ঠাকুরগাঁর পীরগঞ্জ উপজেলা এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে গরম ভাতের মাড়ে মুখ চেপে ধরার ঘটনায় নার্গিস আক্তার (২৪) নামে এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন।
বর্তমানে তিনি দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে ১ নং ইউনিটের এক নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত তিন দিন ধরে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
জানা গেছে, উপজেলার পটুয়া গ্রামের বাসিন্দা শাহজাহান আলীর সঙ্গে চার বছর আগে পারিবারিকভাবে নার্গিসের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক বছর বয়সী একটি ছেলে ও দুই বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে রান্নার সময় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শাহজাহান আলী উত্তেজিত হয়ে নার্গিসের মুখ গরম ভাতের মাড়ের পাত্রে চেপে ধরেন। এতে তার মুখমণ্ডল মারাত্মকভাবে ঝলসে যায়। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেন। অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান।
হাসপাতালের বেডে শুয়ে নার্গিস আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, 'আমাদের সংসারের শুরুতে সম্পর্ক ভালোই ছিল। কিন্তু কিছুদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অশান্তি লেগেই থাকত। আমি এমন নির্যাতনের শিকার হব, কখনও ভাবিনি। আমার দুইটা ছোট সন্তান- ওদের মুখের দিকে তাকিয়ে আমি বাঁচতে চাই।
এদিকে শাহজাহানের বড় ভাই দাবি করেন, দাম্পত্য কলহের পেছনে পরকীয়ার বিষয় থাকতে পারে। তার ভাষ্য, শাহজাহান এক সময় অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং গোপনে বিয়েও করেছিলেন। পরে পারিবারিক চাপে সেই সম্পর্ক ছিন্ন করতে হলেও তিনি মানসিকভাবে বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। এর জের ধরেই এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।
হাসপাতালে নার্গিসের শ্বশুরবাড়ির কয়েকজন সদস্য উপস্থিত থাকলেও অভিযুক্ত স্বামী এখনো দেখতে আসেননি বলে অভিযোগ পরিবারের।
ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান, চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। বেশ কিছু ওষুধ কেনার অর্থ জোগাড় করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে পরিবারটি এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ডাক্তার রবিউল ইসলাম বলেন, গৃহবধূর মুখমণ্ডল ঝলসে গেছে। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে পুরোপুরি সুস্থ হতে বেশ কিছুদিন সময় লাগবে।
সুলতান মাহমুদ/সুমন