মাগুরাসহ অন্যান্য জেলায় বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং এবং ডিজেল সংকট একসঙ্গে দেখা দেওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বিশেষ করে চলতি শুকনো মৌসুমে সেচের ওপর নির্ভরশীল কৃষিজমিগুলোতে সময়মতো পানি সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে দেখা যাচ্ছে, ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে পরের এক ঘণ্টা বন্ধ থাকছে, ফলে সেচ পাম্প ঠিকমতো চালানো যাচ্ছে না। অনেক কৃষক জানান, এভাবে বিদ্যুৎ দিলে পাম্প চালু রাখা সম্ভব হয় না, বারবার চালু-বন্ধ করতে গিয়ে সময় ও শ্রম দুটোই নষ্ট হচ্ছে।
অন্যদিকে, ডিজেলচালিত পাম্প ব্যবহারকারীরাও বিপাকে। তেল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক সময় চাহিদামতো তেল না পাওয়ায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে জমিতে সময়মতো পানি না পৌঁছানোয় ফসলের ক্ষতির শঙ্কা বাড়ছে। কৃষকদের দাবি, ঘন ঘন লোডশেডিং না দিয়ে অন্তত টানা ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলে সেচ কার্যক্রম কিছুটা সহজ হতো। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এ বিষয়ে মাগুরা জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. মহিতুল ইসলাম বলেন, জেলায় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা ২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি। প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা ৬২ থেকে ৬৩ মেগাওয়াট হলেও এর বিপরীতে গড়ে ২০ থেকে ৩২ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। অনেক সময় এই ঘাটতি বেড়ে ৪৫ থেকে ৪৬ শতাংশে পৌঁছায়। আমরা যেভাবে বিদ্যুৎ পাচ্ছি, সেভাবেই সরবরাহ দিচ্ছি। অনেক গ্রাহক টানা কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ দেওয়ার দাবি করছেন, বিশেষ করে সেচের সুবিধার জন্য। আমরা তাদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলছি।
অন্যদিকে, মাগুরা বিদ্যুৎ সরবরাহ ওজোপাডিকো লিমিটেডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ঘোষ বলেন, তাদের অধীনে জেলায় ৪৩ হাজারের বেশি গ্রাহক রয়েছে এবং চাহিদা প্রায় ১৭ মেগাওয়াট। কিন্তু প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৪ মেগাওয়াট কম সরবরাহ পাওয়ায় কিছু লোডশেডিং করতে হচ্ছে। শুক্র ও শনিবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ওই সময় লোড কিছুটা কম থাকে। এ ছাড়া বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে, যা গ্রাহকরাও এখন বুঝতে পারছেন বলে তিনি যোগ করেন।
শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে এই সংকটের প্রভাব বেশি পড়ায় পল্লী এলাকার সাধারণ মানুষ ও কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ ও জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কাসেমুর রহমান/নাঈম