ফরিদপুরের মধুখালী থেকে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পাঁচ ঘণ্টা পর মো. ইশতিয়াক আহম্মেদ প্রান্ত (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (২১ জুন) সকালের দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা যায, গতকাল শনিবার রাত ২টার দিকে মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এ সময় মাদক বিক্রির অভিযোগে ইশতিয়াক আহম্মেদ প্রান্তকে আটক করা হয়। পরে তাকে ফরিদপুরে এনে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখায় রাখা হয়। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা পাওয়া যায় বালে বলে পুলিশের দাবি।
নিহত মির্জা ইশতিয়াকের পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সারারাত পরিবারের সদস্যরা মধুখালী থানা, ডিবি পুলিশসহ বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে ইশতিয়াকের কোনো হদিস পাননি। পরে শনিবার সকাল ৮টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল থেকে খবর পেয়ে ইশতিয়াকের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।
ইশতিয়াকের মা খাদিজা আক্তার বলেন, ‘ইশতিয়াককে আটকের সময় তার দেহ তল্লাশি করে মাদক জাতীয় কোনো দ্রব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি ডিবি পুলিশ বাড়ির প্রতিটি কক্ষ তল্লাশি করে বিন্দুমাত্র মাদক পায়নি। তবে শুনেছি পুলিশ তার থেকে তিন পুটলা গাঁজা উদ্ধারের দাবি করছে।’
তিনি আরও বলেন, ’কোন অপরাধে আমার সুস্থ নিরীহ ছেলেকে ধরে নিয়ে ডিবি হেফাজতে নির্যাতন করে হত্যা করা হইলো, আমি এ হত্যার বিচার চাই।’
মির্জা ইশতিয়াক আহম্মেদ প্রান্তের চাচা ও মধুখালী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মির্জা আবু জাফর জানান, শনিবার গভীর রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাদের বাড়ি থেকে প্রান্তকে আটক করে। পরে সকালে তারা জানতে পারেন, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে ছুটে যান।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন জানান, আটকের ঘণ্টা খানেক পর প্রান্ত হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার শ্বাসকষ্ট শুরু হলে দ্রুত তাকে প্রথমে জেনারেল হাসপাতালে পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার (২১ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, মধুখালী এলাকা থেকে গাঁজাসহ আটক এক আসামি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শিকদার আফ্রিদি রিজভী বলেন, ’হাসপাতালে আনার পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ ও সিটিস্কানে দেখা যায়, প্রান্তর ব্রেনস্ট্রোক হয়েছে। তার মাথায় বড় ধরনের রক্তক্ষরণ হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন বা নির্যাতনের আলামত পাওয়া যায়নি।’
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ’মির্জা মোহাম্মদ ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্ত নামের একজন আসামিকে তার বাড়ি থেকে মাদকসহ জেলা গোয়েন্দা শাখা ধরে নিয়ে আসে। তাকে আমাদের হেফাজত রাখা হয়। পরবর্তীতে আমাদের হেফাজতে থাকাকালীন তিনি অসুস্থ বোধ করলে তাকে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল ও পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তিনি মারা যান।’
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি তিনি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মারা গেছেন। আমরা প্রাথমিকভাবে এটা নিশ্চিত করেছি যে তার শরীরে কোনো ধরনের জখম ছিল না। আমাদের পুলিশের হেফাজতে কোনো ধরনের এখানে তাকে আঘাত করা বা এরকম কিছু ঘটনা করা হয়নি। আমরা আমাদের অভ্যন্তরীণ একটি তদন্ত করব।
এনকেবি নয়ন/খাদিজা রুমি/