চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ঈদের দিন থেকে এখন পর্যন্ত বকশিশের নামে চলছে বিভিন্ন যানবাহনের ভাড়া নৈরাজ্য। নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে চালকদের ইচ্ছেমতো অর্থ আদায়ের কারণে সাধারণ যাত্রীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে ঈদে স্বজনের বাড়ি ও বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ঘুরতে যাওয়া মানুষেরা এই অনিয়মের শিকার হয়েছেন।
যাত্রীরা বলছেন, সাতকানিয়া থেকে আশপাশ উপজেলার বিভিন্ন স্টেশনে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ঈদের দিন থেকে বকশিশের নামে যাত্রীদের কাছ থেকে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। অন্যদিকে চালকরা জানিয়েছেন, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীরা ঈদ উপলক্ষে বোনাস ও ভাতা পেয়ে থাকেন। কিন্তু পরিবহনের চালকরা এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ায় ‘যাত্রীদের সম্মতিতেই সামান্য’ বকশিশ নেওয়া হচ্ছে।
জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক সড়কে চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশা, লোকাল বাস ও ইজিবাইকের নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা থাকলেও সেটি ঈদের দিন থেকে মানা হচ্ছে না। চালক ও হেলপাররা যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার পাশাপাশি বকশিশের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন। কেউ এ বিষয়ে আপত্তি জানালে তাকে কটু কথা শোনানোর পাশাপাশি হয়রানির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী উপজেলার কেরানীহাট স্টেশন থেকে লোহাগাড়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী উপজেলা এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলায় যাতায়াত করেন। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কেরানীহাট স্টেশন থেকে লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদের ভাড়া ৩০ টাকা হলেও ৪০ থেকে ৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। একই স্টেশন থেকে বাঁশখালীর ভাড়া ৮০ থাকা হলেও ১০০ টাকা, ফুলতলার ভাড়া ৪০ টাকা হলেও ৬০ টাকা, বাজালিয়ার ভাড়া ২০ টাকার জায়গায় ২৫ থেকে ৩০ টাকা, চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারীর ভাড়া ২০ টাকা হলেও ৩০ টাকা এবং বান্দরবান বাস স্টেশনের ভাড়া ৮০ টাকার জায়গায় ১০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।
মো. ফয়সাল নামে এক যাত্রী বলেন, ‘কেরানীহাট স্টেশন থেকে কাঞ্চনা ফুলতলার ভাড়া ৪০ টাকা হলেও বর্তমানে ৬০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এই অতিরিক্ত অর্থ আদায়কে চালকরা ঈদের বকশিশ বলে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। প্রতিবাদ করলে তারা বলেন, না গেলে নেমে যান। তাই এক প্রকার বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।’
সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আব্দুর রশিদ বলেন, “সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীরা ঈদ উপলক্ষে বোনাস ও ভাতা পেয়ে থাকেন। কিন্তু আমরা সারা বছরই যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়া নিয়ে থাকি। তাই ঈদ উপলক্ষে ‘যাত্রীদের সম্মতিতেই’ সামান্য বকশিশ নিচ্ছি।”
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের ব্যবহৃত সরকারি নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনে সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তিনি শনিবার সকালে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারী চালকদের বিরুদ্ধে কেরানীহাট স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করেছেন বলে জানা গেছে।