মা ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা আরও মানসম্মত করার লক্ষ্যে জননী প্রকল্প, রংপুর ও লালমনিরহাটে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের জন্য ‘ফোকাসড মেন্টরশিপ অ্যাপ্রোচ’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রংপুর জেলার আরডিআরএস, বাংলাদেশের কনফারেন্স রুমে ১৮ ও ১৯ নভেম্বর এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (KOICA) অর্থায়নে, সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় এবং আরডিআরএস বাংলাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়িত ‘জননী প্রকল্প’ এ আয়োজনের উদ্যোক্তা। এ প্রকল্প অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও মেন্টরদের নেতৃত্বে ন্যাশনাল লেবার রুম প্রোটোকল অনুযায়ী চারটি বিশেষায়িত সেশনে পরিচালনা করা হয়, যা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রোটোকলভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেয়।
দুদিনব্যাপী এ সভায় উপস্থিত ছিলেন ডা. মো. গওসুল আজিম চৌধুরী পরিচালক (স্বাস্থ্য) রংপুর বিভাগ, ডা. ইফফাত আরা টিউলিপ সহকারী অধ্যাপক গাইনি ও অবস রংপুর মেডিকেল কলেজ, ডা. মো. ওয়াজেদ আলী উপ-পরিচালক (স্বাস্থ্য) রংপুর বিভাগ, দেওয়ান মোরশেদ কামাল পরিচালক (পরিবার পরিকল্পনা) রংপুর বিভাগ এবং জননী প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ডা. উজ্জ্বল কুমার রায়সহ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তারা।
সেশনগুলোতে জরুরি প্রসূতি ব্যবস্থাপনা, নবজাতক রিসাসিটেশন ও পরিচর্যা, প্রসবপূর্ব ও প্রসবোত্তর সেবা, নরমাল লেবার ব্যবস্থাপনা, পার্টোগ্রাফ ও একলাম্পসিয়া ম্যানেজমেন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবার দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী চারটি করে সেশন সম্পন্ন করেছেন। প্রোগ্রামটির কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করেছে বাংলাদেশ অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকলজিক্যাল সোসাইটি (OGSB)।
প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে দেখা গেছে যে, ন্যাশনাল লেবার রুম প্রোটোকল অনুযায়ী সেবার মানোন্নয়ন, সিদ্ধান্ত গ্রহণে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দলগত কাজের ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। তবে জনবল ও সরঞ্জাম ঘাটতি এখনও প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
জননী প্রকল্প ভবিষ্যতে এই মেন্টরশিপ পদ্ধতিকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার এবং নিয়মিত ফলো-আপ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করছে। অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, অভিজ্ঞ মেন্টরের সরাসরি গাইডেন্স স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করেছে এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ প্রদান করেছে।
সেশনগুলোতে আলোচিত চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে জনবল সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং কিছু প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি। স্টেকহোল্ডাররা সেশন সংখ্যা বৃদ্ধি, নিয়মিত ফলো-আপ এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছেন।
প্রকল্পের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেন্টরশিপ অ্যাপ্রোচকে টেকসই ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট সব অংশগ্রহণকারীর সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে মেন্টর পারফরম্যান্স ট্র্যাকিং এবং প্রোটোকলভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করার জন্য আরও সমৃদ্ধ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে।
নাঈম/