এ অভিযোগ দায়ের করেন।

আদালত অভিযোগটি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন এবং চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে বিশেষজ্ঞ মতামত গ্রহণেরও নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, গত ২৫ মে সার্জিস্কোপ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। জন্মের পর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে নবজাতককে উন্নত চিকিৎসার জন্য বায়েজিদ লিঙ্ক রোডে অবস্থিত সাজিনাস হাসপাতাল-এর এনআইসিইউতে ভর্তি করান। তখন শিশুটির শ্বাসকষ্ট ছাড়া অন্য কোনো জটিলতা ছিল না বলে দাবি করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ৩০ মে শিশুটির বাম হাতে ব্যান্ডেজ দেখতে পান মা। পরে দেখা যায়, হাতের তালু কালো হয়ে গেছে এবং আঙুলে গ্যাংগ্রিন শুরু হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব না দেওয়ায় পরবর্তীতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে পুরো শরীরে।

পরবর্তীতে শিশুটিকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতাল ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভুলভাবে আইভি ক্যানুলা স্থাপন এবং সম্ভাব্য অস্ত্রোপচারের জটিলতার কারণে রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর ৪ জুন শিশুটি মারা যায়।

অভিযুক্তরা হলেন—হাসান মাহমুদ চৌধুরী, ডা. আনোয়ার হোসেন, ডা. ফয়সাল আহমেদ, ডা. আদনান ওয়ালিদ, ডা. মিনহাজুল হাসান, ডা. হাবিবুর রহমান, ডা. ফজলে মারুফ এবং ডা. তামিম সাফায়েত চৌধুরী। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্সকেও আসামি করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী শুভাশীষ শর্মা বলেন, "আদালত বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।"

আদালত অভিযোগটি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন এবং চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে বিশেষজ্ঞ মতামত গ্রহণেরও নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার বিষয়ে পোস্ট করেন ভুক্তভোগী মা আমাতুল মাকনুন। পরে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ঘটনাটি আলোচনায় আসে।

আবদুস সাত্তার/তামান্না রুপা/

আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আ. লীগ নেতা

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৪০ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আ. লীগ নেতা
ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার দাওগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চেয়ারম্যান খন্দকার জামাল উদ্দিন বাদশাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে ময়মনসিংহ দায়রা ও জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে, বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, খন্দকার জামাল উদ্দিন বাদশা রাজনৈতিক মামলার আসামি। মে মাসে তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। বৃহস্পতিবার দুপুরে নিম্ন আদালতে (ময়মনসিংহ দায়রা ও জজ আদালত) আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় বিচারকের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আসামিকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেন, ময়মনসিংহ আদালত পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান।

কামরুজ্জামান মিন্টু/থিওটোনিয়াস

চট্টগ্রামে হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালাল স্বামী

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:২৬ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
চট্টগ্রামে হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালাল স্বামী
হাসপাতালের বারান্দায় আনোয়ারা থানা-পুলিশের একটি দল মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করছেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তোলা। ছবি: সংগৃহীত

পরিবারের অমতে প্রেমিকের হাত ধরে ঘর ছেড়েছিলেন কিশোরী খাদিজা আক্তার কাশফি (১৮)। কিন্তু ভালোবাসার সেই ঘর বাঁধার স্বপ্ন মাত্র সাত মাসের মাথায় রূপ নিল নির্মম ট্র্যাজেডিতে। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্ত্রীর মরদেহ ফেলে রেখে কৌশলে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ (২১)।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত সাড়ে আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কাশফি উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মালঘর বাজার এলাকার কাজী বাড়ির আবদুল জলিলের মেয়ে। অভিযুক্ত মারুফ একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে কাশফিকে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন তার স্বামী মারুফ। তবে হাসপাতালে আসার আগেই কাশফির মৃত্যু হয়েছিল।

জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, ‘ওই নারীকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, ততক্ষণে তিনি মারা গেছেন। নিহতের গলায় একটি মোটা দাগ রয়েছে। রোগীকে মৃত ঘোষণার পরপরই তার স্বামী মরদেহ ফেলে হাসপাতাল থেকে সরে পড়েন।’

কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন তার পরিবারের সদস্যরা। আদরের ছোট বোনকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বড় বোন ঝুমুর আক্তার।

তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘সন্ধ্যা সাতটার দিকে আমাদের খবর দেওয়া হয়। হাসপাতালে এসে দেখি আমার বোনের মরদেহ পড়ে আছে। মারুফ আমার বোনকে মেরে এখানে ফেলে চলে গেছে। আমরা এই হত্যার বিচার চাই।’

মেয়ের মা শাহীনূর আক্তার বিলাপ করতে করতে বলেন, আমার ছোট মেয়েটা খুব আদরের ছিল। পালিয়ে বিয়ে করলেও আমি নিজে গিয়ে ওদের রান্না করে দিয়ে আসতাম। যে স্বামী ছাড়া মেয়েটা মুখে ভাত তুলত না, সেই স্বামীই তার প্রাণ কেড়ে নিল?

নিহতের বাবা আব্দুল জলিল অভিযোগ করে বলেন, ‘২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কাউকে না জানিয়ে পালিয়ে বিয়ে করে সে। এরপর থেকেই মারুফ ওর ওপর নির্যাতন চালাচ্ছিল। গতকাল দুপুর থেকেই মারুফ আমাদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছিল। রাতে খবর পাই আমার মেয়ের মরদেহ হাসপাতালে।’

স্বজনদের দাবি, কাশফিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে এখন আত্মহত্যার নাটক সাজানোর চেষ্টা করছে মারুফ ও তার পরিবার।

খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে বলে জানায় পুলিশ। 

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, ‘হাসপাতালে গৃহবধূর মরদেহ ফেলে স্বামী পালিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

আতিক/থিওটোনিয়াস

সোনারগাঁয় ফয়জুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি সজিব গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:২৩ এএম
সোনারগাঁয় ফয়জুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি সজিব গ্রেপ্তার
ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে নির্যাতনের অভিযোগে আলোচিত মোহাম্মদ ফয়জুল মিয়া (৫৫) হত্যা মামলার প্রধান আসামি সজিব আহম্মেদ ওরফে সাদ্দামকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৮জুন) ভোরে কুমিল্লা সদর থানা এলাকার একটি স্থানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি উপজেলার হাড়িয়া চৌধুরীপাড়া এলাকায় অবস্থিত ‘এভারগ্রিন’ মাদক নিরাময় কেন্দ্রের মালিক।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ারের তত্ত্বাবধানে এবং উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জুন সোনারগাঁয়ের হাড়িয়া চৌধুরীপাড়া এলাকার ‘এভারগ্রিন’ মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা ফয়জুল মিয়াকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মাদক নিরাময় কেন্দ্রের মালিক সজিবকে প্রধান আসামি করা হয়। ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।

সোনারগাঁ থানার ওসি গোলাম সারোয়ার বলেন, "হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা সদর এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি সজিবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।"

তিনি আরও জানান, আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ইমরান/তামান্না রুপা/