রংপুর উত্তর পশ্চিম রিজিয়নের সীমান্ত এলাকায় সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং মানবপাচার রোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। চলতি বছরের অভিযানগুলিতে ৫৫৬ জন আসামীসহ প্রায় ৬৭ কোটি টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক করা হয়েছে।
বুধবার (১২ নভেম্বর) কাজিমুদ্দিন মিলনায়তনে ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন ( ৫০ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ তানজীর আহম্মদ।
তিনি জানান, রংপুর রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা ১,৬৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ, যেখানে ৪টি সেক্টর ও ১৫টি ব্যাটালিয়ন নিয়োজিত। প্রতিটি সদস্য সীমান্ত সুরক্ষায় নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছে।
চোরাচালানী মালামালের মধ্যে রয়েছে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, যেমন ফেন্সিডিল, হেরোইন, কোকেন, গাঁজা, ইয়াবা, মেটাডক্সিন ও ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ইস্কাফ সিরাপ এবং বিভিন্ন নেশাজাতীয় ইনজেকশন ও ভায়াগ্রা/ভিগো ট্যাবলেট। এছাড়াও উদ্ধার করা হয়েছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ, গবাদিপশু, মোটরসাইকেল, মোবাইল, জাল রুপি, পোশাক এবং অন্যান্য চোরাচালানী সামগ্রী।
বিজিবি মানবপাচার প্রতিরোধে সীমান্তে সর্বদা ২৪ ঘণ্টা টহল ও নজরদারি চালাচ্ছে। সীমান্তবর্তী জনসাধারণকে সচেতন করার জন্য নিয়মিত জনসচেতনতামূলক সভা, মাইকিং ও জুমার নামাজের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করা হচ্ছে। চলতি বছরে ২৩,৩৭৯টি জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাল টাকার নোট পাচার প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সীমান্তে কঠোর নজরদারি ও টহল তৎপরতা বৃদ্ধি এবং চেকপোস্ট সমূহে তল্লাশীর মাধ্যমে সজাগ দৃষ্টি রাখছে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রংপুর রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী এলাকায় ৮০৭টি পূজা মন্ডপে মোট ১৩৮ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়। তারা উৎসবকে সুষ্ঠু ও নিরাপদ রাখতে কাজ করেছেন। এছাড়াও, বেসামরিক প্রশাসনের অনুরোধে উদ্ভুত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি সদস্যরা সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সীমান্ত হত্যা, নারী ও শিশু পাচার, গবাদিপশু ও চোরাচালান রোধে বিজিবি বিএসএফের সঙ্গে সমন্বিত টহল পরিচালনা করছে। চলতি বছরে ৪,০১১টি পতাকা বৈঠক ও সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার ফলে প্রায় শতাধিক চোরাকারবারী স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে।
রংপুর রিজিয়নের সীমান্ত সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ৬টি নতুন বিওপি স্থাপন করা হয়েছে, যা সীমান্ত নজরদারি ও টহল কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করেছে। পাশাপাশি, সীমান্তবর্তী দরিদ্র ও অসহায়দের মধ্যে আর্থিক অনুদান, শীতবস্ত্র বিতরণ ও মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ তানজীর আহম্মদ বলেন,সীমান্ত নিরাপত্তা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। চোরাচালান, মানবপাচার ও অপরাধ রোধের মাধ্যমে আমরা মানুষকে সচেতন ও নিরাপদ রাখতে কাজ করে যাচ্ছি।
নবীন হাসান/এসএন