ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শেরপুরে পিকআপভর্তি ভারতীয় মদসহ আটক ৩ হাসানুল হক ইনুর মামলার রায় ৩০ জুন চাপের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল প্রজন্মের বিশ্বকাপ উন্মাদনা পরিসংখ্যানের প্রশ্ন এড়াতে স্বচ্ছতা আনতে চায় সরকার: জুনায়েদ সাকি মামাবাড়ি থেকে ফেরার পথে ড্রেনে পড়ে শিশুর মৃত্যু সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বাড়ছেই রাজশাহীতে রেস্তোরাঁয় হামলা: সাবেক শিবির নেতাসহ ৩০ জনের নামে মামলা তাহিরপুরে ঢলে ঘরের সঙ্গে ভেসে গেছে মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণ জাইমা রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য করা যুবক গ্রেপ্তার মঙ্গল ও চাঁদে অভিযানের জন্য নাসার নতুন রোভার আরনেস্ট রূপগঞ্জে কারখানায় ডাকাতির মালামাল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ জয়পুরহাটে দিনব্যাপী জব ফেয়ার অনুষ্ঠিত ঈশ্বরদীতে দুইদিনের গবেষণা সম্প্রসারণ কর্মশালার উদ্বোধন পৃথিবীর গঠন অধ্যায়ের ৯টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র দেশের ৬ জেলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ ব্রাজিলিয়ান জন্য সুখবর, পূর্ণ অনুশীলনে নেইমার দায় নিজের কাঁধে নিলেন বিয়েলসা ঝিনাইদহে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় যুবকের ফাঁসি মধুখালীতে ডাকাতি, নগদ টাকা-স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ মিডজার্নি আনছে নতুন আলট্রাসনিক বডি স্ক্যানার ক্যারিবীয় সাগরে আবারও মার্কিন হামলা, নিহত ২ হাইড্রেশন ব্রেকের বিরুদ্ধে স্কালোনি রসুনের ১০টি প্রমাণিত উপকারিতা চট্টগ্রামবাসীকে নিয়ে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার ঘোষণা ৫ ইসলামি ধারার ব্যাংকের চাকরিচ্যুতদের সাইপ্রাসে উদ্ধার মরদেহটি নিখোঁজ বাংলাদেশি ছাত্রের হতে পারে গুম ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার ১১ দলের সমাবেশ সুস্ময়ের আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে মেডেল জয় গাছের গায়ে যে কারণে সাদা রং দেওয়া হয় সাময়িক বন্ধের পর চালু মস্কোর ৪ বিমানবন্দর

টেকনাফে নারী-শিশুসহ ৬৬ জনকে পাচার চক্রের কবল থেকে উদ্ধার

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:০১ এএম
টেকনাফে নারী-শিশুসহ ৬৬ জনকে পাচার চক্রের কবল থেকে উদ্ধার
টেকনাফের কচ্ছপিয়ার গহিন পাহাড়ে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে নারী-শিশুসহ ৬৬ জনকে উদ্ধার করা হয়।ছবি: খবরের কাগজ

টেকনাফের বাহারছড়ার কচ্ছপিয়ার গহিন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে পাচার চক্রের কবল থেকে নারী-শিশুসহ ৬৬ জনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড। প্রায় ৭ ঘণ্টার যৌথ অভিযানে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সঙ্গে অংশ নেয় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সোয়াট টিমও। 

অভিযানে অপহরণকারীদের গ্রেপ্তার করা না গেলেও তাদের আস্তানা ও নাম-পরিচয় নিশ্চিত শনাক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই আস্তানাটি চিহ্নিত পাচারকারী জসিমের বলে জানা গেছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সেখানে অভিযান চলে। উদ্ধারদের মধ্যে ৮ জন বাংলাদেশি ও ৫৮ জন রোহিঙ্গা। এর মধ্যে মধ্যে পুরুষ ২২ জন, নারী ২৩ জন ও শিশু ২১ জন।

উদ্ধার হওয়া ভিকটিমদের অধিকাংশই রোহিঙ্গা নাগরিক। যাদের মালয়েশিয়া ও মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে অপহরণ করা হয়েছিল। রোহিঙ্গারা স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে সাগর পথে ঝুঁকি নিয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করে থাকে। মায়ানমার ও মালয়েশিয়ায় থাকা আত্মীয়-স্বজনের ভরসায় তারা দালালদের কাছে নিজেদের সঁপে দেয়। 

উদ্ধার হওয়া ভিকটিম নুরুল আমিন জানান, তিনি টেকনাফের বাহারছড়ায় শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন। পরে শাপলাপুর বাজার থেকে তাকে অপহরণ করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে পাহাড়ের ওই গহিন আস্তানায় আটকে রাখা হয়। মুক্তিপণ হিসেবে ৩ লাখ টাকা দাবি করা হয়। 

নুরুল আমিনের মতো আরও সাত বাংলাদেশি কাজের প্রলোভনের ফাঁদে পড়ে পাহাড়ে কয়েক সপ্তাহ আটকা ছিল। তারা জানায়, অপহরণকারীরা টাকার বিনিময়ে তাদের ছাড়তে রাজি হয়নি। তাদের মালয়েশিয়া পাচারের জন্য মায়ানমারে বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল।

থ্যাইংখালী ক্যাম্প-১৯-এর বাসিন্দা জুনাইদ জানান, টেকনাফ সদর মহেশখালীয়া পাড়ায় দিনমজুরের কাজের কথা বলে তাকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে অপহরণকারীদের আস্তানায় পৌঁছে দেয়। সেখানে তাকে পাহাড়ে আটকে রেখে জোর করে কাজ করানো হতো। শারীরিক নির্যাতন করা হয়। অপহরণকারীরা প্রাথমিকভাবে টাকা দাবি না করলেও জোর করে মালয়েশিয়া পাঠানোর হুমকি দেয়।

কোস্টগার্ডের টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার লে. কমান্ডার সালাহ উদ্দীন রশিদ তানভীর জানান, বাহারছড়া কচ্ছপিয়ার গহিন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে অপহৃত নারী-পুরুষ, শিশুসহ মোট ৬৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া ও মায়ানমারে সক্রিয় আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রটিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।’ 

এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া পাহাড়ি এলাকা ও পৌরসভার দক্ষিণ জালিয়া পাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (২ বিজিবি) ৫ ঘণ্টা সাঁড়াশি অভিযানে মানব পাচারকারী চক্রের ১২ সদস্যকে আটক করে। এ সময় ১১ রোহিঙ্গা ও স্থানীয় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়।

শেরপুরে পিকআপভর্তি ভারতীয় মদসহ আটক ৩

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
শেরপুরে পিকআপভর্তি ভারতীয় মদসহ আটক ৩
শেরপুরের নালিতাবাড়ী থানা পুলিশের অভিযানে উদ্ধারকৃত ভারতীয় মদ ও আটক তিন ব্যক্তি। ছবি: খবরের কাগজ

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে পিকআপভর্তি ২৭৩ বোতল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ভারতীয় মদসহ তিন মাদককারবারিকে আটক করা হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্য জানান নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান।

এর আগে ভোর ৬টার দিকে উপজেলার নয়ানিকান্দা গরুহাটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে পিকআপসহ এসব মদ জব্দ করা হয়।

আটকরা হলেন- রুবেল মিয়া (৪৫), লালচাঁন (২৩) এবং আলমগীর (২৩)।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নয়ানিকান্দা গরুহাটি এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হয়। একপর্যায়ে সন্দেহভাজন পিকআপটিকে থামানোর সংকেত দিলে গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ তাদের আটক করে এবং পিকআপে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২৭৩ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করে।

নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, উদ্ধার করা মদের ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।

শাকিল মুরাদ/আজহার/

 

মামাবাড়ি থেকে ফেরার পথে ড্রেনে পড়ে শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম
মামাবাড়ি থেকে ফেরার পথে ড্রেনে পড়ে শিশুর মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

কুমিল্লার ছোটরা পশ্চিমপাড়া ঈদগাহ এলাকায় ড্রেনে পড়ে স্মৃতি নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। 

রবিবার (২১ জুন) রাতে ভারী বর্ষণের পর শহরজুড়ে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এতে সড়কের ভাঙা স্ল্যাবের ফাঁক দিয়ে ড্রেনের পানিতে পড়ে আট বছর বয়সি ওই শিশুর মৃত্যু হয়। এ সময় স্মৃতির মা কোহিনূর আক্তার মেয়ের পাশে থেকেও তাকে পানি থেকে উঠাতে পারেননি। 

স্মৃতি লাকসাম উপজেলার বেতিহাটি গ্রামের মো. বিল্লাল হোসেনের মেয়ে। সে নগরীর বদরপুর আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। 

সোমবার সকালে স্মৃতির মা কোহিনূর আক্তার খবরের কাগজকে বলেন, রবিবার মামার বিয়ের অনুষ্ঠানে নানাবাড়ি কুমিল্লা নগরীর ২নং ওয়ার্ড ছোটরা মফিজাবাদ কলোনিতে এসেছিল স্মৃতি। রাতে তাকে নিয়ে নিজ বাসায় যাচ্ছিলেন তিনি। সন্তানের হাত ধরেই হাঁটছিলেন। রাস্তায় জলাবদ্ধতায় রিকশা না পেয়ে ফুটপাত ধরে হাঁটতে থাকেন দুজনেই। হঠাৎ মেয়ে মায়ের হাত থেকে পড়ে যায় ড্রেনে। মুহূর্তেই পানির স্রোত তাকে দূরে টেনে নিয়ে যায়। এরপর প্রায় ৩০-৪০ ফুট দূরে ড্রেনের ভেতর থেকে ২০ মিনিট পর স্মৃতিকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। সেখান থেকে একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে জানা যায়, ততক্ষণে প্রাণ হারিয়েছে স্মৃতি।

কোহিনূর আরও বলেন, ড্রেনের উপর স্ল্যাব থাকে না কীভাবে আমি জানতে চাই। স্ল্যাবের উপর তো গাড়ি চলে না যে ভেঙে যাবে। আজকে আমার মেয়ে হারিয়েছে, কাল যে আর কারও সন্তান হারাবে না এই নিশ্চয়তা কে দেবে?’

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, স্ল্যাবগুলো না থাকায় ফুটপাতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। বৃষ্টি হলে গর্ত বা ম্যানহোল কিছুই দেখা যায় না। একটি শিশুর প্রাণ ঝরে গেল অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার খবরের কাগজকে বলেন, আমরা ঘটনার খোঁজ নিয়েছি। এটি একটি দুর্ঘটনা।

জহির শান্ত/থিওটোনিয়াস/

সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বাড়ছেই

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বাড়ছেই
ছবি: খবরের কাগজ

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর ভারী বৃষ্টিপাতে গত কয়েক দিন ধরে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

যমুনার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জেলার অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানিও দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। ফলে নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষের মাঝে আবারও দেখা দিয়েছে বন্যা আতঙ্ক।

স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার সদর, কাজীপুর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর- এই পাঁচটি উপজেলার চরাঞ্চলের গ্রামগুলোর নিচু এলাকা ও ফসলি জমি প্লাবিত হতে শুরু করেছে।

সোমবার (২২ জুন) সকাল ৬টায় সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টে যমুনার পানি সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৬২ মিটার যা বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৯০ মিটার। এ পয়েন্ট গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ১৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ২২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিতহচ্ছে।

অন্যদিকে, কাজিপুর মেঘাইঘাট পয়েন্টে পানি সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৯৯ মিটার যা বিপদসীমা ১৪ দশমিক ৮০ মিটার। এই পয়েন্টে গত ২৪ ঘন্টায় পানি বেড়েছে ১৯ সেন্টিমিটার, যা বিপৎসীমার ২৮১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে পানির তীব্র স্রোতে সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের বাহুকা গ্রামে নদীর ডান তীর রক্ষা বাঁধের ৩০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ঝুঁকিতে রয়েছে বাঁধের অবশিষ্ট অংশ। ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে জিও ব্যাগ ভর্তি বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে ।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, গত কয়েকদিন ধরে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।ভারীবৃষ্টিপাতের কারণে আরো কয়েকদিন যমুনা নদীর পানি বাড়তে পারে।পানি বাড়লেও বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণে বন্যার কোন শঙ্কা নেই। ভাঙন এলাকাগুলোতে পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙন রোধে বালুর বস্তা ফেলে মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে।

সিরাজুল ইসলাম/আমান/

রাজশাহীতে রেস্তোরাঁয় হামলা: সাবেক শিবির নেতাসহ ৩০ জনের নামে মামলা

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম
রাজশাহীতে রেস্তোরাঁয় হামলা: সাবেক শিবির নেতাসহ ৩০ জনের নামে মামলা
ছবি: খবরের কাগজ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর বাজারের বাংলা টিফিন ও বঙ্গভোজ নামের দুটি রেস্তোরাঁয় হামলা, ভাঙচুর ও বিস্ফোরণের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) রাতে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মতিহার থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলাগুলো করা হয়। এর মধ্যে একটি মামলা করেছেন রেস্তোরাঁ দুটির মালিক মুর্শেদ শাকিল এবং অপরটি করেছেন আহত পুলিশ কনস্টেবল ফয়েজ উদ্দিন।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৯ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিনোদপুরে বাংলা টিফিন নামের ওই রেস্তোরাঁয় খাবার কিনতে যান রমজান। খাবার দিতে দেরি হওয়ায় হোটেলের এক কর্মচারী ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এর কিছু সময় পর রমজানের অনুসারীরা ছুরি, চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাংলা টিফিনের পাশাপাশি একই মালিকের আরেকটি রেস্তোরাঁয় (বঙ্গভোজ) হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ সময় কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশ ও রেস্তোরাঁর কর্মীদের লক্ষ্য করে অন্তত তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে ফয়েজ উদ্দিন নামে এক পুলিশ সদস্য আহত হন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, ৩০–৪০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে রেস্তোরাঁটি ভাঙচুর করছেন।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৯ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাংলা টিফিন রেস্তোরাঁয় খাবারের পার্সেল সরবরাহে বিলম্ব হওয়াকে কেন্দ্র করে রমজান আলীর সঙ্গে কর্মচারীদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে তিনি সেখান থেকে চলে যান। কিছু সময় পর ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রেস্তোরাঁটিতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

হামলাকারীরা রেস্তোরাঁয় ব্যাপক ভাঙচুরের পাশাপাশি একাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের লক্ষ্য করেও বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে কনস্টেবল ফয়েজ উদ্দিনসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। হামলায় রেস্তোরাঁর তিন কর্মচারীও আহত হন।

একই সঙ্গে হামলাকারীরা মণ্ডলের মোড় এলাকায় অবস্থিত একই মালিকানাধীন বঙ্গভোজ রেস্তোরাঁয়ও ভাঙচুর চালায়। হামলায় দুই প্রতিষ্ঠানের তিন কর্মচারী আহত হন। রেস্তোরাঁ দুটিতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মালিকপক্ষ।

রেস্তোরাঁ মালিক মুর্শেদ শাকিল অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পরদিন সকালে মোটরসাইকেলে করে আসা দুই ব্যক্তি তার কর্মচারীদের হুমকি দিয়ে মামলা প্রত্যাহারের চাপ দেয়।
তিনি বলেন, নিরাপত্তাহীনতার কারণে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠান বন্ধ  থাকলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি কর্মচারীদের জীবিকাও হুমকির মুখে পড়বে।

অভিযোগের বিষয়ে রমজান আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবীর জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর হামলাকারীরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে আরও কয়েকটি হাতবোমা নিক্ষেপ করে। এতে কনস্টেবল ফয়েজ উদ্দিন আহত হন। তাকে প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এনায়েত করিম/অন্তরা/

তাহিরপুরে ঢলে ঘরের সঙ্গে ভেসে গেছে মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণ

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০২:৫০ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
তাহিরপুরে ঢলে ঘরের সঙ্গে ভেসে গেছে মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণ
ছবি: খবরের কাগজ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বড়দল গ্রামে ঢলের পানিতে বসতঘরের সঙ্গে নদীতে ভেসে গেছে মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণ রুবেল মিয়া (৩০)।

সোমবার (২২ জুন) সকাল ১০টায় এই ঘটনা ঘটে।

রুবেল মিয়া ওই গ্রামের বশিরুল হকের ছেলে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জুয়েল আহমদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে খবরের কাগজকে জানান, রুবেল মিয়া মানসিক ভারসাম্যহীন। তাকে দীর্ঘদিন ধরে ঘরে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতো তার পরিবার। সকালে পাহাড়ি ঢলে হঠাৎ ঘরটি ভেঙে নদীতে তলিয়ে যায়। এ সময় শিকলে বাঁধা অবস্থায় ভারসাম্যহীন ওই তরুণও তলিয়ে যায়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবরিদল ও পুলিশ উদ্ধারকাজ চালালেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত যুবককে উদ্ধার করা যায়নি।

উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম।

দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী/থিওটোনিয়াস