বিপিএল শিরোপা জয়ের গৌরব নিয়ে রাজশাহীতে ফিরেছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। প্রিয় দলের এই ঐতিহাসিক সাফল্য উদযাপনে আজ সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো নগরী। ছাদখোলা বাসে শহর প্রদক্ষিণের মধ্য দিয়ে চ্যাম্পিয়ন দলকে দেওয়া হয় গণসংবর্ধনা, যা রূপ নেয় এক রাজকীয় বিজয়যাত্রায়।
সকাল সাড়ে ১০টায় বিপিএল ট্রফি হাতে রাজশাহীতে পৌঁছান রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ক্রিকেটাররা। হযরত শাহ মখদুম (র.) বিমানবন্দরে নামার পরপরই আগে থেকে প্রস্তুত থাকা ছাদখোলা বাসে ওঠেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিমসহ দলের সদস্যরা। সেখান থেকেই শুরু হয় সংবর্ধনার বহর।
পুলিশ এস্কর্টের মাধ্যমে বিমানবন্দর সড়ক ধরে রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়ক হয়ে ছাদখোলা বাসটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বাসের সামনে ছিলেন দলটির মালিক নাবিল গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তারা। পুরো পথজুড়ে হাজারো ক্রিকেটপ্রেমী মোটরসাইকেল ও পায়ে হেঁটে বহরের সঙ্গে যুক্ত হন।
সমর্থকদের হাতে ছিল ‘গর্বের রাজশাহী’, ‘চ্যাম্পিয়ন ওয়ারিয়র্স’, ‘বীরের শহর’, ‘জয় এসেছে কাপ উঠেছে’—এমন নানা স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার। ছাদখোলা বাসের সামনে শোভা পায় ব্যানার—‘কাপ আইসিছে বাড়িতে’।
বিমানবন্দর থেকে আমচত্বর, বিমানচত্বর ও রুয়েট ফ্লাইওভার অতিক্রম করে শোভাযাত্রা পৌঁছায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে। সেখানে শিক্ষার্থীরা ফুল ছিটিয়ে ক্রিকেটারদের বরণ করে নেন। অনেকেই আবেগে নিজেদের পরিহিত শার্ট, টি-শার্ট ও সোয়েটার ছুড়ে দেন খেলোয়াড়দের দিকে। ক্রিকেটাররা সেগুলোতে অটোগ্রাফ দিয়ে আবার ফিরিয়ে দেন।
মাঝে মাঝেই অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম ট্রফি উঁচু করে ধরলে উল্লাসে ফেটে পড়েন সমর্থকেরা। বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে আনন্দে শরীর দুলিয়ে বাসের ওপরেই নাচতে থাকেন ক্রিকেটাররা।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ছাড়িয়ে শোভাযাত্রা তালাইমারী, সাহেববাজার, রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল ও রাজশাহী কলেজের সামনে দিয়ে অতিক্রম করে। প্রতিটি এলাকায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ বাসটিকে ঘিরে ধরে সংবর্ধনা জানান। পরে লক্ষ্মীপুর, দড়িখড়বোনা, রেলগেট ও আমচত্বর ঘুরে পবায় নাবিল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে গিয়ে শেষ হয় বিজয় মিছিল।
শহরজুড়ে পথে পথে মানুষ হাত উঁচিয়ে অভিনন্দন জানান। অনেকেই দূর থেকেই ক্রিকেটারদের সঙ্গে সেলফি তুলে এই আনন্দঘন মুহূর্ত স্মরণীয় করে রাখেন।
সংবর্ধনা শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া উপশহরের বাসিন্দা আল আমিন বলেন, এত বছর ধরে রাজশাহীর জন্য এই দিনটার অপেক্ষা ছিল। নিজের শহরের দলকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সামনে থেকে দেখতে পারাটা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।
শাহ মখদুম থানা এলাকার কলেজছাত্র রাফি ইসলাম বলেন, রাজশাহী ওয়ারিয়র্স আমাদের গর্ব। খেলোয়াড়রা প্রমাণ করেছে, রাজশাহীর মাটিতেও চ্যাম্পিয়ন তৈরি হয়। এই জয় তরুণদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।
সাহেববাজার এলাকার গৃহবধূ রেহানা বেগম বলেন, ছেলেমেয়েদের নিয়ে এসেছি দলকে এক নজর দেখার জন্য। এমন আনন্দ রাজশাহীতে খুব কমই দেখা যায়। আজ সত্যিই উৎসবের দিন।
বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে আসা সমর্থক শাওন আহমেদ বলেন, মাঠে যেভাবে লড়াই করেছে, আজ শহরজুড়েও ঠিক সেভাবেই আমরা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। এই জয় রাজশাহীর মানুষের জয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন পর বিপিএল শিরোপা রাজশাহীতে আসায় নগরজুড়ে ছিল আলাদা এক আবেগী পরিবেশ। ক্রিকেটপ্রেমী জানান, এই জয় শুধু একটি দলের সাফল্য নয়—এটি রাজশাহীর ক্রীড়া ঐতিহ্যের নতুন এক অধ্যায়। ছাদখোলা বাসে দেওয়া এই সংবর্ধনা ও বিজয়যাত্রা দীর্ঘদিন নগরবাসীর স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।
এনায়েত/মাহফুজ