আবার নতুন করে আলোচনায় এসেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম। মূলত পহেলা বৈশাখ এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ তার কাট্টলীর বাড়িতে গিয়ে আতিথিয়েতা গ্রহণ করাকে কেন্দ্র করে এই আলোচনা শুরু হয়েছে। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হৈচৈ পড়ে গেছে।
কেউ কেউ মনজুর আলমকে আওয়ামী লীগের দোসর বানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ তার বাড়িতে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করছেন।
আবার কেউ কেউ তার পক্ষেও বলছেন। তার বাসায় এনসিপি’র শীর্ষ নেতার আগমনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গণেও আলোচনা চলছে। ঘুরপাক খাচ্ছে একটি প্রশ্ন। মনজুর আলম মঞ্জু কি তবে সামনের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী।
তবে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও তাকে নিয়ে এ ধরনের আলোচনা ঘুরপাক খায়। বিশেষ করে তার অর্থায়য়ে বেগম খালেদা জিয়া জামে মসজিদ নির্মাণ, বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মরহুম প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতসহ নানা কর্মসূচি তাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে।
গত রমজানে চট্টগ্রামে এনসিপির একটি ইফতার মাহফিলে ব্যবহৃত পানির বোতলের লোগোতে লেখা ছিল ছিলো ‘মনজুর আলমের সৌজন্যে’। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। সেই ঘটনার ধারাবাহিকতায় এবার সরাসরি সাক্ষাতকে ঘিরে এনসিপি’র সাথে তার সম্পর্ক আরো গভীর হয়েছে বলে রাজনৈতিক জল্পনা চলছে।
তবে তিনি বরাবরই একটি কথা বলেছেন, তিনি আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর বিএনপি’র মনোনয়নে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এরপর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছেন। তবে সামাজিক এবং মানবিক কাজ আরো বেশি করে করছেন। তিনি আর কখনোই আওয়ামী লীগে যোগ দেননি। সুতরাং তাকে ফ্যাসিবাদের দোসর বলার সুযোগ নেই। ৫ আগস্টের পর তার বিরুদ্ধে কোন মামলাও হয়নি।
এবিষয়ে কথা বলার জন্য ফোন করা হলে সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম ফোন রিসিভ করেননি। তবে অন্য এক গণমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, চট্টগ্রামে এনসিপি’র হাসনাত আব্দুল্লাহ’র একটি প্রোগ্রাম ছিল। চট্টগ্রামে এসে হাসনাত তাকে ফোন দিয়েছিলেন। ফোন পাওয়ার পর বাসায় দুপুরের দাওয়াত দিয়েছেন তিনি। হাসনাত বিকাল ৩টার দিকে এসেছেন। খাবার খেয়ে সন্ধ্যার দিকে চলেও গেছেন। যাওয়ার সময় কিছু লোক আমার বাড়ির গেইটের সামনে জড়ো হয়। জড়ো হওয়া সবাই বিএনপি’র লোক। তাদের বাড়িও আশপাশে। হাসনাত আবদুল্লাহ নিজে গিয়ে তাদের সাথে কথা বলেছেন। তবে হাসনাত আবদুল্লাহ’র সাথে মেয়র নির্বাচন কিংবা অন্যকোন রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ঘটনার সময় উপস্থিত চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল নেতা শাহেদ আকবর জানান, এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ মঙ্গলবার দুপুরে সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বাসায় মেহমান হিসেবে এসেছেন। কিছু লোক না বুঝে সেখানে হট্টগোল করতে গেছে। পরে ভুল বুঝতে পেরে সবাই চলে গেছে।
ইফতেখারুল ইসলাম/এসএন