চট্টগ্রামে এক মিলিমিটার বৃষ্টিতে নিচু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকার জনজীবনে নেমে এসেছে ভোগান্তি। এদিকে কয়েক দিনের তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ার পর বৃষ্টির কারণে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে নগরবাসী।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে বৃষ্টি শুরু হয়। প্রথমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হলেও সকাল ৯টার দিকে জোরে বৃষ্টি নামে। অল্প কিছুক্ষণ বৃষ্টির এ ধারা অব্যাহত থাকে। এরপর বৃষ্টি পুরোপুরি থেমে গেলেও বর্তমানে মেঘলা আবহাওয়া বিরাজ করছে। তবে বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কিছুটা কমে এসেছে। এতে জনজীবনে স্বস্তি নেমে এসেছে।
নগরের হালিশহর এলাকার বাসিন্দা মো. ইফতেখার সামি বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অফিসের জন্য বের হই। তখন ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। বাসা থেকে ছাতা নিয়ে বেরিয়ে মূল সড়ক পর্যন্ত আসতেই একেবারে ভিজে গেছি। ভেজা কাপড়ে অস্বস্তি লাগছিল। কিন্তু কয়েকদিনের তীব্র গরম আর লোডশেডিং এর পর এই বৃষ্টি কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে।’
এদিকে অল্প সময়ের ভারী বর্ষণে নগরের প্রবর্তক মোড়, চকবাজার, হালিশহর, মুরসদপুর সহ নগরের কিছু নিচু এলাকার সড়কে সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। মূলত এসব এলাকার নালার পানি সড়কের উপর উঠে আসছে। এতে রাস্তায় জলাবদ্ধতা ও জানজট তৈরি হয়। তবে নগরের প্রবর্তক মোড় এলাকায় সড়কে এখনও পানি রয়েছে। ভোগান্তি পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
নগরের প্রবর্তক এলাকার বাসিন্দা মো. আবদুল গণি বলেন, ‘অল্প একটু বৃষ্টি হতেই প্রবর্তক মোড় তলিয়ে গেছে। ময়লা পানি গায়ে লাগছে। এটা ক্ষতিকর। জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রকল্পের কাজ চলছে, সিটি করপোরেশন চেষ্টা করছে, তবুও আমরা এর সুফল পাচ্ছি না। আমরা দ্রুত এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি চাই।’
নগরীর আমবাগান আবহাওয়া অফিসের অফিসার ইনচার্জ বিজন রায় বলেন, ‘সকাল ৮টা থেকে হালকা বৃষ্টি হয়েছে। ৯টা পর্যন্ত ১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। তবে রাতে বৃষ্টি বাড়ার সম্ভাবনা আছে। অপরদিকে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ সুমন সাহা বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় সকালে দশমিক দুই মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।’
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী কয়েক দিন চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসবে বলেও আশা করা হচ্ছে। এদিকে নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। জলাবদ্ধতা নিরসনে মাসব্যাপী নালা-নর্দমা পরিস্কার কার্যক্রম জোরদার করেছে সংস্থাটি। এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে পরিচালিত ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’-এ সরেজমিনে উপস্থিত থেকে তদারকি করেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
সকালে প্রথমে তিনি ৩৩নং ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ডের জে.এম সেন স্কুলের পেছনে অবস্থিত বান্ডেল খাল এলাকায় চলমান পরিস্কার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরে পর্যায়ক্রমে ৩৪ নং পাথরঘাটা ওয়ার্ডের বদর খালি খাল (ইসলাম কলোনী) এবং ৩৫নং বক্সিরহাটা ওয়ার্ডের দক্ষিণ মধ্যম পীতম্বরশাহ এলাকায় নালা-নর্দমা পরিষ্কার কার্যক্রমে অংশ নেন।
পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, ‘নগরীর বিভিন্ন স্থানে নালা-নর্দমা ময়লার স্তুপে পরিণত হয়েছে, যা জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ।’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কিছু অসচেতন ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলে নালাগুলোকে কার্যত বর্জ্য ফেলার কেন্দ্রে পরিণত করেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে কোনো উদ্যোগই টেকসই হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণকে সচেতন না করতে পারলে এই কর্মসূচি শতভাগ সফল করা সম্ভব নয়। এই শহর আমাদের সবার এ শহরের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ থাকতে হবে।’
রিফাত/