চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ধলই ইউনিয়নের সাবেক সেনাসদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা জানে আলম। ছেলেমেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে ছিল তার সংসার। মেয়েকে বিয়ে দেন। নাছির নামে তার একটি নাতিও আছে। কিন্তু ওই ঘর বেশি দিন স্থায়ী হয়নি।
তারপর মেয়েকে আবার বিয়ে দেন। ২০১৭ সালে জানে আলম মারা যান। নাছির তখন মামা নুরুল আলমের বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। এক সময় বড় হন। কিন্তু সেই নাছির এখন মামার সঙ্গে ভয়ংকর প্রতারণায় নেমেছেন।
নানা-নানিকে নিজের মা-বাবা বানিয়ে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি করেন। উদ্দেশ্য নানার সম্পদ ও মুক্তিযোদ্ধার ভাতা হাতিয়ে নেওয়া। বিষয়টি জানতে পেরে মামা নুরুল আলম আইনের আশ্রয় নেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে ধরা পড়েন নাছির। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের একাধিক থানায় বিভিন্ন অপরাধের মামলা রয়েছে। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
ধলই ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের শামশুল আলম মাস্টারবাড়ির বাসিন্দা নুরুল আলম বলেন, ‘সে আমার বোনের প্রথম ঘরের সন্তান। তার মাকে দ্বিতীয় বিয়ে দেওয়ার পর থেকে সে আমাদের ঘরে লালিত-পালিত হয়েছে। এর মধ্যে সে আমার বাবার সম্পদ ও তার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা আত্মসাৎ করতে ভুয়া এনআইডি তৈরি করে। ঘটনা জানতে পেরে স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে আমি বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করি। কিন্তু সে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ ৩নং ওয়ার্ড যুবলীগের সদস্য ছিল। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মীমাংসা করতে রাজি হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আমি আদালতে গিয়ে তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা করি। ওই মামলার তদন্তের ভার পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তারা আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দিলে নাছির আদালতে আবেদন করে। আদালত আবারও পিবিআইকে তদন্ত করতে বলে। পরে পিবিআই জানতে পারে নাছিরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তাকে জালিয়াতির মামলায় তদন্তের জন্য তাদের দপ্তরে আসতে বলা হয়। সেখান থেকে তাকে আটক করে হাটহাজারী থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’
হাটহাজারী মডেল থানার ওসি আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন বলেন, ‘নাছিরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় পিবিআই তাকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। বুধবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। হাটহাজারী ছাড়াও নাছিরের বিরুদ্ধে নগরীর চকবাজার, কোতোয়ালি ও ফটিকছড়ি থানায় মাদক, নারী ও শিশু নির্যাতন, ছিনতাই এবং চুরির একাধিক মামলা রয়েছে।’