ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
অগ্ন্যুৎপাতে বইছে আগুনের স্রোত, ভাইরাল ভিডিও স্নায়ুচাপ কাটিয়ে জয়ে চোখ মেক্সিকো কোচের গাজীপুরে পোশাক কারখানায় পানি পান করে অসুস্থ ২ শতাধিক শ্রমিক ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ১২০ মোড়ে বসছে এআই ক্যামেরা বিধিনিষেধ আরোপ সময়ের দাবি রাঙামাটির বরকল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে রসুন ও সার জব্দ নড়াইলে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গণপিটুনি মেসিকে ছাড়িয়ে গেলেন হ্যারি কেইন রিজার্ভ চুরিতে জড়িত ৬৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশের ১০ জন কানাডায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু সীমানা পুনর্নির্ধারণের জন্য এনডিএর আর ৬ ভোট লাগবে টুকটুক ও চিকু পাঠ থেকে ৩টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর , ৩য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক শিশু নিহত চট্টগ্রামের নিখোঁজের ২ দিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার টিভিতে আজকের খেলা দ্বিতীয় ম্যাচের আগে ‘মুখ বন্ধ রাখতে’ বললেন দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ যেভাবে নির্ধারিত হবে সেরা ৮ ‘তৃতীয় দল’ কুড়িগ্রামে ট্রাক উল্টে রেলপথে, ভোগান্তিতে ট্রেনের যাত্রীরা বিশ্বকাপে হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে দর্শকদের দুয়োধ্বনি হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৫৮ হাজার ৬৩৯ জন বাংলাদেশি জি৭ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমিই বস’ লৌহজংয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা আদিতমারীতে শিশু নন্দিনী হত্যার দায় স্বীকার পাওনা টাকার বিরোধেই খুন হন আরিফ আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম ইরানের সঙ্গে চুক্তির ১৪ দফা প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র আলফাডাঙ্গায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১ জনের মৃত্যু, আহত ৩ নতুন দায়িত্বে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ চট্টগ্রামের অপহরণকারীদের হুমকিমূলক চিরকুট,নিখোঁজ শিশু উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে কলম্বিয়ার শুভ সূচনা
Nagad desktop

চট্টগ্রামে খরায় পুড়ছে চা-বাগান, বিকল্প সেচে গাছ বাঁচানোর চেষ্টা

প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম
আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬, ১০:০৯ এএম
চট্টগ্রামে খরায় পুড়ছে চা-বাগান, বিকল্প সেচে গাছ বাঁচানোর চেষ্টা
চট্টগ্রামে বৃষ্টির অভাবে চাগাছ শুকিয়ে যাওয়ায় পানি দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। হালদাভ্যালি চাবাগান থেকে তোলা। ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামে দীর্ঘস্থায়ী খরার প্রভাবে চা-বাগানের গাছ শুকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির ঘাটতি ও তীব্র তাপপ্রবাহে নতুন রোপণ করা চাগাছ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প সেচব্যবস্থার মাধ্যমে চারা গাছ বাঁচানোর চেষ্টা চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টির দেখা নেই। জেলার ২২টি চা-বাগান রক্ষায় হিমশিম খেতে হচ্ছে মালিকপক্ষকে। কোথাও পাইপ দিয়ে কৃত্রিম সেচ, আবার কোথাও কলসি দিয়ে সনাতনী পদ্ধতিতে পানি দেওয়া হচ্ছে। তবে বিশাল বাগানের তুলনায় এই সেচব্যবস্থা খুবই অপ্রতুল।

জানা গেছে, চাশিল্প মূলত বৃষ্টিনির্ভর হওয়ায় এই খরা পরিস্থিতি উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। প্রতিবছর এ সময় চট্টগ্রামে চা-পাতা সংগ্রহ শুরু হলেও এবার এখনো কাঁচা পাতা সংগ্রহ শুরু করতে পারেননি শ্রমিকরা।

চা-বাগান সংশ্লিষ্টরা জানান, গত কয়েক মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টিপাত অনেক কম হওয়ায় মাটির আর্দ্রতা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। এতে নতুন চারাগাছের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে গাছ শুকিয়ে যাচ্ছে।

চা-বাগানের মালিকরা বলছেন, প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে বৃষ্টি হয়। কোনো বছর ফেব্রুয়ারিতে বৃষ্টির দেখা না মিললেও মার্চে বৃষ্টির দেখা পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে মার্চের প্রথম সপ্তাহে অথবা মাঝামাঝি বা শেষ সপ্তাহে মুষলধারে বৃষ্টি হয়। এতে চাগাছগুলো সবুজ পাতা মেলতে শুরু করে।

পর্যায়ক্রমে কুঁড়ি সংগ্রহ করে চা উৎপাদনে যায় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। উৎপাদন দূরে থাক গাছ রক্ষায় ব্যস্ত শ্রমিকরা। 

এ অবস্থায় বাগান কর্তৃপক্ষ বিকল্প সেচব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে। কোথাও ড্রিপ ইরিগেশন, কোথাও স্প্রিংকলার (বৃষ্টির মতো পানি ছিটানো) ব্যবহার করে সীমিত পানিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি বর্ষার পানি সংরক্ষণের জন্য জলাধার তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, দেশে মোট ১৬৯টি চা-বাগান রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলে রয়েছে ২২টি। আর চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় আছে ১৮টি। বৃহস্পতিবার ফটিকছড়ির হালদাভ্যালি চা-বাগানে গিয়ে দেখা যায়, কৃত্রিম বৃষ্টির মতো সেচ দেওয়া হচ্ছে চা-বাগানে। বাগানে প্রবেশ করে একটু এগিয়ে গেলে চোখে পড়ে সবুজ বাগানে মাঝে মাঝে চাগাছ মরে গেছে। কোথায় কোথায় শুকনো গাছ থেকে মরা পাতা ঝরে গেছে। 

একইভাবে ভূজপুর এলাকায় চৌধুরী চা-বাগানেও দেখা যায় সবুজ চারা মরে শুকিয়ে যাচ্ছে। বিকল্প সেচ দিয়ে চারা গাছকে বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন শ্রমিকরা। কলসিতে করে গাছে গোড়ায় পানি ঢালতে দেখা যায়। 

চৌধুরী চা-বাগানের ম্যানেজার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘খরার কারণে চারাগাছ মরে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কৃত্রিমভাবে বৃষ্টির মতো পানি দেওয়া হচ্ছে, তবে এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সব গাছ বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না।’

বারমাসিয়া চা-বাগানের ব্যবস্থাপক কাজী এরফানুল হক জানান, বর্ষায় সংরক্ষিত পানির ওপর নির্ভর করেই শুষ্ক মৌসুমে সেচ দেওয়া হয়। কিন্তু এ বছর জলাধারগুলোও শুকিয়ে গেছে।

রাঙাপানি চা-বাগানের ব্যবস্থাপক উৎপল বড়ুয়া বলেন, ‘প্রতিবছর ফেব্রুয়ারিতে বৃষ্টি হয়। এখন মার্চ শেষের দিকে, তবুও বৃষ্টি নেই। কলসিতে করে পানি দিতে হচ্ছে। গাছ বাঁচানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।’

চট্টগ্রামের হালদাভ্যালি চা-বাগানের মালিক নাদের খান বলেন, ‘চাশিল্প টিকিয়ে রাখতে হলে শতভাগ সেচব্যবস্থার বিকল্প নেই। তবে এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এ ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। আমাদের বাগানে এ ব্যয়বহুল ব্যবস্থা রেখেও বৃষ্টির অভাবে গাছ মরছে। আসলে বৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই। এই সময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টি পাওয়া হচ্ছে বাগানের জন্য আশীর্বাদ।’

গাজীপুরে পোশাক কারখানায় পানি পান করে অসুস্থ ২ শতাধিক শ্রমিক

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০১:০০ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০১:০৫ পিএম
গাজীপুরে পোশাক কারখানায় পানি পান করে অসুস্থ ২ শতাধিক শ্রমিক
ছবি: খবরের কাগজ

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় পানি পান করে দুই শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় অবস্থিত ড্রেসম্যান গার্মেন্টস লিমিটেডে এ ঘটনা ঘটে।

শ্রমিকরা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে কারখানায় আসেন শ্রমিকরা। কাজ শুরুর কিছুক্ষণ পর তারা কারখানার পানি পান করেন। এর কিছুক্ষণ পর কারখানার চতুর্থ তলায় কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। অনেকেই মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়া, বমিসহ নানা রকম অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। ধীরে ধীরে কারখানার অন্যান্য ফ্লোরের শ্রমিকরাও অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী শ্রমিক।

কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাদিয়া তাসনিম মুনমুন জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় বহু শ্রমিককে হাসপাতালে আনা হয়েছে। একের পর এক রোগী আসছেন। আমরা যথাক্রমে তাদের চিকিৎসা দিচ্ছি।

ওই কারখানার অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আমাদের কারখার একজন মেয়ে শ্রমিক বমি করে। পরে সঙ্গে আমাদের হাসপাতালে ভর্তি করি। সাড়ে ৯টার দিকে আরও ৫-৬ জন অসুস্থ হয়ে যায়। পরে আমরা কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে আমরা কারখানা ছুটি দিয়েছি। তবে আমাদের কারখানার যে পানি সেটিতে কোনো সমস্যা নেই।’

পলাশ প্রধান/খাদিজা রুমি/

রাঙামাটির বরকল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে রসুন ও সার জব্দ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম
রাঙামাটির বরকল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে রসুন ও সার জব্দ
ছবি: খবরের কাগজ

রাঙামাটির বরকল সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের সময় ১৮ বস্তা রসুন ও ৯ বস্তা সার জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে পাচারকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা যায়নি। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য জব্দ করা হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, অবৈধভাবে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে মালামালগুলো সীমান্তের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এ সময় পণ্যগুলো জব্দ করা হয়।

বিজিবি জানায়, জব্দ ১৮ বস্তা রসুন ও ৯ বস্তা সার আইনি প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের করা হবে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও পাচার রোধে বিজিবির নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জুয়েল/থিওটোনিয়াস

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক শিশু নিহত

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক শিশু নিহত
ছবি: প্রতীকী ছবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মো. জুনায়েদ (৪) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নতুন হাট গুমপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত জুনায়েদ ওই এলাকার মো. আব্দুল কাদেরের ছেলে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন জানান, সকালে জুনায়েদ বাড়ির পাশে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেল তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে সে গুরুতর আহত হয়। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি আরও জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

মো. আসাদুল্লাহ/আজহার/

কুড়িগ্রামে ট্রাক উল্টে রেলপথে, ভোগান্তিতে ট্রেনের যাত্রীরা

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:১৭ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:২৬ এএম
কুড়িগ্রামে ট্রাক উল্টে রেলপথে, ভোগান্তিতে ট্রেনের যাত্রীরা
ছবি: খবরের কাগজ

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে বালুভর্তি একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেললাইনে উল্টে পড়ায় কুড়িগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ সাময়িক বন্ধ রয়েছে। এতে ঢাকাগামী কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের শত শত যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। একই সঙ্গে রাজারহাট-তিস্তা সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

বৃহস্পতিবার (১৮ মে) সকাল ৭টা ১০ মিনিটের দিকে রাজারহাট উপজেলার পেট্রলপাম্প-সংলগ্ন এলাকায় ট্রাক উল্টে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বালুভর্তি ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেললাইনের ওপর উল্টে পড়ে। এতে রেলপথ অবরুদ্ধ হয়ে যায়। দুর্ঘটনার কারণে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস কুড়িগ্রাম স্টেশনে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে নির্ধারিত সময়ে স্টেশনে এসে বিপাকে পড়েন ঢাকাগামী যাত্রীরা। এছাড়াও ওই রেলপথ সংলগ্ন রাজারহাট-তিস্তা সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে উলিপুর, রাজারহাট ও কুড়িগ্রাম থেকে সড়কপথে ঢাকা, রংপুরগামী যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

কুড়িগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ইনচার্জ কনিকা আক্তার বলেন, বালুভর্তি একটি ট্রাক রেললাইনের ওপর উল্টে পড়ে লাইন অবরুদ্ধ করেছে। ট্রাকটি সরানোর কাজ চলছে। তবে কখন ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্রুততম সময়ে ট্রাকটি অপসারণ করে রেল চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের দুর্ভোগ অব্যাহত থাকতে পারে। 

সিরাজ/খাদিজা রুমি/

আদিতমারীতে শিশু নন্দিনী হত্যার দায় স্বীকার

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৫৪ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:১৮ এএম
আদিতমারীতে শিশু নন্দিনী হত্যার দায় স্বীকার
নিহত সাত বছর বয়সী শিশু নন্দিনী। ছবি: খবরের কাগজ

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের সাত বছর বয়সী শিশু নন্দিনী হত্যাকাণ্ডে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে প্রধান আসামি বিধান চন্দ্র।

বুধবার (১৭ জুন) তাকে ও তার বাবা রনজিত চন্দ্রকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে মামলাটির দ্রুত তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম তদারকির জন্য মনিটরিং সেল এবং তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে প্রধান আসামি বিধান চন্দ্র ও তার বাবা রনজিত চন্দ্রকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে বিধান চন্দ্র হত্যাকাণ্ডে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন করেনি তদন্তকারী কর্মকর্তা। পরে আদালত উভয়কে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় নিহত শিশু নন্দিনীর বাবা বাদী হয়ে আদিতমারী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় প্রধান অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র, তার বাবা রনজিত চন্দ্র এবং মাকে আসামি করা হয়েছে।

জানা যায়, সোমবার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী নন্দিনী। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি ও মাইকিং করেও তার সন্ধান পাননি। পরদিন মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাখেত থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় বস্তাবন্দি নন্দিনীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত বিধান চন্দ্রের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পরে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতার সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় জেলা পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের আটটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে ১৮ জন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন।

এদিকে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা  করার প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যে একটি মামলা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবং অন্যটি জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত শেষে রাতে নন্দিনীর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় এখনও শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, 'ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দাখিল করা হবে। মামলার অগ্রগতি তদারকির জন্য মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ করছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।'

এদিকে বৃহস্পতিবার নিহত নন্দিনীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে আদিতমারী সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর।

বকুল/আজহার/