শেরপুরের নকলায় সরকারি দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় নিজ কার্যালয়ে কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার মোরসালিন মেহেদীর ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে এক ঘণ্টার কলমবিরতি কর্মসূচি পালিত হয়।
এ সময় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অফিস প্রাঙ্গণে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় বক্তব্য দেন- জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহজাহান সিরাজ, জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মতিয়ার রহমান ও অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) ড. মোছা. মমতাজ সুলতানা।
বক্তারা বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিতে কৃষি খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাঠে থেকে কৃষকদের উন্নয়নে ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। কিন্তু শেরপুরে আমাদের সহকর্মীর ওপর যে বর্বরোচিত হামলা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।’
তারা আরও বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। আমরা আমাদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা চাই। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামীকাল বুধবার (১২ নভেম্বর) অবস্থান কর্মসূচি ও ১৩ নভেম্বর মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে। যদি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন- কৃষি প্রকৌশলী শেখ মো. নাজিম উদ্দিন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিউল হাসান, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম খান, আব্দুল্লাহ আল মারুফ, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন ও স্টোর কিপার মো. জুয়েল হোসেনসহ অধিদপ্তরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
প্রসঙ্গত, গত ৫ নভেম্বর বুধবার দুপুরে নকলা উপজেলা কৃষি অফিসে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির তালিকায় পছন্দের নাম না থাকায় বাকবিতণ্ডার চরম পর্যায়ে ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাহাত হাসান কাইয়ুম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার মুরসালিন মেহেদীকে মারধর করেন। উক্ত ঘটনার সিসি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সংসদ। এ ঘটনায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে এবং সারাদেশে এ ঘটনার প্রতিবাদে কর্মবিরতি পালিত হচ্ছে।
আসাদ জামান/রিফাত/