চাঁদপুর জেলা প্রশাসন, পৌর প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন শহরের যানবাহন চলাচলে আটটি নিয়ম বেঁধে দেয়। কিন্তু এ নিয়ম মানতে নারাজ অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশাসহ অন্য যানবাহন চালকরা। এ কারণে তারা গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে শহরের নতুন বাজার ব্রিজের পালবাজার অংশে এবং চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ বাইপাস সড়কের পূর্ব মাথায় বিক্ষোভ করেন। এতে শহরের প্রবেশমুখ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়ে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
শহরের পালবাজার গেটে গিয়ে দেখা গেছে, ব্রিজের নিচের সড়ক থেকে পুরান বাজার পর্যন্ত তীব্র যানজট। নিচের সড়কে অনেক চালক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করছেন। তাদের বক্তব্য, প্রশাসনের দেওয়া নিয়ম তারা মেনে চলতে পারবেন না। তারা ‘ডিসি ঘুসখোর’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। সেখানে চালকদের এই বিক্ষোভের সঙ্গে বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন এবং চালকদের পক্ষে বক্তব্য দেন।
চালকরা বলেন, ‘প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে লাল ও সবুজ রঙের অটোরিকশা এক দিন করে শহরে চলাচল করবে। কিন্তু চালকদের বক্তব্য হচ্ছে এই নিয়ম কাদের সঙ্গে আলোচনা করে করা হয়েছে। আমরা এ নিয়ম মানব না। এক দিন রোজগার বন্ধ থাকলে আমাদের সংসার চলবে কীভাবে।’
তারা আরও বলেন, ‘প্রশাসন এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন ছিল। শ্রমিক ও মালিক নেতারা গাড়ি চালান না। সড়কে থাকতে হয় আমাদের। দিন শেষে মালিক আমাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার জন্য বসে থাকেন। সমস্যাগুলো আমাদেরই মোকাবিলা করতে হয়।’
দীর্ঘ সময় বিক্ষোভের পর ঘটনাস্থলে আসেন পৌর প্রশাসক গোলাম জাকারিয়া ও পৌরসভার কর্মচারীরা। তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসকসহ সবার সঙ্গে কথা বলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন আপনারা যদি না মানেন তাহলে কিছু করার নেই। আপনারা আগে যেভাবে ছিলেন সেভাবে গাড়ি চালান। এরপর চালকরা আটকে রাখা সব যানবাহন ছেড়ে সড়ক স্বাভাবিক করে দেয়।’
শহরে যানবাহন চলাচলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আট নিদের্শনা বাস্তবায়নের নির্ধারিত দিন ছিল ১০ সেপ্টেম্বর। এর আগে গত ৩১ আগস্ট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় যানবাহন চলাচলের নিয়মের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। প্রথম দিনেই এ কার্যক্রম অকার্যকর হয়ে পড়ে।