পরিবেশ রক্ষায় প্লাস্টিক ও পলিথিনের বিনিময়ে গাছের চারা বিতরণ করছে ‘ঐক্য-বন্ধন’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সংগঠনটি স্কুল প্রাঙ্গণ বা বাড়ির আশপাশের বোতলসহ বিভিন্ন ধরনের ফেলনা প্লাস্টিক ও পলিথিন কুড়িয়ে আনলে খুদে শিক্ষার্থীদের হাতে দিচ্ছে গাছের চারা। এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অনন্য এক উদ্যোগ।
শিক্ষার্থীরা এসব গাছের চারা বাড়িতে নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় রোপণ করছে। আবার কেউ কেউ শিক্ষকদের সহযোগিতায় স্কুল প্রাঙ্গণেও রোপণ করছে গাছের চারা।
সংগঠনটির সদস্যরা জানান, প্লাস্টিক, পলিথিনসহ বর্জ্য পদার্থ অপসারণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হচ্ছে। পাশাপাশি বৃক্ষ রোপণে ছোট থেকেই আগ্রহী হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। সমাজেও এর একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত ঐক্য-বন্ধনের সদস্যরা জানান, তাদের হাতখরচের টাকা থেকে পরিচালিত হয় সংগঠনটি। যশোরের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্লাস্টিকের বিনিময়ে গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচি চলছে। ইতোমধ্যেই যশোরের বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তারা চারা বিতরণ করেছেন। গোটা যশোর জেলায় পাঁচ হাজার গাছের চারা বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে এই তরুণদের।
এ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবার সংগঠনটির সদস্যরা বিভিন্ন অঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিয়েছেন ফলদ, বনজ, ঔষধিসহ নানা প্রজাতির ২০০টি গাছ।
সংগঠনটির সহ-অর্থ সম্পাদক রায়হান হোসেন বলেন, ‘আমরা আগে থেকে শিক্ষার্থীদের বলে দিয়েছিলাম বাড়িতে বা আশপাশে জমে থাকা প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট ও পলিথিন নিয়ে আসার জন্য। শিক্ষার্থীরা আমাদের ৬ বস্তা প্লাস্টিকের বর্জ্য দিয়েছে। ধান সেদ্ধ করার কাজে এই বর্জ্য ব্যবহার করা হবে।’
পলাশী রাজবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভি হোসেন বলে, ‘আমরা বইয়ে পড়েছি বাগান করতে হবে। কিন্তু কখনো গাছ নিজ হাতে লাগাইনি। এবার নিজ হাতে গাছ লাগাব। গাছের পরিচর্চা করব।’
ঐক্য-বন্ধনের সভাপতি রনি হোসেন বলেন, ‘বর্তমান দেশের তাপমাত্রা ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনজীবন ও জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখিন হচ্ছে। বন উজাড় ও নানা অজুহাতে নির্বিচারে গাছপালা কেটে ফেলায় বাড়ছে তাপমাত্রা। গাছ কেটে ফেললেও নতুন করে চারা রোপণে তেমন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তাই আমাদের এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন।’
ঐক্য-বন্ধনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘বাজারের নানা পণ্য ব্যবহারের ফলে আমাদের বসতবাড়ির আশপাশে প্লাস্টিকের বোতল ও প্লাস্টিকের মোড়ক জমে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। আমরা চেয়েছি শিশুরা বাড়ির আশপাশ থেকে এসব বর্জ্য কুড়িয়ে এনে আমাদের কাছে জমা দিয়ে বিনিময়ে গাছ উপহার নিক। প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের ছাত্রছাত্রীদের শিশু বয়স থেকে গাছ লাগানোর চর্চা ও ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করতে আমরা চেষ্টা করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাইলে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ করতে পারতাম। সেটা না করে পরিবেশ রক্ষার্থে প্লাস্টিকের বর্জ্য গ্রহণ করে আমরা তাদের চারা দিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘আজ যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রোহিতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পলাশী রাজবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি স্থানে শিক্ষার্থীদের মোট ২০০টি চারা দিয়েছি। জেলার অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এই কার্যক্রম চালানো হবে।’
পলাশী রাজবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আফরোজা পারভীন বলেন, ‘ঐক্য-বন্ধন যে উদ্যোগ নিয়েছে তা সত্যিই ব্যতিক্রমী। এমন উদ্যোগ গ্রহণ করতে দেখা যায় না। আমরা তাদের সাফল্য কামনা করি।’