কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও ডিভাইসসহ ১১ জনকে আটক করেছে থানা ও ডিবি পুলিশ। পরীক্ষা শুরুর আগে দুটি আলাদা ঘটনা থেকে তাদের আটক করা হয়। এদের মধ্যে চার জন পরীক্ষার্থী। বাকিরা বদলি পরীক্ষার্থী ও জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় নাগেশ্বরী থানায় দুটি আলাদা মামলা হয়েছে।
নাগেশ্বরী থানা পুলিশ জানায়, শুক্রবার পরীক্ষা শুরুর আগের রাতে তাদের কাছে খবর আসে জালিয়াত চক্রের বিষয়টি। পরে সকালে তারা বিষয়টি নিয়ে অভিযানে নামে। পরে উপজেলা শহরের কাজীপাড়ায় বাবু ইসলামের বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে বাড়ির মালিক বাবু ইসলামসহ ছয়জনকে আটক করে। এসময় তাদের কাছে দুটি ইলেক্ট্রিক ডিভাইস, ‘প্রশ্নপত্রের’ ফটোকটি, দুটি ফাকা চেক উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় আটকরা হলেন নাগেশ্বরী পৌরসভার আরাজি কোমরপুর এলাকার আব্দুল হামিদের ছেলে বেলাল হোসেন (৩৮), রায়গঞ্জ ইউনিয়নের চরদামালগ্রাম এলাকার ময়নুল হকের ছেলে আনেয়ার হেসেন (২৮), উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও বামনডাঙা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিনারুল ইসলাম (৪০), বেরুবাড়ী ইউনিয়নের খামার নকুলা এলাকার ওয়াহেদুজ্জামানের ছেলে শাহ জামাল, নাগেশ্বরী কাজীপাড়া এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে বাবু ইসলাম (বাড়ির মালিক), পৌর এলাকার বাগডাঙা এলাকার মৃত জয়নাল আবেদীনের মেয়ে জান্নাতুন নাইম মিতু (২৬)। এদের বিরুদ্ধে থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
এছাড়াও অন্য একটি চক্র মাইক্রোবাস নিয়ে শহরে ঢুকেছে এমন খবর আসে পুলিশের কাছে। ওই চক্রে দেশের বিভন্ন জেলার প্রক্সি পরীক্ষার্থী ছিলেন। পুলিশের তৎপরতা জানতে পেরে ফিরে যাওয়ার সময় থানার সামনে কুড়িগ্রাম যাওয়ার পথে ঢাকা মেট্রো-১২৪১১০ নম্বরের একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস আটক করে থানায় নিয়ে আসে। গাড়ীতেও দুটি ডিভাইস ও তিনটি এডমিট কার্ডসহ পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ। গাড়ীটি জব্দ করা হয়েছে। মাইক্রেবাসে আসা চক্রটি এখানে কয়েকজনের হয়ে বিদলি পরীক্ষা দিতে এসেছে বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় আটকরা হলেন রামখানা ইউপির নাখারগঞ্জ এলাকার আজিজার রহমানের ছেলে আব্দুল লতিফ (৫২), ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙ্গা মোড় বোয়ালভীড় এলাকার মৃত নাজীর হোসেন সিদ্দিকীর ছেলে শরিফুজ্জামান সিদ্দিকী, মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার কাচিকাটা বাঁশখালী এলাকার আব্দুল মালেক মৃধার ছেলে হিমেল মাহমুদ, একই জেলার রাজৈর পৌরসভার টেকের হাট এলাকার ইদ্রিস মোড়লের মেয়ে চামেলী আক্তার ও ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার জাঙ্গালীয় এলাকার হারুন খানের ছেলে মাহবুব খান। এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের বাদী হয়ে মামলা করেন। বিকেলে কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি নাগেশ্বরীতে পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
এ বিষয়ে নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লা হিল জামান বলেন, আমাদের কাছে খবরটি ছিল। আমরা রাত থেকে এটা নিয়ে কাজ করেছি। সকালেই এক বাড়ি থেকে ছয়জনকে আটকরা হয়। তাদের কাছে বেশ কিছু সরঞ্জাম পাওয়া গেছে এবং আর একটি চক্রের খোজ পাওয়ার পর আমরা ডিবি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করি, তারাও একটি মাইক্রোবাসসহ ৫ জনকে আটক করেন। দুটি ঘটনায় আলাদা দুটি মামলা হয়েছে।
সিরাজ/মাহফুজ