‘মাদক নয়, ওড়াই ঘুড়ি, আলোকিত সমাজ গড়ি’ স্লোগানে গোপালগঞ্জে ঘুড়ি উৎসব উদযাপিত হয়েছে। তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত রাখা, গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে ধরে রাখা ও তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ বিনোদনে উদ্বুদ্ধ করতে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার নিজরা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এই উৎসের আয়োজন করে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফার্স্ট কনসার্ন (বিওয়াইএফসি) নামে একটি সংগঠন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিজরা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নাটাই হাতে একদল কিশোর-কিশোরী দাঁড়িয়ে আছে। সুতোয় টান পড়তেই নীল আকাশ দখল নিয়েছে রং-বেরঙের ঘুড়ি। চিল, ঈগল, পতেঙ্গা, তরি, সাপ, ড্রাগন, প্রজাপতিসহ নানা রকমের ঘুড়ি আকাশ দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল। দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম। ঘুড়ি উৎসব দেখতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী শ্রেণি-পেশার মানুষ সেখানে ভিড় করেন। এ সময় পুরো মাঠ মিলনমেলায় পরিণত হয়। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের উল্লাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাবলী শবনম। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নবী নেওয়াজ। উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার অরুণ চন্দ্র মণ্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফার্স্ট কনসার্ন গোপালগঞ্জের প্রোগ্রাম ম্যানেজার নয়ন দাস, সিনিয়র প্রোগ্রাম অর্গানাইজার তাপস বিশ্বাস, রুবেন মজুমদার বক্তব্য রাখেন।
বাংলাদেশ ইয়ুথ ফার্স্ট কনসার্নের প্রোগ্রাম ম্যানেজার নয়ন দাস বলেন, ‘এ ধরনের উৎসব তরুণদের মাঝে ইতিবাচক চিন্তা-ভাবনা গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। সমাজে মাদকবিরোধী আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করবে। তাই এখানে ঘুড়ি উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।’
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নবী নেওয়াজ বলেন, ‘মাদক ও অনলাইন গেমের কারণে যুবসমাজ আজ ধ্বংস হতে বসেছে। মাদক, ডিজিটাল ডিভাইসের আসক্তি কমিয়ে তরুণদের মাঠমুখী করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।’ অনুষ্ঠান শেষে সেরা ঘুড়ি নির্মাতা এবং সবচেয়ে বেশিক্ষণ ঘুড়ি আকাশে ধরে রাখা বিজয়ীদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।