প্রায় ১৫ দিন পর আবারও ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁও।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ভোর থেকে জেলার সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় ঘন কুয়াশায় ঝাপসা হয়ে যায়। সকাল পর্যন্ত কয়েক হাত দূরের কিছুই স্পষ্ট দেখা যায়নি।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আজ শনিবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ঘন কুয়াশা ও উত্তরের হিমেল হাওয়ায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ভোরের দিকে শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও বয়ষ্করা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সড়কে যানবাহন চলাচলও ছিল ধীরগতির।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মুন্সিরহাট এলাকার বাসিন্দা ফিরোজ হাসান বলেন, “কয়েকদিন ভালোই ছিল। হঠাৎ করে আজ আবার এমন কুয়াশা পড়েছে যে কিছুই দেখা যায় না। শীতও অনেক বেশি লাগছে।”
পল্লী বিদ্যুৎ বাজার এলাকার গৃহবধূ হেলেনা বেগম বলেন, “ভোরে রান্না করতে গিয়ে খুব কষ্ট হয়েছে। কুয়াশা আর ঠান্ডায় হাত-পা জমে যাচ্ছিল। মনে হচ্ছে শীত আবার নতুন করে শুরু হয়েছে।”
রাণীশংকৈল উপজেলার বাসিন্দা জীবন হোসেন বলেন, “সকালে কাজে বের হতে দেরি হয়ে গেছে। রাস্তা দেখা যাচ্ছিল না। এমন কুয়াশা অনেক দিন পর দেখলাম।”
এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, “উত্তরের শীতল বাতাস ও বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় হঠাৎ করে ঘন কুয়াশা তৈরি হয়েছে। এ কারণে তাপমাত্রা কিছুটা কম অনুভূত হচ্ছে। আগামী এক–দুদিন সকালবেলা কুয়াশা থাকতে পারে, তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, দিনের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়লেও রাত ও ভোরের দিকে শীতের অনুভূতি বজায় থাকবে।
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়ায় ঠাকুরগাঁওয়ে শীতের আমেজ নতুন করে অনুভব করছেন জেলার মানুষ।
নবীন হাসান/অমিয়/