ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ব্রাজিলের কাছে হেরেও ফুটবলারদের নিয়ে গর্বিত হাইতির কোচ বরকে মিষ্টিমুখ করাতে গিয়ে প্রাণ গেল চাচা শ্বশুরের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ২ চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি চট্টগ্রামে র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার সাতকানিয়ায় মাদরাসায় হামলা ও দেওয়ালে জয় বাংলা লেখার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন মোহনগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার আত্মসমর্পণ এআই ক্যামেরা বন্ধের পেছেন কি তবে ‘ইঁদুরের হাত’ অস্ট্রেলিয়ায় শনাক্ত হলো সংক্রামক এইচ৫ বার্ড ফ্লু রামপুরায় গুলিবিদ্ধ শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কাইল্লা পলাশের’ মৃত্যু টুকটুক ও চিকু পাঠ থেকে ২টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর, ৪র্থ পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা ৮০তম জন্মদিন ঘিরে ট্রাম্পের ভাগ্যে বড় পরিবর্তনের আভাস জ্যোতিষীদের ৯০ মিনিট খেলতে এখনও প্রস্তুত নন ইয়ামাল ৪৮ লাখ টাকা খরচ করে বিয়ে, ৯ দিন পর বিচ্ছেদ চাইলেন যুবক টাঙ্গাইলে সেপটিক ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ গেল ৪ জনের কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদ আব্দুস সাদেক আর নেই ফেনী স্টেশনে মেঘনা ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল, যাত্রীদের ভোগান্তি ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি নস্যাৎ করতে পারেন নেতানিয়াহু: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা তুরস্কের হারে নকআউটে যুক্তরাষ্ট্র নওগাঁর আম আমদানি করতে চায় জাপান বিশ্বকাপ থেকে প্রথম দল হিসেবে বিদায় নিল হাইতি টাঙ্গাইলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ৫০ লাখ টাকার সরকারি অনুদান হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬১ হাজার ৬৯৭ হাজি দেশে আরও কমল স্বর্ণের দাম প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি আজ ‘লম্বা মেয়েদের’ প্রশংসা পাওয়ার দিন আনচেলত্তির সন্তুষ্টি, স্কটল্যান্ড ম্যাচেই ফিরছেন নেইমার কাতারের দেওয়া 'উড়ন্ত হোয়াইট হাউস' উন্মোচন করলেন ট্রাম্প জি-৭ সম্মেলনের ‘আমি বস’ মন্তব্য ছিল শুধুই মজা, বললেন ট্রাম্প চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ২০ জনকে পুশইনের চেষ্টা তুমুল হট্টগোল, জাতিসংঘ কর্মকর্তাকে ‘চুপ থাকতে’ বললেন ইসরায়েলি দূত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভয়াবহ বৃষ্টিতে ৮৮৩৭ কৃষকের ৬১ কোটি টাকার ক্ষতি

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৫, ০১:২৭ পিএম
আপডেট: ০৮ নভেম্বর ২০২৫, ০১:৩০ পিএম
চাঁপাইনবাবগঞ্জে  ভয়াবহ বৃষ্টিতে ৮৮৩৭ কৃষকের ৬১ কোটি টাকার ক্ষতি
ছবি: খবরের কাগজ

স্মরণকালের ভয়াবহ বৃষ্টিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষিখাতে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। এক রাতেই ভারী বৃষ্টিতে জেলায় ৮৮৩৭ জন কৃষকের ৬১ কোটি ৮ লাখ ৪১ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। এতে রোপা আমন ধানসহ ১০২২ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। এসব ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭৩১৭.৬০০ মেট্রিক টন।

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) এ ভয়াবহ বৃষ্টি হয়েছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জে।

বৃষ্টিপাতের পর এই ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

স্থানীয় কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৯৩৫ জন কৃষকের ৬৮ হেক্টর জমির রোপা আমন সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ১৭০.১৬৮ লাখ টাকা। এই জমি থেকে উৎপাদন হতো ২৬১.৮০ মেট্রিক টন চাল।

১২৫ জন কৃষকের ১১ হেক্টর জমিতে আলুর ক্ষতি হয়েছে। এতে ওই কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৫০.৮৭৫ লাখ টাকা। এ জমিতে আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২০৩.৫০ মেট্রিক টন।

৩২৭ হেক্টর জমিতে সরিষার ক্ষতি হয়েছে ২২৭০ জন কৃষকের। এতে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৭০৬.৩২০ লাখ টাকা। এই জমিতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫২৩.২০০ মেট্রিক টন সরিষা।

শাকসবজির ক্ষতি হয়েছে ৮৩ হেক্টর জমিতে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১২৭৫ জন কৃষক এবং টাকার অঙ্কে ক্ষতি হয়েছে ৬১৪.২০০ লাখ টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত জমি থেকে শাকসবজি উৎপাদন হতো ১৫৩৫.৫০০ মেট্রিক টন।

৮৫২ জন কৃষকের ৮৭ হেক্টর জমির পেঁয়াজ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১১৭৪.৫০ লাখ টাকা। এ জমি থেকে পেঁয়াজের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৫৬৬.০০০ মেট্রিক টন।

৬৩০ জন কৃষকের ৭৭ হেক্টর জমির মাসকলাই নষ্ট হয়ে গেছে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১২৫.১২৫ লাখ টাকা। এই জমি থেকে মাসকলাই উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০০.১০০ মেট্রিক টন।

১৭০ জন কৃষকের ২৭ হেক্টর জমির ভুট্টা নষ্ট হয়েছে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৯৯.২২৫ লাখ টাকা। এই জমিতে থেকে ভুট্টার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২৮৩.৫০ মেট্রিক টন।

৬০ জন কৃষকের ২৭ হেক্টর জমির স্ট্রবেরি নষ্ট হয়েছে। এতে কৃষকদের ক্ষতি হয়েছে ৬৪৮.০০ লাখ টাকা। এই জমিতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩২৪.০০০ মেট্রিক টন ভুট্টা।

এছাড়া ২৫২০ জন কৃষকের ৩১৫ হেক্টর জমির রসুন নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ক্ষতি হয়েছে ২৫২০.০০ লাখ টাকা। এই জমি থেকে রসুনের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৫২০ মেট্রিক টন।

ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা বলছেন, একরাতের নজিরবিহীন বৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে ধান ও অন্যান্য ফসল। এসব ফসল চাষের জন্য বেশিরভাগ কৃষককেই কৃষি উপকরণের দোকানে অর্থ বাকী রাখতে হয়েছে। আবার কেউ কেউ বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন ঋণের টাকা শোধ করাও সম্ভব হবে না চাষীদের। ঋণ নিয়ে ধান চাষ করে ঋণের বোঝা আরও বেড়েছে তাদের।

দোকান থেকে বাকীতে সার-বীজসহ অন্যান্য উপকরণ নিয়ে এবার আমন ধান আবাদ করেছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার হোসেনডাইং এলাকার মনিরুল ইসলাম। কয়েকদিন পরেই শুরু করতেন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। কিন্তু বৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে সেই ধান। এখন লাভ তো দূরের কথা, দোকানের বাকী কিভাবে পরিশোধ করবেন সেই দুশ্চিন্তার ছাপ তার চোখে মুখে।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এবার আমন ধান চাষ করে ঋণের বোঝা আরও বেড়ে গেল আমাদের। দুই বিঘা জমিতে আমন চাষের সব উপকরণ বাকীতে কিনেছি। বৃষ্টিতে ক্ষতি হওয়ার পর যে ধান পাবো তা জমির মালিককেই দেওয়া যাবে না।’

মনিরুল ইসলাম অন্যের দুই বিঘা জমিতে রোপা আমন ধান আবাদ করেছিলেন। জমির মালিককে ধান দিতে হবে ১৬ মণ। অথচ বৃষ্টির পরে ধানগাছের যে অবস্থা, তাতে সবমিলিয়ে ২০ মণ ধান পাওয়া যাবে কি-না সন্দেহ আছে। ধান কাটার জন্য আবার শ্রমিককে পারিশ্রমিক দিতে হবে। এখন খেত থেকে পানি নেমে গেছে এতে স্পষ্ট হয়ে উঠছে ক্ষয়ক্ষতি।

শুধু মনিরুল ইসলামই নয়, তার মতো চাঁপাইনবাবগঞ্জের কয়েক হাজার কৃষকের এখন একই দুশ্চিন্তা। হোসেনডাইংয়ের আরেক চাষী আবু বকর বলেন, ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় খাওয়ার জন্যও আমাদের ঋণ করতে হবে এখন। চাষাবাদের জন্য দোকানে বাকী তো আছেই। আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। তিনি বলেন, আমি ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে চাষাবাদ করি। গত শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) যে বৃষ্টি হয়েছে এমন বৃষ্টি আর দেখিনি জীবনে।

আমন ধান চাষী রবিউল ইসলাম বলেন, আমার আট হাজার টাকা দোকানে বাকী আছে। এবার ধান তুলে এক টাকাও শোধ করতে পারবো না। আবার চাষাবাদের জন্য বাকীতে সার-বীজ ও কীটনাশক কিনতে হবে। এবারের ক্ষতির জের টানতে হবে পরের মৌসুমেও।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ইয়াছিন আলী বলেন, গত ৩১ অক্টোবর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত জেলায় গড়ে ১৯১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা গত ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং নজিরবিহীন। বৃষ্টিতে জেলার ৪৪৫৯ হেক্টর জমির রোপা আমনসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে ৮৮৩৭ জন কৃষকের ১০২২ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনা হবে।

উল্লেখ্য, গত ৩১ অক্টোবর রাতভর স্মরণকালের ভয়াবহ বৃষ্টিতে পানিবন্দী হয়ে যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাবাসী। দুর্ভোগে পড়েন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নিচু এলাকার মানুষ। রাতভর বৃষ্টিতে ঘরে, দোকানে পানি ঢুকে পড়ে। রাস্তায় হাঁটু পর্যন্ত পানি উঠে যায়। কোথাও কোথাও কোমর ছুঁয়ে যায়। ভারী বৃষ্টিতে পুকুরের পানি উপচে পড়ে প্রায় কোটি টাকার মাছ ভেসে যায় বলে জেলা মৎস্য অফিস জানায়।

মো. আসাদুল্লাহ/নাঈম

বরকে মিষ্টিমুখ করাতে গিয়ে প্রাণ গেল চাচা শ্বশুরের

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০১:০০ পিএম
বরকে মিষ্টিমুখ করাতে গিয়ে প্রাণ গেল চাচা শ্বশুরের
ছবি: সংগৃহীত

নড়াইলে ভাইয়ের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে গেটে বরকে মিষ্টিমুখ করানোর সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে নকুল মল্লিক (৫২) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার মুশুড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, বরকে মিষ্টি খাওয়ানোর সময় অসাবধানতাবশত আলোকসজ্জার একটি ত্রুটিপূর্ণ বিদ্যুতের তারে নকুল মল্লিকের হাত লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয়রা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তাকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নকুল মল্লিককে মৃত ঘোষণা করেন।

চিকিৎসকদের ধারণা, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এই অসাবধানতামূলক দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলার প্রস্তুতি চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তামান্না রুপা/

চট্টগ্রামে র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
চট্টগ্রামে র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার
র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি আলী আকবর। ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বহুল আলোচিত জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি আলী আকবর (২৬)-কে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৭, চট্টগ্রাম। সীতাকুণ্ড থানার ছিন্নমূল ১নং সমাজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শনিবার (২০ জুন) র‍্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন বিষয়টি  নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, 'আগের দিন রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে গত ২২ জানুয়ারি সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলার তদন্তে আলী আকবরের নাম উঠে আসে।​ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব জানতে পারে যে, আসামি আলী আকবর জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অবস্থান করছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।​

আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাকে চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। 

সাতকানিয়ায় মাদরাসায় হামলা ও দেওয়ালে জয় বাংলা লেখার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম
সাতকানিয়ায় মাদরাসায় হামলা ও দেওয়ালে জয় বাংলা লেখার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া পৌরসভায় জায়গা সংক্রান্ত বিরোধে জমিরিয়া সুলতানুল উলুম মাদরাসায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে মাদরাসাটির রাস্তার বাউন্ডারি ওয়াল ভাঙচুরের পাশাপাশি দেওয়ালে জয় বাংলা লেখারও অভিযোগ উঠেছে। এ হামলায় ওই মাদরাসার চার শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।

এ হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছমদর পাড়ায় অবস্থিত মাদরাসার হলরুমে পরিচালনা কমিটির ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মাদরাসাটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মুফতি মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও মাওলানা মাহমুদুল করিম কাসেমী লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

মুফতি মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রাতের আঁধারের এ হামলায় মাদরাসার চারজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। হামলাকারীরা ঘটনাটিকে ভিন্ন দিকে মোড় দেওয়ার লক্ষ্যে মাদরাসার সিসিটিভি ক্যামেরায় কালো রঙের স্প্রে দিয়ে ঢেকে দেয়। এরপর দেয়ালে স্প্রে দিয়ে রাজনৈতিক স্লোগান 'জয় বাংলা' এঁকে দেয়।

তিনি আরও বলেন, জায়গাটি অনেক বছর আগে মাদরাসার জন্য কেনা হয়েছে। এরপর দীর্ঘ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে মাদরাসাটি এখানে পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয় আব্দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি জোরপূর্বক মাদরাসার রাস্তা দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত হওয়ায় আমরা উপজেলা প্রশাসন ও আদালতের শরণাপন্ন হই। এরপর আদালত ওই জায়গায় উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। তবে আদালতের আইনি নিষেধাজ্ঞা ও লিগ্যাল এইডের নোটিশ তোয়াক্কা না করেই প্রতিপক্ষের লোকজন এমন তাণ্ডব চালিয়েছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

মাওলানা মাহমুদুল করিম কাসেমী অভিযোগ করে বলেন, হামলাকারীরা সিসিটিভি ক্যামেরার লেন্স কালো রঙের স্প্রে ব্যবহার করে ঢেকে দিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে। এ সময় মাদরাসার শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করা হয়। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী রক্তাক্ত আহত হয়েছে। এ ছাড়াও সিসিটিভি ক্যামেরায় স্প্রে করার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত হামলাকারীদের প্রবেশ ও গতিবিধির স্পষ্ট ফুটেজ আমাদের কাছে রয়েছে। সেখানে হামলাকারীদের স্পষ্ট চেনা যাচ্ছে। তারা পালিয়ে যাওয়ার সময় ভাঙচুরের কাজে ব্যবহৃত একটি হাতুড়ি ঘটনাস্থলে ফেলে যায়। ঘটনার পরপরই আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। এ হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত মো. আব্দুল্লাহর ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা নিজেরা এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এরপর আমাদের উপর দায় চাপিয়ে দিচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জামিয়াতুল আরবিয়াতুল হাফেজিয়া ছমদর পাড়া বড় মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আবুল হোসাইন, ঠাকুরদিঘী হেমায়েতুল ইসলাম মাদরাসার পরিচালক মাওলানা মাহমুদুল হক, বোর্ড অফিস মাদরাসার পরিচালক মাওলানা ফয়সাল হাকিম, সাতকানিয়া জামে মসজিদের খতিম মাওলানা হাবিবুল্লাহ, ঘাটিয়াডেঙ্গা আইনুল উলুম মাদরাসা পরিচালক মাওলানা আব্দুল মুবিন, রাহে নাজাত মাদরাসার পরিচালক মাওলানা জুনায়েদ, খরাইয়ানগর মাদরাসার পরিচালক মাওলানা তৌহিদুর রহমান, উলামা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি মাওলানা হাফেজ হারুন বিন রশিদ, ছিটুয়া পাড়া দারুল আরকাম মাদরাসার পরিচালক মাওলানা জোনায়েদ ফয়েজী, ছমদরপাড়া বড় মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা হাফেজ শোয়াইব ও সাতকানিয়া উলামা পরিষদের সেক্রেটারি মাওলানা দেলোয়ারসহ প্রমুখ।

আরিফুল ইসলাম/নাঈম

টাঙ্গাইলে সেপটিক ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ গেল ৪ জনের

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১২:০৫ পিএম
টাঙ্গাইলে সেপটিক ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ গেল ৪ জনের
ছবি: খবরের কাগজ

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত সেফটিক ট্যাংকে পড়ে যাওয়া ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার টেলকি জলই গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন গ্রাব্রিয়েল নকরেক (৪৫), রতন নকরেক (২৫), বাবলু হাদিমা (৩৫) এবং নেইমার ম্রং (১০)। তারা সবাই উপজেলার জলই গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের সদস্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে একটি ছাগল বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত সেফটিক ট্যাংকের মধ্যে পড়ে যায়। ছাগলটিকে উদ্ধার করার জন্য প্রথমে গ্রাব্রিয়েল নকরেক ট্যাংকের ভেতরে নামেন। কিছুক্ষণ অতিবাহিত হলেও তিনি আর উপরে উঠতে না পারায় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধারের জন্য একে একে রতন নকরেক, বাবলু হাদিমা এবং শিশুপুত্র নেইমার ম্রং ট্যাংকের ভেতরে নামেন। কিন্তু তারাও আর ফিরে আসতে পারেননি।

একপর্যায়ে স্থানীয়রা বিষয়টি বুঝতে পেরে মধুপুর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে তাদের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ট্যাংকের ভেতর থেকে চারজনকে উদ্ধার করে।

মধুপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, সেফটিক ট্যাংক, কূপ কিংবা গভীর গর্তে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা মিথেন, হাইড্রোজেন সালফাইড ও অন্যান্য বিষাক্ত গ্যাস মানুষের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া এসব স্থানে নামা মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিষাক্ত গ্যাসের কারণেই এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুর হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়, ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

জুয়েল/আমান

ফেনী স্টেশনে মেঘনা ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল, যাত্রীদের ভোগান্তি

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১১:৫১ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
ফেনী স্টেশনে মেঘনা ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল, যাত্রীদের ভোগান্তি
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুর থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ফেনী রেলস্টেশনে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকা পড়েছেন অন্তত ৮০০ যাত্রী। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। 

শনিবার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ৮টায় ট্রেনটি ফেনী জংশনে প্রবেশের সময় ইঞ্জিন থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। 

রেলওয়ে সূত্র জানায়, স্টেশনে পৌঁছানোর পর ইঞ্জিনের মোটরে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। পরে মোটরে আগুন লাগার আশঙ্কা দেখা দিলে নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রেনটি স্টেশনের ডাউন লাইনে থামিয়ে রাখা হয়।

দীর্ঘ সময় ট্রেন আটকে থাকায় অনেক যাত্রী স্টেশনে নেমে বিকল্প পরিবহনের খোঁজ করেন।

লাকসাম থেকে চট্টগ্রামগামী যাত্রী একরামুল হক বলেন, ’সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ট্রেনে উঠেছি। ফেনীতে এসে দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বসে আছি। অনেক যাত্রী ট্রেন ছেড়ে সড়কপথে চলে যাচ্ছেন।’

আরেক যাত্রী সাহেদা বেগম বলেন, ’এতক্ষণে চট্টগ্রামে পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল। দুই সন্তান নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এখানে আটকে পড়ে খুব ভোগান্তিতে পড়েছি।’

ফেনী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ হারুন জানান, চট্টগ্রাম থেকে বিকল্প ইঞ্জিন আনা হচ্ছে, যা ইতোমধ্যে ফৌজদারহাট অতিক্রম করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ইঞ্জিন অপসারণের পর ট্রেনটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।

তিনি আরও জানান, ফেনী থেকে যেসব যাত্রীর এই ট্রেনে ওঠার কথা ছিল, তাদের কেউ কেউ টিকিট ফেরত দিয়ে বিকল্প পরিবহনে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তবে মেঘনা এক্সপ্রেস একটি লাইনে আটকে থাকলেও পাশের দুটি লাইন সচল থাকায় অন্যান্য ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

তোফায়েল নিলয়/খাদিজা রুমি/