অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণের কারণে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরের সফল নষ্ট হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অনেক জায়গায় এসব বাঁধের কারণে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। তখন ফসল নষ্ট হয়। কৃষকরা সেই বাঁধ কাটতে চাইলে কর্তৃপক্ষ বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এবার জলাবদ্ধতার কারণে বৃষ্টির পানি জমে বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। কৃষকরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আশায় বসে না থেকে নিজ উদ্যোগে সেই বাঁধ মেরামত করেন। রক্ষা করেন অবশিষ্ট ফসল। যদিও পাউবো ও জেলা প্রশাসন বলছে ভিন্ন কথা। শনিবার ভেঙে যাওয়া বাঁধের কারণে কোনো ফসল নষ্ট হয়নি বলে তারা দাবি করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অপরিকল্পিতভাবে বানানো উতারিয়া বাঁধের কারণে মেলানির হাওরে জমা বৃষ্টির পানি নামতে পারেনি। পানি নিষ্কাশনের জন্য গত বুধবার কৃষকরা এই বাঁধের কিছু অংশ কেটে দেন। তখন পানি কিছুটা নেমে যায়। কিন্তু প্রশাসনের নির্দেশে কাটা অংশটি আবারও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে মেলানির হাওরে আবার পানি জমতে থাকে। শনিবার সকালে এই বাঁধে নালার মতো ভাঙন দেখা দেয়। তখন কয়েকজন কৃষক সেটি রক্ষা করেন। তবে একপর্যায়ে এটি বড় আকারে ভাঙতে থাকে। তখন এলাকার শত শত কৃষক সেখানে উপস্থিত হয়ে নিজেরা বাঁধ নির্মাণ করেন।
ওই এলাকার বাসিন্দা আমিন উদ্দিন বলেন, ‘আমরা তাৎক্ষণিক এলাকারবাসীকে বাঁশ, বস্তা নিয়ে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানাই। কিন্তু বাঁধটি হাওরের অনেক ভেতরে। তাই লোকজন জড়ো হতে ঘণ্টাখানেক সময় লেগে যায়। স্থানীয় কৃষকরা জড়ো হয়ে চার ঘণ্টার চেষ্টায় বাঁধটি রক্ষা করা হয়।’
সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ‘যে বাঁধটি দিয়ে পানি প্রবেশ করেছে সেটি আমাদের কোনো বাঁধ নয়, আমরা এখানে কোনো কাজও করিনি। স্থানীয়রা এখানে প্রয়োজনে কাজ করেন। আমি শুনেছি বৃষ্টির পানির চাপে বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়াও পাউবো কর্মকর্তার সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই বাঁধ ফসল রক্ষা বাঁধের আওতাভুক্ত নয়। বিষয়টি শুনেছি। বাঁধটির যেন আর ক্ষতি না হয় সেটির ব্যবস্থা করা হবে।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে সদর, শান্তিগঞ্জ, দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলার মানুষের জমি আছে। এই হাওরের মোট জমির পরিমাণ ৪৫ হাজার ৮৫৯ হেক্টর। এর মধ্যে আবাদি জমি আছে ২৪ হাজার ২১৪ হেক্টর। হাওরে এবার অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ঝাওয়া, শেয়ালমারা, গুমরাসহ কয়েকটি জায়গায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে।