চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) হিসাব বিভাগের প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশ আসতে সময় লেগেছিল ১৬ মাস। এখন সেই নির্দেশ আসার দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও ব্যবস্থা নেয়নি চসিক। এমনকি বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও শুরু করেনি প্রতিষ্ঠানটি।
চসিক সূত্র জানায়, ৬ অক্টোবর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন–২ শাখা থেকে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে চিঠি পাঠানো হয়। তাতে হিসাব বিভাগের তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, জাইকা প্রকল্পের আওতায় সোনালী ব্যাংকের সিরাজউদ্দৌলা রোড শাখায় পরিচালিত একটি হিসাব থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের অনুকূলে জামানতের অর্থ জমা দেওয়ার জন্য ইস্যুকরা চেক চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের অনুকূলে জমা না করে ভাউচার পরিবর্তন করে ৩ কোটি ৪৫ লাখ ৩ হাজার ৫২৭ টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা করপোরেট শাখার তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা দায়ের করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের ছাড়াও অর্থ আত্মসাতকাণ্ডে জড়িত আরও এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।
এ ছাড়া অপরাধ সংঘটনের সময় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে অগ্রণী ব্যাংকের আরও একজন কর্মকর্তা এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের হিসাব বিভাগের তিন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে দুদক। যা আদালত মঞ্জুর করে। তারা হলেন, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির চৌধুরী, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (বিল) আশুতোষ দে ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (বাজেট) মাসুদুল ইসলাম।
দুদকের ২০২৪ সালের ১৩ জুনের পত্রের ভিত্তিতেই স্থানীয় সরকার বিভাগ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয় চসিককে। কিন্তু দুই সপ্তাহ পার হলেও চসিক কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. ফিরোজ মাহমুদের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক বিষয়টি দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন ও স্থানীয় সরকার বিভাগকে জানাতে হবে।
একবছরের বেশি সময় আগে দুদকের অভিযোগপত্রে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে অভিযুক্ত থাকার পরও গত ২৯ সেপ্টেম্বর চসিকের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি দেওয়া হয় মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির চৌধুরীকে। তবে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সমালোচনার মুখে পড়ে চসিক প্রশাসন। পদোন্নতির এক সপ্তাহ পেরোনোর আগেই ৫ অক্টোবর মেয়রের অনুমোদনে সেই পদোন্নতির আদেশ বাতিল করা হয়।
একই দিনে এ বিষয়ে তদন্ত করার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয় চসিকের আইন কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মুরাদকে। সাত কর্মদিবসের তদন্তপূর্বক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশনা থাকলেও তা পার হয়ে গেছে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পর্কে জানতে চাইলে চসিক সচিব (ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা) মোহাম্মদ আশরাফুল আমীন জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে আইন কর্মকর্তাকে নিয়োগ করা হয়েছে। তার মতামতের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সময় পার হয়ে গেলেও প্রতিবেদন না পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইন কর্মকর্তা দুইদিনের ছুটিতে ছিলেন। এই সময়ের মধ্যে ওনাকে ঢাকায়ও যেতে হয়েছে। এসব কারণে হয়তো একটু দেরি হচ্ছে। তবে আইন কর্মকর্তা জানিয়েছেন প্রতিবেদন দিয়ে দেবেন।
মাহফুজ/