ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে সোহেল-স্বপ্নার জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করলেন হাইকোর্ট রবিবার বন্ধ থাকবে রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট সিঙ্গাপুর, কানাডা নয়, বেটার বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ চট্টগ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে মা-মেয়ে হত্যা মুন্সীগঞ্জে টাকা লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা শেষ হলো ‘রুচি বিউটিগ্রাম সিজন সেভেন’ টিভিতে আজকের খেলা হাইতিকে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে স্কটল্যান্ড র‌্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে ‘টেস্ট অফ ল্যাটিন’– সুস্বাদু খাবার আর ফিফা বিশ্বকাপের দারুণ এক উৎসব ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে ফের অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত বিজিবির বাংলাদেশ নারী দলের টি-টোয়েন্টি অভিযান আজ শুরু বিশ্ববাজারে কেন কমছে সোনার দাম? হাতিয়ায় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, পালিয়ে বেড়াচ্ছে পরিবার দুপুরের মধ্যে ১০ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা কোন চিহ্ন দেখে নবিজিকে চিনেছিলেন সালমান (রা.) নিজের বিরুদ্ধেও অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের আহ্বান এমপি মুশফিকুর রহমানের মরক্কো-ব্রাজিল দ্বৈরথে কাঁপল মেটলাইফ, গ্যালারিতে ৮০ হাজারের মহাসমুদ্র! চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে যুবক আটক, বিএসএফের মারধরের অভিযোগ রংপুরে চিকিৎসককে মারধর: মায়ের মরদেহ পেতে কান ধরে উঠবস যুবকের সিলেট সিটি করপোরেশনে চলতি বছরে ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ করা হবে: সিসিক প্রশাসক চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু সুবর্ণচরে নারীকে পিটিয়ে পদ হারালেন যুবদল নেতা সেনবাগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের মধুখালীতে ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিকে কুপিয়ে ৩ লাখ টাকা ছিনতাই ‘রোদে লিচু পোড়ায় ক্ষতির মুখে চাষি-ব্যবসায়ী’ প্রস্তাবিত বাজেটে বিএনপির নেতা-কর্মীরা খুশি ‘ফেবারিট’ তুরস্কের সামনে আত্মবিশ্বাসী অস্ট্রেলিয়া পরিদর্শন নেই, অরক্ষিত রেলপথ
Nagad desktop

রামুতে বন্য হাতির আক্রমণে রোহিঙ্গা মা-মেয়ের মৃত্যু

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০১ পিএম
আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
রামুতে বন্য হাতির আক্রমণে রোহিঙ্গা মা-মেয়ের মৃত্যু

কক্সবাজারের রামুতে বন্য হাতির আক্রমণে রোহিঙ্গা ছেমন আরা বেগম (২৭) ও তার মেয়ে আড়াই বছর বয়সী আসমা আক্তারের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম খুনিয়াপালং এলাকার সৈয়দ কলোনীতে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহতরা ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী (রোহিঙ্গা পরিবার) মো. একরাম মিয়ার স্ত্রী ও মেয়ে। 

স্থানীয়রা জানান, ভোরের দিকে বন্য হাতির একটি পাল হঠাৎ লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এ সময় হাতিরা কয়েকটি বসতঘরের সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর করে এবং আশপাশের গাছপালা উপড়ে ফেলে, এতে মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

মাদ্রাসা শিক্ষক জুবাইরুল ইসলাম বলেন, লোকজনের হৈচৈ শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন একরাম মিয়া ও তার স্ত্রী ছেমন আরা। তাদের সঙ্গে ছিল দুই শিশু সন্তান। এ সময় হাতির আক্রমণ থেকে বাঁচতে একরাম মিয়া ছয় বছর বয়সী ছেলে রেহান উদ্দিনকে নিয়ে দ্রুত সরে যান। তবে ছেমন আরা ও তার ছোট মেয়ে আসমা হাতির আক্রমণের মুখে পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জয়নাল আবেদিন জানান, ওই হাতির পালে তিনটি হাতি ছিল খুবই আক্রমণাত্মক। সামনে পড়ে যাওয়ায় মা-মেয়ের পালানোর সুযোগ ছিল না। এ সময় ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও গাছের আম-কাঁঠাল খেয়ে পাশের পাহাড়ে চলে যায় হাতিগুলো।

তিনি আরও জানান, নিহতরা রোহিঙ্গা নাগরিক হওয়ায় বনবিভাগের জমিতে ঘর তুলে কয়েক বছর ধরে সেখানে বসবাস করে আসছিলেন।

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের ধোয়াপালং রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তোসাদ্দেক হোসেন জানান, ঘটনার পর হাতির পালটিকে তাড়িয়ে গভীর বনে প্রবেশ করানো হয়েছে। পাশাপাশি বন্য হাতির চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করেছে। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা করা হবে।

স্থানীয়রা বলেন, খাদ্যের সন্ধানে সাম্প্রতিক সময়ে বন্য হাতির পাল খুনিয়াপালং ও দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করছে, যার ফলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। বনাঞ্চল উজাড় এবং মানুষের বসতি বিস্তারের কারণে মানুষ ও বন্য প্রাণীর সংঘাত দিন দিন বাড়ছে; দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

তারেকুর রহমান/নাঈম

চট্টগ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে মা-মেয়ে হত্যা

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৩৯ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
চট্টগ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে মা-মেয়ে হত্যা
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় পারিবারিক বিরোধের জেরে মা ও মেয়েকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে অভিযুক্ত তেজপ্রিয় বড়ুয়া (৩৫)।

শনিবার (১৩ জুন) রাত ১১টার দিকে আনোয়ারার পারৈকোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড চেনামতি গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তের ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। 

নিহত ব্যক্তিরা হলেন, ওই এলাকার সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। নিহত প্রিয়ন্তী মাহাতা পাঠনিকোটা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। এ ঘটনায় গুরুতর আহত শিশুসন্তান পিয়াস বড়ুয়াকে (৫) উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছু দিন ধরে সুজন বড়ুয়ার পরিবারে সুদের টাকাসহ অভ্যন্তরীণ ও পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরেই গতকাল রাত ১১টার দিকে বসতঘরে ঢুকে মা, মেয়ে ও শিশুর ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় অভিযুক্ত তেজপ্রিয় বড়ুয়া (৩৫)। তিনি ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়।

চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করেন। এর মধ্যে এনি বড়ুয়া ও প্রিয়ন্তী বড়ুয়া ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশু পিয়াস বড়ুয়াকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আনোয়ারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জুয়েল আহমেদ জানান, 'হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে রাতেই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ নিহত মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিরোধের জেরে এই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে জড়িত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন।'

ইফতেখারুল ইসলাম/খাদিজা রুমি/

মুন্সীগঞ্জে টাকা লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৫৯ এএম
মুন্সীগঞ্জে টাকা লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা
ছুরিকাঘাতে নিহত আরিফ বেপারীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানোর উদ্দেশ্যে উদ্ধার করা হচ্ছে। —ছবি: খবরের কাগজ

মুন্সীগঞ্জে টাকা লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আরিফ বেপারী (৩০) কে ছুরিকাঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।

রবিবার (১৪ জুন) সকালে মুন্সীগঞ্জ সদরের পূর্ব শিলমন্দি জসিমনগর এলাকায় বাড়ির পাশে একটি পরিত্যক্ত জমিতে আরিফের রক্তাক্ত মরদেহ দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। 

নিহত আরিফ স্থানীয় হাট-বাজারে কসাইয়ের কাজ করতেন বলে জানা গেছে।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, স্থানীয় নুর মহোম্মদ নামের আরেক কসাইয়ের সঙ্গে টাকা লেনদেন নিয়ে বিরোধ ছিলো আরিফের ছোট ভাই আকাশের সঙ্গে । এ নিয়ে গতকাল শনিবার সকালে দুই পক্ষ মুন্সিরহাট বাজারে সংঘর্ষে জড়ায়।

স্বজনদের অভিযোগ আকাশকে না পেয়ে প্রতিপক্ষ ও তার লোকজন তার ভাই আরিফকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপরাধ ও ক্রাইম  জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে টাকা লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে। শরীরে একাধিক আঘাতে চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ উদ্ধার শেষে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

মঈনুদ্দিন আহমেদ/আজহার/

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে ফের অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:১১ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে ফের অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ
ছবি: খবরের কাগজ

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস রোড থেকে আবারও এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার (১৪ জুন) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার কেওয়াটখালী ব্রিজ-১ সংলগ্ন এলাকায়, মাওয়ামুখী লেনের সার্ভিস রোডে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখা যায়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা দেওয়ান আজাদ হোসেন জানান, তাৎক্ষণিক মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

এর আগে গত ১২ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে একই এক্সপ্রেসওয়ের কামারখোলা এলাকায় সার্ভিস রোডে এক ব্যক্তিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। পরে তাকে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ উভয় ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে দেখছে।

সুমন/খাদিজা রুমি/

চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত বিজিবির

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:০৫ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৩৯ এএম
চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত বিজিবির
ছবি: খবরের কাগজ

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা উপজেলার জয়নগর সীমান্ত দিয়ে ১১ জন বাংলাভাষী ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির তৎপরতা ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় ওই চেষ্টা ব্যর্থ হলে পরে তাদেরকে সীমান্ত এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে যায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

রবিবার (১৪ জুন) ভোরে দর্শনা আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট সংলগ্ন ৭৭ নম্বর মেইন পিলার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ভোর প্রায় ৪টার দিকে সীমান্তের ভারতীয় অংশে ১১ জন বাংলাভাষী ব্যক্তিকে জড়ো করে বিএসএফ। তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর প্রস্তুতি চলছিল বলে জানা যায়। বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত সীমান্তে সতর্ক অবস্থান নেয় বিজিবি সদস্যরা। এ সময় স্থানীয় গ্রামবাসীরাও বিজিবির সঙ্গে অবস্থান নেন।

বিজিবির কঠোর অবস্থান ও স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে শেষ পর্যন্ত পুশইনের পরিকল্পনা থেকে সরে আসে বিএসএফ। পরে জড়ো করা ১১ জনকে শূন্যরেখা এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, বিএসএফের পক্ষ থেকে ১১ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছিল। বিজিবি তা প্রতিহত করেছে। পরবর্তীতে তাদেরকে সীমান্ত এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

মিজানুর রহমান/খাদিজা রুমি/ 

হাতিয়ায় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, পালিয়ে বেড়াচ্ছে পরিবার

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৫২ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
হাতিয়ায় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, পালিয়ে বেড়াচ্ছে পরিবার
ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে (১২) ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ও তাদের পেষোয়াদের ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ভুক্তভোগীর পরিবারটি। 

গত কয়েক মাস আগে এই ঘটনা ঘটলেও ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি তারা। 

শনিবার (১৩ জুন) ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার মায়ের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণসহ একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলমকে জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর মা ও ভাই জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের মেসে রান্নাবান্নার কাজ করত। সে সুবাদে কিশোরীও সেখানে মাঝে মধ্যে যাতায়াত করতো। 

ভুক্তভোগী কিশোরী জানায়, সে যখন স্কুলে বা বিকালে দোকানে যেতো, তখন খোরশেদ আলম তদন্ত কেন্দ্রের পাশের রাস্তার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে প্রায়ই বাসার তিনতলার ব্যালকনি থেকে ডাকতেন। প্রথম দিকে ভুক্তভোগী ভয়ে যেতো না। পরবর্তীতে বাসার ঘর ঝাড়ু দেওয়া, কাপড় ধোয়া এবং বিছানা ঠিক করার অজুহাতে ডেকে নেওয়া হতো। বাসায় ডেকে নিয়ে খোরশেদ আলম তাকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। কিশোরী এতে বাধা দিলে তাকে ও মাকে একেবারে মেরে ফেলার হুমকি দেন। ধর্ষণের পর তাকে মুখ বন্ধ রাখার জন্য ৫০০ বা ১০০০ টাকা দিয়ে বিদায় করা হতো এবং 'মোবাইল' কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হতো। 

লোকলজ্জা ও সামাজিক মানসম্মানের ভয়ে ভুক্তভোগী প্রথমে বিষয়টি কাউকে জানায়নি উল্লেখ করে বলেন, সর্বশেষ ৫ জানুয়ারি বিকালে কিশোরীর মা খোরশেদ আলমের বাসার দরজার সামনে গিয়ে ভুক্তভোগীকে ডাকলে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা তাকে ধমক দিয়ে বাথরুমে লুকিয়ে থাকতে বাধ্য করেন এবং তার মাকে মিথ্যা কথা বলে বিদায় করে দেন। পরবর্তীতে রাতে মা তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করলে কিশোরী সব সত্য ঘটনা খুলে বলেন। 

কিশোরীর মা বলেন, আমার মেয়েকে ধর্ষণের বিষয়টি আমরা পুলিশের হাতিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারকে জানিয়েছিলাম। এ বিষয়ে তার কাছে লিখিত জবানবন্দিও দিয়েছি। কিন্তু তিনি টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিয়েছেন। স্থানীয় রাকিব ও স্বর্ণকার কবির নামে দুই জন পুলিশের পক্ষ নিয়ে আমাদের থেকে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছিল। আমরা এখন ভয়ে বাড়িতে যেতে পারি না। গত চার মাস ধরে আমরা পালিয়ে বেড়াচ্ছি। 

তবে অভিযোগের বিষয়ে আইসি খোরশেদ আলমের বক্তব্য জানা যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন,  অনেক আগে এ ধরনের একটি অভিযোগ উঠেছিল। তখন এই অভিযোগের ভিত্তিতে হাতিয়া সার্কেল কর্মকর্তা একটি তদন্ত করেছিলেন। তদন্তে এর সত্যতা মেলেনি বলে জানতে পেরেছি। কিন্তু রবিবার (১৪ জুন) আবার এই ধরনের একটি ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বর্তমানে কোনও লিখিত কিংবা মৌখিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী কিশোরী কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকেও আমার সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা হয়নি।

নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনা সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

সাকিব/খাদিজা রুমি