বরিশালে নিউমোনিয়াসহ শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে। রোগীর অতিরিক্ত চাপে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে তীব্র শয্যাসংকট দেখা দিয়েছে। একেকটি বেডে তিন থেকে চারটি শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, শীতজনিত রোগের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে এ সময়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা বেশির ভাগ শিশুই নিউমোনিয়া, জ্বর, ঠাণ্ডা ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বর্তমানে রোগীর চাপ অন্তত তিনগুণ।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ৪১টি শয্যা রয়েছে। কিন্তু প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৫০ শিশু ভর্তি থাকছে। ফলে একেকটি বেডে একাধিক শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এ ছাড়া বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে চার থেকে পাঁচ শতাধিক শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপে চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
হাসপাতালটির আবাসিক চিকিৎসক ডা. নুরুল আলম বলেন, ‘শীত পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেড়েছে, যা গত মাসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি। এর মধ্যে বেশির ভাগ শিশু শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসছে।’
তিনি বলেন, ‘এ সময়ে শিশুর মা-বাবাকে সচেতন হতে হবে। শিশুদের উষ্ণ রাখতে হবে, ধুলোবালি এড়িয়ে চলতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। প্রয়োজনে গরম পানি পান করানো ও গরম পানি দিয়ে গোসল করানো যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে বাসায় থেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।’
মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার আরজু বেগম তার নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছেলেকে হাসপাতালটিতে ভর্তি করিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কোনোমতে একটি বেড পেলেও সেখানে আরও দুই শিশু রয়েছে। ওয়ার্ডের প্রায় প্রতিটি বেডের একই অবস্থা। এতে শিশু ও তাদের স্বজনদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’
রোগীর স্বজনদের ভাষ্য, এক বেডে একাধিক রোগী থাকায় ঠিকমতো চিকিৎসা ও সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক অভিভাবকে শিশুকে কোলে নিয়েই রাত কাটাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক এ কে এম নজমুল আহসান বলেন, ‘রোগীর চাপ সামাল দিতে কিছুটা হিমশিম খেতে হলেও চিকিৎসাসেবায় কোনো ঘাটতি নেই। ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগী বেশি এলেও আমরা সবাইকে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছি। যারা গুরুতর অবস্থায় আছে, তাদের বিশেষ নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।’