ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মারা গেছেন নৃত্য পরিচালক জাকির হোসেন দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ শেষেই বিদায় নিল চার দল ফ্রান্সের কাছে হারলেও গর্বিত ইরাকি সমর্থকেরা টোল আদায়ে অনিয়ম: শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ২০ সেপ্টেম্বর রাঙামাটিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ গ্রেপ্তার ১৬ অ্যান্টি-করোসিভ প্রেম কাপ্তাই হ্রদে নাব্যসংকটে লঞ্চ চলাচল সীমিত, ভোগান্তিতে ৫ লাখ মানুষ কবর থেকে তোলা হচ্ছে না সালমান শাহর মরদেহ মেহেরপুরে জেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ফুটবল বিশেষজ্ঞ বউ ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানীর পদ বাতিল ঢাবির রোকেয়া হলে কাঁঠাল পাড়তে গিয়ে মালির মৃত্যু আক্রমণের ধারা নষ্ট করতে চান না টুখেল উখিয়ায় ৪০ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদককারবারি গ্রেপ্তার নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের: ডিএমপি কমিশনার ‘সোমেশ্বরী’র পরিচালক নওশাবা মৌলভীবাজারে মধ্যরাতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উচ্ছ্বাস জামালপুরে লাগেজে মিলল যুবকের মরদেহ পাঠকের গল্প : একটি খালি বেডের গল্প ‘আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সিদ্ধান্ত নেবে আদালত’ মমেকে হামের উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু, নতুন ভর্তি ২৪ জাবিতে নীতিনির্ধারণী তিন পর্ষদে ২৮ শূন্যপদ, সংকটে স্বায়ত্তশাসন জ্বালানি তেলের ভবিষ্যৎ কি চীনের হাতে? দেশে অস্থিতিশীলতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করছে : রিজভী মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে ৪৩১ পদে বড় নিয়োগ হিলিতে বিএনপির মোটরসাইকেল শোডাউন ন্যাটোর সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই আর্কটিকে রাশিয়ার পারমাণবিক বোমারু বিমানের টহল জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ প্রতিযোগিতায় সেরা হলো বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার লোহাগাড়ায় দুই বাসের সংঘর্ষে কলেজছাত্রী নিহত জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা অধ্যায় থেকে ৩টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর, ২য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান

চট্টগ্রামে মশাবাহিত রোগ নিয়ে গবেষণা শহরাঞ্চলের মানুষ অধিক ডেঙ্গু ঝুঁকিতে

প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:১৩ পিএম
শহরাঞ্চলের মানুষ অধিক ডেঙ্গু ঝুঁকিতে
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম অঞ্চলে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সি তরুণ জনগোষ্ঠী ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে। পুরুষ রোগীর সংখ্যা নারীদের তুলনায় বেশি। শহরাঞ্চলের মানুষ গ্রামাঞ্চলের তুলনায় অধিক ঝুঁকিতে রয়েছে। সম্প্রতি মশাবাহিত রোগ নিয়ে হওয়া একটি গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

চট্টগ্রাম অঞ্চলে ডেঙ্গু, জিকা ও চিকুনগুনিয়া সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র নিরূপণ এবং ভবিষ্যৎ জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর কৌশল প্রণয়নের লক্ষ্যে চলতি বছরের জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত একটি গবেষণা পরিচালিত হয়। 

এসপেরিয়া হেলথ কেয়ার লিমিটেডের সহযোগিতায় এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, ইউএসটিসি, অ্যাপোলো ইম্পিরিয়াল হাসপাতাল, ডিজিজ বায়োলজি অ্যান্ড মলিকুলার এপিডেমিওলজি রিসার্চ গ্রুপ এবং নেক্সট জেনারেশন রিসার্চ, সিকুয়েন্সিং অ্যান্ড ইনোভেশন ল্যাব চিটাগং (এনরিচ)-এর গবেষকদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই গবেষণায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও বিভিন্ন উপজেলার রোগীদের ক্লিনিক্যাল, জনস্বাস্থ্য, রোগতত্ত্ব এবং জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের ওপর বিস্তারিত ও বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ করা হয়।

এই গবেষণায় নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. এইচ এম হামিদুল্লাহ মেহেদী, রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আবুল ফয়সাল মোহাম্মদ নুরুদ্দিন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আদনান মান্নান। গবেষক দলে আরও যুক্ত ছিলেন দেশের বিভিন্ন খ্যাতনামা চিকিৎসক ও গবেষকরা। গবেষণা কার্যক্রমে সহযোগিতায় ছিল বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। 

ডেঙ্গু সংক্রান্ত গবেষণায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের মোট ১ হাজার ৭৯৭ জন রোগীর ক্লিনিক্যাল ও বায়োলজিক্যাল তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, প্রায় অর্ধেক রোগী সতর্কতামূলক লক্ষণসহ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ছিলেন এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী গুরুতর ডেঙ্গুতে ভুগেছেন। উপসর্গ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় সব রোগীরই জ্বর ছিল। পাশাপাশি বমিভাব, মাথাব্যথা, মাংসপেশির ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেটব্যথা ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ উচ্চ হারে উপস্থিত ছিল। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সি তরুণ জনগোষ্ঠী ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে এবং পুরুষ রোগীর সংখ্যা নারীদের তুলনায় বেশি। শহরাঞ্চলের মানুষ গ্রামাঞ্চলের তুলনায় অধিক ঝুঁকিতে রয়েছে বলেও গবেষণায় উঠে আসে। সহ-রোগ বিশ্লেষণে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি পাওয়া গেছে। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণ ও শরীরে তরল জমে যাওয়ার মতো জটিলতাও শনাক্ত করা হয়েছে।

চিকুনগুনিয়া সংক্রান্ত গবেষণায় গবেষকরা উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে চিকুনগুনিয়া বর্তমানে দ্রুত বিস্তারমান একটি মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ হিসেবে গুরুতর জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে রূপ নিয়েছে। গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, এই রোগ কেবল স্বল্পমেয়াদি জ্বরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং দীর্ঘস্থায়ী অস্থিসন্ধির ব্যথা, কর্মক্ষমতা হ্রাস এবং উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়ে উঠছে। গবেষণায় আরও উঠে আসে যে, চিকুনগুনিয়ার সঙ্গে ডেঙ্গু ও জিকা একযোগে সংক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সিটি কর্পোরেশন এলাকার মধ্যে কোতোয়ালী, বাকলিয়া, ডবলমুরিং, আগ্রাবাদ, চকবাজার, হালিশহর ও পাঁচলাইশ এলাকায় সংক্রমণের হার ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি। উপজেলা পর্যায়ে সীতাকুণ্ড, বোয়ালখালি ও আনোয়ারা এলাকায় সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় পরিলক্ষিত হয়। অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী অস্থিসন্ধির ব্যথা তিন মাসের বেশি সময় ধরে স্থায়ী হয়েছে, যার হার প্রায় ৬০ শতাংশ। ভুল রোগ নির্ণয় ও পর্যাপ্ত রিপোর্টিংয়ের অভাবে প্রকৃত রোগভার অনেকাংশেই অজানা থেকে যাচ্ছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি জনসচেতনতার অভাব এবং গড়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ রোগ ব্যবস্থাপনাকে আরও জটিল করে তুলছে।

চট্টগ্রামে ১ হাজার ১০০ রোগীর ওপর পরিচালিত দেশের বৃহত্তম এই গবেষণায় দেখা গেছে, গোড়ালি, হাঁটু, কব্জি ও হাতের অস্থিসন্ধি সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়। বহু রোগীর ক্ষেত্রে সকালে অস্থিসন্ধি শক্ত হয়ে যাওয়া ও ফোলা ভাবের লক্ষণ স্পষ্টভাবে পাওয়া গেছে। জিনগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভাইরাসের উল্লেখযোগ্য জিনগত বৈচিত্র্য শনাক্ত করা হয়েছে, যেখানে দেখা যায় এই ভেরিয়েন্ট পূর্বে পাকিস্তান, ভারত ও থাইল্যান্ডে শনাক্ত হওয়া ভেরিয়েন্টের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও চট্টগ্রামে প্রাপ্ত ভাইরাসে অর্ধশতাধিক জিনগত পরিবর্তন বা মিউটেশন বিদ্যমান রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আরও গভীর গবেষণা চলমান রয়েছে।

গবেষকরা মত দেন যে, চিকুনগুনিয়া এখন আর কেবল একটি সাময়িক জ্বরের রোগ নয়; এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি জনস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সংকটে পরিণত হয়েছে। শুধুমাত্র ডেঙ্গুকেন্দ্রিক নিয়ন্ত্রণ কৌশল দিয়ে এই রোগ মোকাবিলা সম্ভব নয় বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়।

গবেষণার নেতৃত্বদানকারী চিকিৎসকরা জানান, শুধুমাত্র ডেঙ্গুকেন্দ্রিক নিয়ন্ত্রণ কৌশল দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। চিকুনগুনিয়াকে একটি দীর্ঘমেয়াদি জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত রোগ নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপর তারা গুরুত্বারোপ করেন। 

রিসার্চ প্রজেক্টের টিম লিডার অধ্যাপক ডা. আদনান মান্নান বলেন, ভাইরাসের জিনগত বিশ্লেষণে আমরা একাধিক নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ মিউটেশন শনাক্ত করেছি, যা এই অঞ্চলে রোগের বিস্তার ও তীব্রতার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। এসব তথ্য ভবিষ্যতে চিকিৎসা ও রোগ নিয়ন্ত্রণ কৌশল নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু-চিকনগুনিয়াবাহী মশা নিয়ন্ত্রণে গবেষণা প্রয়োজন। মশা নিয়ন্ত্রণে টেকসই ও কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করতে গবেষণাভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই। নগর এলাকায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকিই নয়, এটি একটি বড় জনস্বাস্থ্য ও নগর ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ। মশার প্রজননস্থল, মৌসুমি ও জলবায়ুগত প্রভাব, নগরের অবকাঠামো এবং মানুষের আচরণ- এসব বিষয় বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ না করলে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে সফল হবে না।

তারেক মাহমুদ/এসএন

রাঙামাটিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ গ্রেপ্তার ১৬

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
রাঙামাটিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ গ্রেপ্তার ১৬
রাঙামাটি কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ ১৬ জন আসামি। ছবি: খবরের কাগজ
রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সন্ত্রাসী, দাঙ্গাবাজ এবং মাদককারবারিসহ মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
 
সোমবার (২২ জুন) রাতে রাঙামাটি কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
 
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী রয়েছেন। এছাড়া সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, দাঙ্গা সৃষ্টি ও মাদক সংশ্লিষ্ট অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
 
অভিযানে গ্রেপ্তারদের মধ্যে রাঙামাটি জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. কবির, নানিয়ারচর থানা কৃষকলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম মিজানসহ বিভিন্ন নেতাকর্মীরা রয়েছেন।
 
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পর আদালতে পাঠানো হবে। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
 
জিয়াউর রহমান/আজহার

কাপ্তাই হ্রদে নাব্যসংকটে লঞ্চ চলাচল সীমিত, ভোগান্তিতে ৫ লাখ মানুষ

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০২:১৫ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম
কাপ্তাই হ্রদে নাব্যসংকটে লঞ্চ চলাচল সীমিত, ভোগান্তিতে ৫ লাখ মানুষ
কাপ্তাই হ্রদের নাব্যতা সংকটে অচল নৌযোগাযোগ; ঘাটে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি নৌযান। ছবি: খবরের কাগজ

মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাবে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে নাব্যসংকটের কারণে জেলা সদরের সঙ্গে ছয় উপজেলার নৌপথে বড় নৌযান চলাচল সীমিত হয়ে গেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন অন্তত পাঁচ লাখ মানুষ।

স্থানীয়রা বলছেন, ১৯৬০ সালে একমাত্র কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য তৈরি হয় বহুমুখী এই কাপ্তাই হ্রদ। কিন্তু দীর্ঘ এই সময়ে একবারও খনন কিংবা সংস্কার করা হয়নি। ফলে দখল, দূষণ আর মানবসৃষ্ট বর্জ্যের সঙ্গে পলি জমে তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় কাপ্তাই হ্রদে দেখা দিয়েছে নাব্যসংকট।

এ কারণে রাঙামাটির জেলা শহরের সঙ্গে নানিয়ারচর, লংগদু, বাঘাইছড়ি, বরকল, বিলাইছড়ি ও কাপ্তাই উপজেলার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল সীমিত হয়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এই ছয় উপজেলার মানুষ।

ইঞ্জিনচালিত ছোট দেশীয় নৌকায় চড়ে আর হেঁটেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে দুর্গম উপজেলাবাসীকে। পণ্য পরিবহনে দুর্ভোগের সঙ্গে খরচও বেড়েছে কয়েকগুণ। এতে বেড়ে গেছে নিত্যপণ্যের দাম। ব্যবসা-বাণিজ্যে নেমে এসেছে স্থবিরতা। 

হ্রদে চলাচলকারী ৪২টি যাত্রীবাহী লঞ্চ ও ৩০০ ছোটবড় ইঞ্জিনবোট বন্ধ হওয়ায় নৌযান মালিকদের দৈনিক ক্ষতি হচ্ছে ১৫ লাখ টাকার বেশি। বিকল্প উপায়ে পণ্য পরিবহন ও যাতায়াতে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে বেশি টাকা ও সময়। আয় কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন পাঁচ হাজার নৌযানশ্রমিক।

কাপ্তাই হ্রদ রক্ষা ও নৌযোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত হ্রদ খননের দাবি জানিয়েছেন রাঙামাটিবাসী।

রাঙামাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তনয় কান্তি ত্রিপুরা বলেন, কাপ্তাই হ্রদ খননের দাবি দীর্ঘদিনের। তবে এরমধ্যেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৬৮৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প শেষ হলে রাঙামাটিবাসী এর সুবিধা ভোগ করবেন।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড কাপ্তাই হ্রদ খননের জন্য প্রকল্প নিয়েছে। বর্ষা মৌসুমের পরেই হয়তো কাজ শুরু হবে আশা করছি। তখন এই এ সমস্যা আর থাকবে না।

জিয়াউর রহমান/আজহার/

উখিয়ায় ৪০ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদককারবারি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:৩৮ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম
উখিয়ায় ৪০ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদককারবারি গ্রেপ্তার
ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজারের উখিয়ায় ৪০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হোয়াইক্যং বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্তবর্তী শুকুরের কাঠি গেওয়াগাছ এলাকায় অবস্থান নেয়। ভোর ৪টার দিকে মায়ানমার থেকে একজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখে বিজিবি সদস্যরা তাকে তল্লাশি করে। এ সময় ওই ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়। পরে তার কাছে থাকা একটি পোটলা তল্লাশি করে ৪০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল ইসলাম সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে অধিক দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে তা বহন করছিলেন বলে স্বীকার করেছেন।

মাদক সরবরাহকারী এবং এর সঙ্গে জড়িত চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।

তারেকুর রহমান/খাদিজা রুমি/

জামালপুরে লাগেজে মিলল যুবকের মরদেহ

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:২২ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:৩১ পিএম
জামালপুরে লাগেজে মিলল যুবকের মরদেহ
ছবি: সংগৃহীত

জামালপুরের ইসলামপুরে একটি মাছের প্রজেক্ট থেকে লাগেজের ভেতর থেকে অজ্ঞাত যুবকের (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২২ জুন) রাতে উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের বেনুয়ারচর ডেফলা সড়কের চতলাপাড়া গ্রামের একটি মাছের পুকুরের কোণায় রাখা লাগেজের ভেতর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত ১১টার দিকে মাছের প্রজেক্টের মালিক আলমাছ আলী তার মাছের প্রজেক্ট পরিদর্শনে এসে লাগেজটি দেখতে পান। লাগেজ থেকে পচা দুর্গন্ধ ছড়ালে সন্দেহ হয়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে মধ্য রাতে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ’খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করতে কাজ চলছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

আসমাউল আসিফ/খাদিজা রুমি/

মমেকে হামের উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু, নতুন ভর্তি ২৪

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:০৮ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:৩৮ পিএম
মমেকে হামের উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু, নতুন ভর্তি ২৪
আইসোলেশন ওয়ার্ড, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ। ছবি: খবরের কাগজ

হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এ নিয়ে সেখানে মোট ৫৩ জন শিশুর মৃত্যু হলো। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৪ জন শিশু ভর্তি হয়েছে এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ৯৯ জন শিশু।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম মেডিকেল টিমের ফোকাল পারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সোমবার (২২ জুন) ভোর সাড়ে চারটার দিকে কিশোরগঞ্জের নিকলি উপজেলার শহরমূল এলাকার ৪ মাস বয়সী এক শিশুকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। শিশুটি হামের উপসর্গের পাশাপাশি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিল। সোমবার রাত আড়াইটার দিকে হামের উপসর্গ, নিউমোনিয়া ও হার্ট ফেইলিউরের কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ১৭ মার্চ থেকে ২৩ জুন সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২ হাজার ৩০৩ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২১ জন শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। এ নিয়ে হাসপাতাল থেকে মোট ছাড়পত্র পেয়েছে ২ হাজার ১৫১ জন শিশু।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মুহাম্মদ মাঈন উদ্দিন খান বলেন, ‘হাসপাতালে আসা রোগীদের একটি বড় অংশই একদম শেষ মুহূর্তে, যখন পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়ে, তখন ভর্তি হচ্ছে। তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। শিশুদের জীবন বাঁচাতে চিকিৎসকেরা দিনরাত সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শিশুদের তীব্র জ্বর ও শরীরে র‍্যাশ বা গুটি দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত কাছের স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নিয়ে আসা উচিত।’

কামরুজ্জামান মিন্টু/আজহার