চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে চলমান ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে বন্দর অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।
এসময় নৌ পরিবহন উপদেষ্টা শাখাওয়াত হোসেনের পদত্যাগ দাবি করেন তারা।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় ইসহাক ডিপো টোল প্লাজা চত্বরে আয়োজিত এক সমাবেশের মাধ্যমে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এস কে খোদা তোতনের সভাপতিত্বে এবং টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন রাজনীতিবিদ ও সিপিবির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য ও টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম হোসেন খোকন ও হুমায়ুন কবির, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল বাতেন, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি সোহাগ হোসেন, মার্চেন্ট শ্রমিক নেতা ইয়াছিন রেজা রাজু, লেসিং-আনলেসিডিং শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা মো. ইকবাল, ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশ (ইনসাব) চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি বাবুল হোসেন আনিস এবং বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রহিম প্রমুখ।
সমাবেশ থেকে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা বন্দরে কর্মবিরতি কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানানো হয়।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ গণবদলির মাধ্যমে শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যায়সংগত আন্দোলন দমন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা বলেন, বদলি করে আন্দোলন দমন করা যাবে না। অবিলম্বে শ্রমিকনেতাদের বদলি আদেশ প্রত্যাহার এবং এনসিটি ইজারা চুক্তির প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশে নেতারা বলেন, দীর্ঘ সাত মাস ধরে ধারাবাহিক আন্দোলনের মাধ্যমে এনসিটি ইজারা না দেওয়ার যৌক্তিকতা বারবার তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার এবং বন্দর কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কর্ণপাত না করায় শ্রমিক-কর্মচারীরা কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন। সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ না নিয়ে বরং দমন-পীড়ন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
তারা আরও অভিযোগ করেন, বদলিকৃত শ্রমিকদের আইডি ডিঅ্যাক্টিভেট করে দেওয়া হয়েছে। অবিলম্বে গণবদলি বন্ধ এবং ডিঅ্যাক্টিভেট করা সব আইডি পুনরায় অ্যাক্টিভ করার দাবি জানান নেতারা।
সমাবেশ থেকে বন্দরের কথিত দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বন্দর চেয়ারম্যান ও বিডা চেয়ারম্যানকে অবিলম্বে চাকরি থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি বন্দর সমস্যার সমাধানে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শাখাওয়াত হোসেনের পদত্যাগও দাবি করেন বক্তারা।
#তারেক মাহমুদ/এসএন