ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সংঘাত নয়, হোক সম্প্রীতির উদযাপন কানসাসের দাবদাহে ‘কুলিং ভেস্টে’ অনুশীলন আর্জেন্টিনার চীনের ছাংছুনে অপটিক্স ও সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির বিপ্লব বাংলাদেশের বাজারে এল টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো খোকসায় ২০ বছর ধরে অচল কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র, ভোগান্তিতে কৃষক-খামারি কেইনই ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সেরা স্ট্রাইকার: লিনেকার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পুশইন, সংলাপের পরামর্শ জাতিসংঘের এবি ব্যাংক পিএলসির ৪৪তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত কৃষিকাজে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র নতুন অ্যান্ড্রয়েড ১৭ সংস্করণে গুগলের বড় চমক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদান রাখায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সনদ পেল মার্কেন্টাইল ব্যাংক এবি ব্যাংক পিএলসির ৪৪তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত ডিজিটাল পরিসরে নারীর নিরাপত্তা ও সহিংসতার স্বরূপ রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যা! একটি জাতির অবক্ষয়ের নির্মম চিত্র! ঝিনাইদহে ৩ দিনব্যাপী ফল মেলা শুরু ওয়াশিংটন-তেহরান শান্তিচুক্তি ও বৈশ্বিক বাস্তবতা এবারের স্বপ্নবিলাসী বাজেট বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে: সংসদে আইনমন্ত্রী কাঁঠালকে কেন্দ্র করে বিরোধ, ছেলের মারধরে বাবার মৃত্যু সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন সক্ষমতার ওপর যাত্রাবাড়ীতে অবৈধ দখল উচ্ছেদে; মামলা ও জরিমানা মদ ভেবে বিষপানে পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু ফেঞ্চুগঞ্জে হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ২ জন নিহত, নিখোঁজ ১ ‘বাড়তি জেদ’ নিয়ে খেলছেন বেলিংহ্যাম কসবায় বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি জামায়াতের সংসদ সদস্যকে মাইক্রোওভেন দিতে চাইলেন পার্থ রায়পুরায় সংঘর্ষ: পুলিশের ভেস্ট পরিহিত মরদেহ ভেসে উঠল নদীতে,  নিহত বেড়ে ৪ মাথা ঝুঁকানোর দরকার নেই, নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী চেয়ারের প্রতি সম্মান জানাবেন: স্পিকার বিকাশে পেমেন্ট করে সপ্তাহে ৫০ গ্রাহক পাচ্ছেন টিভি, স্মার্টফোন জেতার সুযোগ বাংলাদেশের বেসরকারি সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১টি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র আধুনিক যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেনাবাহিনীকে আরও যুগোপযোগী করা হবে: সেনাপ্রধান
Nagad desktop

সোনারগাঁয় অভিযানেও বন্ধ করা যাচ্ছে না অবৈধ চুনা ও ঢালাই কারখানা

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
সোনারগাঁয় অভিযানেও বন্ধ করা যাচ্ছে না অবৈধ চুনা ও ঢালাই কারখানা
সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা চুনা কারখানা। ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে তিতাস কর্তৃপক্ষের অভিযানেও বন্ধ করা যাচ্ছে না অবৈধভাবে গড়ে ওঠা চুনা ও ঢালাই কারখানা। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ২০টিরও অধিক চুনা ও ঢালাই কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে। সরকারি গ্যাস লাইন থেকে অবৈধভাবে সংযোগ টেনে এসব কারখানা চালানো হলেও সেই গ্যাসের বিনিময়ে প্রতি মাসে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। তবে এ চক্রের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন বিএনপির কিছু অসাধু নেতা-কর্মী। 

তিতাস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার এসব কারখানায় প্রতি মাসে প্রায় ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩০০ ঘনফুট গ্যাস ব্যবহার করছে। বর্তমান বাজারমূল্যে যার আর্থিক ক্ষতি মাসে প্রায় ১ কোটি টাকা ওপরে। অথচ তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি এ বিপুল পরিমাণ গ্যাসের কোনো বিল পাচ্ছে না। ফলে মোটা অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

অভিযোগ উঠেছে, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উপজেলার পিরোজপুর, মোগরাপাড়া ও পৌর এলাকায় এসব অবৈধ চুনা ও ঢালাই কারখানার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। প্রশাসনকে অনেকটা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দাপটের সঙ্গে এসব অবৈধ কারখানা চালিয়ে যাচ্ছে চক্রটি। এসব চুনা ও ঢালাই কারখানায় অধিক মুনাফার কারণে রাতারাতি এ ব্যবসায় ঝুঁকছে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা। তিতাস কর্তৃপক্ষ কিছুদিন পরপর দায়সারা অভিযান পরিচালনা করলেও অভিযানের সপ্তাহ না ঘুরতেই পুনরায় চালু করা হচ্ছে এসব কারখানা। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নতুন কারখানা।

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী সরাসরি এ অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। 

তারা চুনা ও ঢালাই কারখানা পরিচালনার জন্য সরকারি গ্যাস লাইন থেকে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ টেনে এসব চুনা ও ঢালাই কারখানাগুলো চালাচ্ছেন। উপজেলার পৌর এলাকার দত্তপাড়া গ্রামে পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন একটি চুনা কারখানা অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে চালাচ্ছেন। তার পাশেই পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী নাদিম একটি মামলাধীন জমিতে জোর করে চুনা কারখানা তৈরি করেছেন। এ কারখানা দুটিতে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছে। কারখানা দুটি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেনের বাড়ির সামনে হলেও তিনি এ অবৈধ কারখানা বন্ধে কোনো ভূমিকা রাখেননি। ফলে তিনি নিজেই এ অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া এ কারখানা দুটি সোনারগাঁ থানা থেকে মাত্র কয়েক শ’ গজ দূরে। তবু প্রশাসনও এ ব্যাপারে নির্বিকার।

সোনারগাঁ পৌরসভার দৈলেরবাগ এলাকায় পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শাহজাহান মেম্বারও একটি অবৈধ চুনা কারখানা পরিচালনা করছেন। আদমপুর এলাকায় বিএনপি নেতা জসিম একটি চুনা কারখানা চালাচ্ছেন। এছাড়া পৌরসভার দুলালপুর, লাহাপাড়া ও দীঘিরপাড়েও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এ অবৈধ চুনা কারখানা চালানো হচ্ছে।

পিরোজপুর ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রামে ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি শফিউল আলম বাচ্চু ও তার ভাই নেয়ামত উল্লাহর নেতৃত্বে তিনটি অবৈধ ঢালাই কারখানা চলছে। এ কারখানাগুলোয় ব্যবহার করা হচ্ছে অবৈধ গ্যাস। 

এছাড়া বিএনপি হারুন অর রশিদ, আবুল কাশেম মাস্টার, নোয়াব প্রধান, মতিউর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের স্থানীয় নেতা ও কর্মীরা ওই ইউনিয়নের ঝাউচর, আষাঢ়িয়ারচর, ইসলামপুর ও পিরোজপুর একাধিক চুনা কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে। উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের সোনাখালী, দমদমা, বন্দেরা ও ইছুফগঞ্জ এলাকায়ও এ ধরনের কারখানা গড়ে উঠেছে। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শ্রমিক জানান, প্রতি সপ্তাহে একবার চুনা নামানো হয়। মাঝামাঝি সময়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। ফলে তাদের তেমন কোনো ক্ষতি হয় না। তা ছাড়া অভিযানের আগে তারা জানতে পেরে পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে থাকে। কিছু অসাধু কর্মচারী তাদের কাছ থেকে মাসোহারা নিয়ে থাকে বলেও দাবি করেন তিনি।

গ্রামবাসী জানান, চুনা ও ঢালাই কারখানা গুলো ২৪ ঘণ্টা সচল থাকায় বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ কমে যাচ্ছে। তা ছাড়া কারখানার গ্যাসের উত্তাপ পাশের বসতবাড়িগুলোয় ছড়িয়ে পড়ছে। এতে করে তাদের আতঙ্কে থাকতে হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ্ আল আরেফীন বলেন, আবাসিক এলাকায় এ ধরনের কারখানা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে ফায়ার লাইসেন্স দিই না।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সোনারগাঁ অঞ্চলের ডিজিএম মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন জানান, আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে কারখানাগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়াসহ মামলা করেও রোধ করতে পারছি না। 

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান জানান, বিএনপির নেতা-কর্মীদের অবৈধ চুনা কারখানার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি। এছাড়া তিতাস কর্তৃপক্ষকে অবৈধ চুনা কারখানা উচ্ছেদে তৎপর থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

খোকসায় ২০ বছর ধরে অচল কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র, ভোগান্তিতে কৃষক-খামারি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম
খোকসায় ২০ বছর ধরে অচল কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র, ভোগান্তিতে কৃষক-খামারি
খোকসা জয়ন্তী হাজরা  ইউনিয়নে দুইযুগ  ধরে বন্ধ  পরিত্যক্ত কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র। ছবি: খবরের কাগজ

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় প্রায় দুই যুগ ধরে বন্ধ রয়েছে ইউনিয়ন পর্যা‌য়ে স্থায়ীভা‌বে নি‌র্মিত দুইটি কৃ‌ত্রিম প্রজনন কেন্দ্র।

অবহেলা আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কেন্দ্রগুলোর ভবন এখন পরিণত হয়েছে পরিত্যক্ত স্থাপনায়।

কোথাও জন্ম নিয়েছে ভুতুড়ে পরিবেশ, কোথাও পোকামাকড়। ঝোপঝাড়ের দখলে চলে গেছে সরকারি স্থাপনা।

ফলে প্রত্যাশিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার কৃষক ও খামারিরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,২০০০ সালে প্রকল্পের আওতায় খোকসা উপজেলায় প্রাণিসম্পদ দপ্ত‌রের অধী‌নে নয়টি ইউনিয়নে কৃ‌ত্রিম প্রজনন কেন্দ্র চালু করা হয়। এর মধ্যে জয়ন্তী হাজরা ও আমবাড়িয়া ইউনিয়নে স্থায়ীকেন্দ্র এবং বাকি সাতটি ইউনিয়নে অস্থায়ী কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। যারা মাঠপর্যায়ে কৃত্রিম প্রজননসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন।

কিন্তু কয়েক বছর যেতে না যেতেই স্থায়ী দুইটি কেন্দ্রের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।  বর্তমানে স্থাপনাগু‌লো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের অভিযোগ, ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি সেবা না থাকায় তাঁরা পল্লী প্রজননকর্মীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। আবার ইউনিয়ন পর্যা‌য়ে উপ‌জেলা প্রা‌ণি সম্পদ থে‌কে যা‌দের দা‌য়িত্ব দেওয়া হ‌য়ে‌ছে তাঁ‌দের থেকেও প্রয়োজনীয় সেবা সবসময় পাওয়া যায় না। এ সুযোগে প্রজননকর্মীদের বিরু‌দ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

শিমুলিয়া এলাকার কয়েকজন খামারি জানান, সরকারি নির্ধারিত খরচের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী কৃত্রিম প্রজননের ক্ষেত্রে যাতায়াত ভাতা, স্ট্রো (হিমায়িত সিমেন) ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৩১৫ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, খোকসা উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার ২১০টি গাভী রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ গাভীর প্রজনন কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতিতে এবং বাকি ১০ শতাংশ ষাঁড়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় পশুপালক শাহজাহান আলী বলেন, “ইউনিয়ন পর্যায়ের কেন্দ্রগুলোতে কোনোদিন ডাক্তার আসতে দেখি না। প্রয়োজনের সময় সেবা পাওয়া যায় না। ফলে আমরা চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছি।”

জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম খান বলেন,“সরকারি জমির ওপর নির্মিত এই কেন্দ্রটি বছরের পর বছর বন্ধ পড়ে আছে। বর্তমানে জমিটির মূল্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। দ্রুত দখলমুক্ত করে কেন্দ্রটি পুনরায় চালু করা উচিত।”

খামারি জাহাঙ্গীর আল‌মের অভিযোগ, “সরকারি কোনো সহযোগিতা আমরা ঠিকমতো পাই না। প্রাণিসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করলেও অনেক সময় প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন মেলে না। বাধ্য হয়ে বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে কিনতে হয়।”

সা‌র্বিক বিষ‌য়ে জান‌তে চাইলে খোকসা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সোহেল রানা বলেন,“ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থায়ী দুটি কেন্দ্র রয়েছে—এ বিষয়টি আমি সম্প্রতি জানতে পেরেছি। স্থান প‌রিদর্শনও ক‌রে‌ছি। আমাদের অফিসে এ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র নেই। তবে মাঠপর্যায়ে প্রজননকর্মীরা বা‌ড়ি‌তে গি‌য়ে সেবা দিয়ে থাকেন।”

এ বিষ‌য়ে খোকসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন  বলেন,“আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানি না। তবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

রঞ্জন ভৌমিক/এসএন

ঝিনাইদহে ৩ দিনব্যাপী ফল মেলা শুরু

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম
ঝিনাইদহে ৩ দিনব্যাপী ফল মেলা শুরু
ছবি: সংগৃহীত

‘করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস’ এ শ্লোগানে ঝিনাইদহে শুরু হয়েছে ৩ দিনব্যাপী ফল মেলা।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর-এ নবীসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ মেলায় ৫টি স্টল প্রদর্শন করা হয়েছে। মেলায় প্রায় অর্ধশত প্রকার দেশীয় ফল ও ফল আবাদের উন্নত প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়েছে।

আগামী ২০ জুন শেষ হবে এ মেলা। দেশীয় ফলের উৎপাদন ও ভোক্তা সচেতনতা বাড়াতে এ ধরণের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন আয়োজকরা।

মাহফুজুর রহমান/এসএন

কাঁঠালকে কেন্দ্র করে বিরোধ, ছেলের মারধরে বাবার মৃত্যু

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:১২ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
কাঁঠালকে কেন্দ্র করে বিরোধ, ছেলের মারধরে বাবার মৃত্যু
নিহত আব্দুর রাজ্জাক। ছবি: সংগৃহীত

গাছের পাকা কাঁঠালকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির জেরে ছেলের কিল-ঘুষিতে এক বৃদ্ধ বাবা নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

 বুধবার (১৭ জুন) কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের চৌধুরীহাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী শাহেদা বেগম বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় ছেলে আলম (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী রেখার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

নিহত আব্দুর রাজ্জাক (৭০) সদর উপজেলার বড় খাপন গ্রামের বাসিন্দা। তবে কয়েক বছর আগে তিনি চৌধুরীহাটি গ্রামে একটি বাড়ি কিনে সেখানে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আলম ও তার স্ত্রী রেখা বেগম পলাতক রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে গাছ থেকে পেড়ে আনা পাকা কাঁঠাল বাবা-মাকে না দেওয়াকে কেন্দ্র আব্দুর রাজ্জাক ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী শাহেদা বেগমের বড় ছেলে মো. আলম ও পুত্রবধূ রেখার মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে আলম তাঁর বাবাকে কিল-ঘুষি মারেন। এতে আব্দুর রাজ্জাক গুরুতর অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের স্ত্রী শাহেদা বেগমের অভিযোগ, তার ছেলে আলমের আক্রমণের কারণেই আব্দুর রাজ্জাকের মৃত্যু হয়েছে। কিল-ঘুষি মারতে মারতে আব্দুর রাজ্জাকের গলাচেপে ধরে আলম। এতে আব্দুর রাজ্জাক গুরুতর অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহতের স্বজনেরা জানায়, আব্দুর রাজ্জাকের দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে দুই ছেলে রয়েছে। বড় ছেলে আলম বিবাহিত এবং দুই কন্যাসন্তানের জনক। তার বড় মেয়ের বয়স প্রায় ১৫ বছর এবং ছোট মেয়ের বয়স ৭ বছর। ছোট ছেলে জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত রয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা বলেন, এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আলম ও তার স্ত্রী রেখার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে।আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তাসলিমা আক্তার মিতু/এসএন

যাত্রাবাড়ীতে অবৈধ দখল উচ্ছেদে; মামলা ও জরিমানা

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম
যাত্রাবাড়ীতে অবৈধ দখল উচ্ছেদে; মামলা ও জরিমানা
ছবি: খবরের কাগজ

জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এবং ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখতে যাত্রাবাড়ী এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সংস্থাটির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ফ্লাইওভারের ইনকামিং অংশ থেকে শুরু করে যাত্রাবাড়ী হয়ে কাজলা পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশের ফুটপাত ও রাস্তার ওপর গড়ে ওঠা সকল অবৈধ স্থাপনা -দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়।

অভিযান চলাকালে অবৈধভাবে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনার দায়ে ৫টি মামলা দায়ের করা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে মোট ১৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এ সময় ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

রাজু/আমান

মদ ভেবে বিষপানে পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম
মদ ভেবে বিষপানে পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু
রিংকন বড়ুয়া। ছবি: সংগৃহীত

মদ ভেবে বিষপান করে রাঙামাটির রাজস্থলীর এক পোশাকশ্রমিকের চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। মৃত ওই যুবকের নাম রিংকন বড়ুয়া (২৬)। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে তিনি মারা যান।

বুধবার (১৭ জুন) রাতে বাড়ওতে রাখা মদের  বোতল ভেবে জমিতে ঘাস নিধনের বোতলের ওষুধ খেয়ে ফেলায় তিনি বিষক্রিয়া আক্রান্ত হন । 

রিংকন বড়ুয়া রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ব্রংদং পাড়া ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মিলন বড়ুয়ার ছেলে। তিনি চট্টগ্রামের একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

স্হানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) শিমুল দাশ বলেন, রিংকন বড়ুয়া বুধবার রাতে বাড়িতে রাখা মদের বোতল ভেবে জমিতে ঘাস নিধনের ওষুধ সেবন করে ফেলেন। কিন্তু তাৎক্ষণিক বুঝতে পেরে মুখ থেকে সেই বিষ ফেলে দিলেও কিছুটা তার পেটে চলে যায়। এতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজন ও প্রতিবেশিরা তাকে তাৎক্ষণিক নিকটবর্তী চন্দ্রঘোনা খ্রিস্টিয়ান মিশন হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে বৃহস্পতিবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিংকন বড়ুয়া মারা যান। 

বিষয়টি নিয়ে চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকের হোসেন বলেন, 'রিংকন বড়ুয়ার মরদেহ চট্টগ্রাম সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে। নিজ বাড়িতে নিয়ে এসে ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী দাহক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছে তার পরিবার। এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হবে।

জিয়াউর রহমান জুয়েল/এসএন