ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ঈশ্বরদীতে ব্রাজিল-মরক্কো খেলা দিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল উত্তেজনা শুরু ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ১ শিশুর ইনজুরি নিয়ে শঙ্কিত নয় মরক্কো বেনাপোল বন্দরে ন্যায্য মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের কর্মবিরতি স্থগিত এনড্রিককে নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন আনচেলত্তি ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন অধ্যায়ের ৯টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান হাতিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ওসি প্রত্যাহার মতলবে ৬৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ, নিরাপত্তাহীনতায় লাখো মানুষ জয় দিয়ে শুরু অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ অভিযান কেনেডি সেন্টার থেকে অপসারণ করা হলো ট্রাম্পের নাম ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্থায় প্রত্যাহার খুলশী থানার ওসি আরিফুল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি: সময় নিয়ে দ্বিমত তেহরানের ২৫ মে থেকে বছরব্যাপী 'নজরুল বর্ষ' পালনের ঘোষণা কুড়িগ্রাম সীমান্তে ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে সোহেল-স্বপ্নার আপিল আজ ইন্টারন্যাশনাল বাথ ডে রবিবার বন্ধ থাকবে রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট সিঙ্গাপুর, কানাডা নয়, বেটার বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ চট্টগ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে মা-মেয়েকে হত্যা মুন্সীগঞ্জে টাকা লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা শেষ হলো ‘রুচি বিউটিগ্রাম সিজন সেভেন’ টিভিতে আজকের খেলা হাইতিকে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে স্কটল্যান্ড র‌্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে ‘টেস্ট অফ ল্যাটিন’– সুস্বাদু খাবার আর ফিফা বিশ্বকাপের দারুণ এক উৎসব ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে ফের অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ ব্রাজিল-মরোক্কো ম্যাচের সেরা ৭ ছবি চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত বিজিবির বাংলাদেশ নারী দলের টি-টোয়েন্টি অভিযান আজ শুরু বিশ্ববাজারে কেন কমছে সোনার দাম?
Nagad desktop

নাটোরে ধানখেতে দৃশ্যমান জাতীয় পতাকা, দর্শনার্থীদের ভিড়

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:২৮ এএম
নাটোরে ধানখেতে দৃশ্যমান জাতীয় পতাকা, দর্শনার্থীদের ভিড়
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রশিদপুর গ্রামের বাসিন্দা কৃষক ইমরান হোসাইনের জমিতে জাতীয় পতাকার আদলে চারাগাছ রোপণ করা হয়েছে। ছবি: খবরের কাগজ

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রশিদপুর গ্রামের বাসিন্দা, সৃজনশীল তরুণ কৃষক ইমরান হোসাইন। তিনি তার সৃজনশীলতায় কৃষিজমিতে রোপণ করেছেন পাকিস্তানি লং বাসমতী আর পারপোল রাইস। তবে রয়েছে বিশেষ নৈপুণ্য।

হৃদয়ে বাংলাদেশকে ধারণ করে জাতীয় পতাকার আদলে রোপণ করেছেন ওই দুই জাতের ধানের চারা। বাসমতী ধানগাছ যেন জাতীয় পতাকার সবুজ রং। আর মাঝের লাল বৃত্ত নির্দেশ করছে বেগুনি রঙের পারপোল ধানগাছ। বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিদিনই ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। তারা ওই কৃষকের সৃষ্টিশীলতা আর দেশপ্রেমের প্রশংসায় কৌতূহল দমিয়ে রাখতে না পেরে এক পলক দেখছেন কৃষককেও। শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি আনন্দে মুখে হাসি ফুটছে  দর্শকদের। গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম রাফিউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাতাসের দোলায় দুলছে ওই জমির ধানগাছগুলো। অপরূপ সেই দৃশ্য। কল্পলোকে মনে হবে, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উড়ছে পত পত করে। জাতীয় পতাকা দুলছে বাতাসের ছোঁয়ায়।
 
দর্শনার্থী তানিম আর নাজমুল বলেন, ‘বিষয়টি জানতে পেরে নিজের আগ্রহকে দমাতে না পেরে ছুটে এসেছি। সত্যিই অপরূপ।’  আরেক দর্শনার্থী সালাম বলেন, ‘জমির দিকে তাকাতেই প্রথম নজরে আসছে লাল বৃত্তের আদলে রোপণ করা বেগুনি রঙের পারপোল ধানগাছ। দৃষ্টি প্রসারিত করে জমির চারদিকে মাথা ঘোরালে দেখা মিলছে জাতীয় পতাকার সবুজ রং নির্দেশক বাসমতী ধানগাছ। যেন শিল্পীর রং-তুলির নিপুণ আঁচড়ে আঁকা হয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। ওই সৃষ্টিশীলতায় যে কারও চোখ জুড়াবে। শ্রদ্ধাবনত করবে সবাইকে।’

কৃষক ইমরান হোসাইন জানান, তিনি বাংলাদেশের একজন গর্বিত নাগরিক। দেশের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকে হৃদয়ে ধারণ করেছেন অপরূপ সৌন্দর্যের প্রিয় বাংলাদেশ। ধারণ করেছেন জাতীয় পতাকাকে। 

তিনি আরও জানান, অনেক দিন থেকেই তিনি তার কৃষি পেশার মাধ্যমে দেশকে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর স্বপ্ন দেখতেন। এরই ধারাবাহিকতায় খোঁজ করতে থাকেন নানা রঙের ধানগাছ। অবশেষে তার স্বপ্নপূরণে ওই দুই রঙের ধানগাছের সন্ধান পান। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি প্রায় ৪৫ শতক জমিতে ওই দুই জাতের ধানের চারা রোপণ করেন। চারা অবস্থায় রং খুব বেশি না ফুটে উঠলেও ধানগাছের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রং গাঢ় হতে থাকে। একপর্যায়ে ধানগাছের প্রাকৃতিক রঙে ফুটে উঠেছে হৃদয়ে ধারণ করা লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা। নিজের চিন্তাশক্তির পূর্ণ প্রতিফলন হওয়ায় তিনি গর্বিত আর আনন্দিত।

তিনি মনে করেন, দেশকে ভালোবাসা শুধু মুখের কথা নয়, কাজের মাধ্যমে প্রকাশ পেলে তা কোটি মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে যায়। ওই সৃষ্টিশীলতা তার মাতৃভূমির প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক।

স্থানীয়দের দাবি, ইমরানের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এখন রশিদপুর গ্রামের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিদিন ভিড় জমছে দর্শনার্থীদের। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন তার এই সৃজনশীল প্রচেষ্টা। ওই কাজের মাধ্যমে জেলার গণ্ডি পেরিয়ে নানা মানুষের কাছে পরিচিতি পাচ্ছে তাদের জন্মস্থান রশিদপুরের নাম, যা বাধ্য করছে তাদের গর্বিত হতে।

গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম রাফিউল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে তিনি গত রবিবার বিকেলে দেখতে গিয়েছিলেন ওই সৃজনশীলতা। 

অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে সবার কাছে এক নতুন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। হাজারও তরুণ শহিদের রক্তের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশের প্রতি সবার দেশপ্রেম এখন যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। ওই কৃষকের অভিনব সৃজনশীলতা মূলত দেশের প্রতি তার শ্রদ্ধাবোধকেই ফুটিয়ে তুলেছে, যা অনুপ্রাণিত করেছে তাকেও। এমন সৃজনশীলতা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।’

ঈশ্বরদীতে ব্রাজিল-মরক্কো খেলা দিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল উত্তেজনা শুরু

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
ঈশ্বরদীতে ব্রাজিল-মরক্কো খেলা দিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল উত্তেজনা শুরু
শহরের পিয়ারপুর মোড়ে প্রজেক্টরে খেলা দেখার আয়োজন করে ব্রাজিল সমর্থকরা। ছবি : খবরের কাগজ।

ব্রাজিল বনাম মরক্কোর খেলার মধ্য দিয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে বিশ্বকাপ ফুটবল উত্তেজনা শুরু হয়েছে।

বিশ্বকাপ ফুটবলের সি গ্রুপের এ খেলাটি দেখার জন্য ঈশ্বরদীর ব্রাজিল সমর্থকরা নানান উদ্যোগ গ্রহণ করে। উদ্যোগের মধ্যে ছিল পতাকা টাঙানো, খিচুড়ি খাওয়ার আয়োজন, বড় প্রজেক্টর স্থাপন ইত্যাদি। 

রবিবার (১৪ জুন) বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এ খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়। 

ভোর ৫টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের পিয়ারপুর এলাকায় ওয়াজের মোড়ে ব্রাজিল সমর্থকরা বড় প্রজেক্টরে খেলা দেখছেন। ২৫-৩০ জনের মধ্যে দু-এক জন ছাড়া সকলেই ব্রাজিল সমর্থক।

ব্রাজিল সমর্থক রাইয়ত মহন বলেন, প্রতিবছর বিশ্বকাপ ফুটবল আসরে একজন সমর্থক হিসেবে আনন্দ করেই ব্রাজিলের খেলা উপভোগ করি। বিশ্বকাপ ফুটবল আসরে এবারও সবাই মিলে খাওয়া দাওয়ার আয়োজন এবং খেলা দেখার জন্য বড় প্রজেক্টরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

মরক্কোর সমর্থক মশিউর রহমান মাসুম বলেন, এবার বিশ্বকাপ ফুটবল খেলায় চ্যাম্পিয়ন হবে মরক্কো। 

ব্রাজিল-মরক্কো ১-১ গোলে ড্র করে প্রথম ম্যাচ শেষ করেছে। খেলার প্রথমার্ধের ২১ মিনিটে মরক্কোর ইসমাইল সাইবারি গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। তবে ৩২ মিনিটের মাথায় ব্রাজিলের ব্রুনো গিমায়েরেসের গোলে খেলা ১-১ সমতায় শেষ হয়। 

এদিকে বিশ্বকাপ ফুটবলের আরেক জনপ্রিয় দল আর্জেন্টিনার খেলাকে কেন্দ্র করে দলটির সমর্থকরাও নানান প্রস্তুতি শুরু করেছে। তাদের পক্ষ থেকেও খাবারের আয়োজনসহ বড় প্রজেক্টরে খেলা দেখার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানা গেছে। 

জাহাঙ্গীর হোসেন/অন্তরা/

ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ১ শিশুর

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ১ শিশুর
ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসা চলছে/ ছবি: খবরের কাগজ

হাম উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে আরও ১টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এ নিয়ে সেখানে ৫১টি শিশুর মৃত্যু হলো। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৫টি শিশু ভর্তি হয়েছে।

গত ৪ জুন রাত ১২টায় ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থেকে আড়াই বছরের শিশু ছেলেকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে নিয়ে এসে ভর্তি করা হয়। শিশুটি হাম উপসর্গের পাশাপাশি সেপটিসেমিয়াসহ (রক্তে গুরুতর সংক্রমণ) সেপটিক শকে ভুগছিল।

শনিবার (১৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।

রবিবার (১৪ জুন) সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম মেডিকেল দলের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গত ১৭ মার্চ থেকে ১৪ জুন সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২ হাজার ৮৭টি শিশু ভর্তি হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮টি শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। এ নিয়ে হাসপাতাল থেকে মোট ছাড়া পেয়েছে ১ হাজার ৯৪০টি শিশু। 

বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে মোট ৯৬টি শিশু। শিশুদের জীবন বাঁচাতে চিকিৎসকেরা দিনরাত সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

কামরুজ্জামান/আমান

বেনাপোল বন্দরে ন্যায্য মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের কর্মবিরতি স্থগিত

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
বেনাপোল বন্দরে ন্যায্য মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের কর্মবিরতি স্থগিত
ছবি: খবরের কাগজ

যশোরের বেনাপোল বন্দরে ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে ডাকা কর্মবিরতি স্থগিত করেছে পণ্য লোড-আনলোড কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা। 

রবিবার (১৪ জুন) সকাল ৯টার দিকে স্থলবন্দরের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থানের পর তাদের কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন।

পরে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বন্দর কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের দাবিগুলো এক মাসের মধ্যে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।

সরকারের বাজেট প্রণয়নের চলমান সময় বিবেচনায় নিয়ে এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলহাজ অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সার্বিক তত্ত্বাবধানে শ্রমিকরা তাদের কর্মসূচি এক মাসের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, ২০১২ সালে বেনাপোল পোর্ট কর্তৃপক্ষ আমদানিকারকদের কাছ থেকে প্রতি টন পণ্য হ্যান্ডলিং বাবদ ৩৩ টাকা আদায় করলেও শ্রমিকরা পেতেন মাত্র ১৮ টাকা। বর্তমানে ২০২৬ সালে সেই হ্যান্ডলিং চার্জ বেড়ে ৭৮ টাকায় উন্নীত হলেও শ্রমিকদের মজুরি এখনো ১৮ টাকাতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

শ্রমিকদের দাবি, প্রতি টন পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে ম্যানুয়াল শ্রমিকদের মজুরি ৩৫ টাকা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ৩০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।

বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সহিদ আলী বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের দাবি বাস্তবায়ন না হলে এক মাস পর পুনরায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের কাজকর্ম বন্ধ রেখে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন জানান, শ্রমিকদের দাবি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জরুল ইসলাম/খাদিজা রুমি/

হাতিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ওসি প্রত্যাহার

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১২:২৯ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
হাতিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ওসি প্রত্যাহার
ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলম। ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ (পরিদর্শক) খোরশেদ আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

অভিযোগ ওঠার পরপরই তাকে নোয়াখালী পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। 

শনিবার (১৩ জুন) রাতে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন।

ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার জানায়, তার মা ও ভাই দীর্ঘদিন ধরে জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের মেসে রান্নার কাজ করে আসছেন। সেই সুবাদে ওই কিশোরীও প্রায়ই তদন্তকেন্দ্রে যাতায়াত করত।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, তদন্তকেন্দ্রের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলম বিভিন্ন সময় মেয়েটিকে তার ঘরে ডেকে নিতেন। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে ভুক্তভোগীর পরিবার দাবি করেছে।

ঘটনাটি কাউকে না জানাতে কিশোরীকে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সময় টাকার প্রলোভনও দেখানো হতো। পরিবারের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এতদিন বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল বলে জানান তারা।

অপরদিকে, ধর্ষণের অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলম।

তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, 'জাহাজমারা তদন্তকেন্দ্রে কর্মরত এক এএসআইয়ের (সহকারী উপ-পরিদর্শক) অনিয়মের কারণে তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছিল। এতে তিনি আমার ওপর ক্ষুব্ধ হন এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।'

খোরশেদ আলমের দাবি, যে কিশোরীকে দিয়ে অভিযোগ করানো হয়েছে, সে মূলত ওই এএসআইয়ের বাসায় কাজ করত। বদলির প্রতিশোধ নিতেই ওই এএসআই পরিকল্পিতভাবে এই অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হলেই প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে সরকারি একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে দোষীর কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

হাতিয়া থানার ওসি জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ওই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজহার/অমিয়/

মতলবে ৬৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ, নিরাপত্তাহীনতায় লাখো মানুষ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
মতলবে ৬৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ, নিরাপত্তাহীনতায় লাখো মানুষ
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ৬৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সড়কটি এখন যেন এক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিনের অবহেলা, ভারী বর্ষণের চাপে সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় শতাধিক গর্ত। 

রবিবার (১৪ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, ষাটনল থেকে আমিরাবাদ পর্যন্ত এই ২৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বৃষ্টির পানির চাপে হুমকির মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে অন্তত ১০ থেকে ১২টি স্থানে বড় ধরনের ছিদ্র এবং প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি স্থানে ছোট ছোট গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আমিরাবাদ, মোহনপুর, ষাটনল, শিকিরচর, এখলাসপুর, জহিরাবাদ, আমিরাবাদ ও জনতাবাজার-সংলগ্ন এলাকাগুলো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মতলব উত্তর উপজেলার একটি পৌরসভা ১৪টি ইউনিয়নের মানুষকে নদীভাঙন ও জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে রক্ষার জন্য ১৯৮৭-৮৮ অর্থবছরে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩২ হাজার ১১০ একর ফসলি জমি সুরক্ষিত রয়েছে। তবে নির্মাণের পর এ পর্যন্ত অন্তত দুবার বাঁধ ভেঙে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে কয়েক শ কোটি টাকার ফসল, ঘরবাড়ি ও সম্পদের ক্ষতি হয়েছিল।

বর্তমানে বেড়িবাঁধের উপর নির্মিত পিচঢালাই সড়কটি মতলব উত্তর উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। শুধু মতলব নয়, ঢাকা, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার যানবাহনও এ সড়ক ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু সড়কের বর্তমান অবস্থা জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ট্রাকচালক মো. সোহেল মিয়া বলেন, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে মালামাল পরিবহন করি। কয়েকটি স্থানে এমন বড় বড় গর্ত হয়েছে যে, সামান্য অসাবধান হলেই গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে রাতের বেলায় চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা সুমন আহমেদ জানান, বৃষ্টি হলেই নতুন করে গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক স্থানে সড়কের পিচ উঠে গিয়ে নিচের মাটি ধসে পড়েছে। কোনো কোনো স্থানে সড়কের একাংশ ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে।

অটোরিকশাচালক মো. নাজমুল হাসান বলেন, দিনে কয়েকবার এই রাস্তা দিয়ে যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করি। গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে প্রায়ই বিপদে পড়তে হয়। বর্ষার কারণে গর্তগুলো আরও বড় হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বারবার ঝুঁকির বিষয়টি জানানো হলেও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বর্তমানে স্থানীয় লোকজন ও প্রশাসনের সহযোগিতায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে বালুর বস্তা, মাটি ও ইট ফেলে সাময়িক মেরামতের চেষ্টা চলছে। কিন্তু এসব উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে কোনো সমাধান নয়।

মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম সাহেদ বলেন, 'বেড়িবাঁধ সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোর বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি।  বর্ষা মৌসুমে যাতে জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি না বাড়ে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।'

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, 'বেড়িবাঁধ সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোর বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা হয়েছে।'

শাহাদাত/খাদিজা রুমি/