রমজান শুরুর আগেই বাজারে এর আগাম প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বাড়ছে কাঁচামালসহ অন্যান্য পণ্যের দাম। আলু ছাড়া প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা। তবে সবচেয়ে বেশি ঝাঁজ দেখাচ্ছে লেবু, যার হালিপ্রতি দাম উঠে গেছে ১৬০ টাকায়।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) পৌর শহরের সড়কবাজারসহ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারে ঢুকতেই ক্রেতাদের মুখে বিস্ময়, কপালে চিন্তার ভাঁজ।
সড়কবাজারে বাজার করতে আসা শফিক মিয়া বলেন, “লেবুর দাম শুনে চোখ ছানাবড়া হয়ে গেছে। এক হালির দাম ১৬০ টাকা! সবজি কিনলেও লেবু আর কেনা হয়নি।”
আরেক ক্রেতা আসাদ বলেন, “এই দামে মনে হয় ইফতার আর সাহরিতে লেবু রাখা যাবে না।”
আমিনুল ইসলাম জানান, “আমরা সাধারণত লেবুর শরবত দিয়েই ইফতার শুরু করি। কিন্তু এখন এক হালি না কিনে ৮০ টাকা দিয়ে মাত্র দুইটা লেবু কিনেছি।”
খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরবরাহ কম থাকায় গত কয়েক দিন ধরেই লেবুর দাম চড়া। পাইকারি বাজারেই প্রকারভেদে লেবু কিনতে হচ্ছে প্রতি হালি ৯০ থেকে ১৪০ টাকায়। ফলে খুচরায় দাম আরও বেড়ে যাচ্ছে। এতে ক্রেতা-বিক্রেতা-কেউই স্বস্তিতে নেই।
সড়কবাজারের খুচরা বিক্রেতা হাসান বলেন, “দেশি জাতের সিলেটি লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়, আর এলাচজাতের লেবু ১০০ টাকায়। রমজানের জন্য নয়, বছরের এই সময়টায় সরবরাহ কম থাকায় প্রায় প্রতি বছরই লেবুর দাম বেশি থাকে।”
কাঁচামাল আড়ৎদার রাজু সাহা জানান, আখাউড়ার বাজারে বেশির ভাগ সবজি আসে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, ঢাকার কারওয়ান বাজার ও কুমিল্লার নিমসার থেকে। পাশাপাশি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকেও লেবুসহ কিছু শাকসবজি আসে। “বৃষ্টি না হওয়ায় সেখানে লেবুর উৎপাদন কম হয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে খুচরাবাজারে। সামনে কয়েক দিন দাম আরও বাড়তে পারে, এরপর ধীরে ধীরে কমবে,” বলেন তিনি।
এ বিষয়ে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়া বলেন, “রমজানকে সামনে রেখে বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত মনিটরিং ও অভিযান চালানো হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দোকানের সামনে মূল্যতালিকা টানিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
রমজানের আগে বাজারের এই বাড়তি ঝাঁজে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের হিসাব যেন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
জুটন বনিক/নাঈম