ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
চাকরি মেলায় সাড়া, রাজশাহীতে ৫০ শতাংশ প্রার্থীর তাৎক্ষণিক নিয়োগ ইনজুরিতে ছিটকে গেলেন মাইকেল অলিভার ‘ফেনীর সাংবাদিকতার ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায় ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল’ পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী গ্রিন ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত মিসরকে কেন জার্সি পরিবর্তন করতে বলল ফিফা? রবিবার বিশ্ব রক্তদাতা দিবস যে সম্পদ চোখের পলকে ধ্বংস হয়ে যায় রাজধানীতে প্রান্তিক গ্রামের ফুটবল উন্মাদনা, আর্জেন্টিনা–ব্রাজিল ম্যাচ একদিনে ৫ মরদেহ উদ্ধার, বরগুনায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ দাউদকান্দিতে শিবির নেতার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ প্রলোভন দেখিয়ে ভোট আদায়কারীরা জনগণের বন্ধু নয়: তারেক রহমান মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করায় আনন্দ মিছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আগারগাঁওয়ে ‘রান ফর আর্থ’ আয়োজন সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি ডা. শফিকুর রহমানের ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে ধীরাজ শেঠ ‘তুই আসামি, চোখ নামিয়ে কথা বল’—ওসির বিরুদ্ধে নাঈম হাসানের অভিযোগ প্রযুক্তিদক্ষ তরুণরাই গড়বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী সোনারগাঁওয়ে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত, বিশ্ববিদ্যালয় ও পলিটেকনিক হবে: শিক্ষামন্ত্রী জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশ-বান্ধব পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ বিআইপির আলোচিত সিনেমার সিক্যুয়েল নিয়ে জয়া টেইলর সুইফটের নতুন রেকর্ড পরকালের আয়নায় আপনার কর্মফল দেখেছেন কি? সাংবাদিকতায় দলীয় লেজুড়বৃত্তিমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন: মোস্তফা কামাল আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের তারিখ ঘোষণা নিজেকে সমকামী বলে কটাক্ষের জবাব দিলেন মৌনী ফ্যাশনে বিশ্বকাপ মাদক কারবারে হাজার কোটিপতির উত্থান, দাবি ভূমিমন্ত্রীর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা: পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী
Nagad desktop

সেই ‘নিঃসঙ্গ টিলা’ পাচ্ছে পর্যটক-সঙ্গ

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
আপডেট: ১০ মে ২০২৬, ০৯:১৮ এএম
সেই ‘নিঃসঙ্গ টিলা’ পাচ্ছে পর্যটক-সঙ্গ
সিলেটে জেলা পরিষদের ন্যাচারাল পার্ক এলাকায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির। টিলাবান্ধব প্রকল্প নকশা ও সম্ভাব্য প্রকল্প সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করছেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ কুমার সিংহ ও স্থপতি রাজন দাশ। ছবি: খবরের কাগজ

সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পাশের এলাকার নাম ‘বাইশটিলা’। সেখানে গুনে গুনে ২২টি টিলার অবস্থান এখন আর নেই। তবে নাম আছে। আর আছে প্রাকৃতিকভাবে বিচ্ছিন্ন টিলা।

সেসব থেকে একটি টিলাকে ‘নিঃসঙ্গ টিলা’ নাম দিয়ে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে দিনব্যাপী অবসরযাপনকেন্দ্র গড়া হচ্ছিল। সিলেট জেলা পরিষদের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটি ঘিরে পুরো এলাকাজুড়ে পর্যটন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেই নিঃসঙ্গ টিলা পাবে পর্যটক-সঙ্গ।

শুক্রবার (৮ মে) বিকেলে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ওই এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় সিলেট জেলা পরিষদ প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াৎ, সিলেট সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ কুমার সিংহ ও টিলাবান্ধব প্রকল্পের স্থপতি রাজন দাশ মন্ত্রীকে প্রকল্পের সম্ভাব্য দিক সম্পর্কে অবহিত করেন।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সিলেটে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন সাধারণত টিলা কর্তন করে হয়। এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম সিলেট জেলা পরিষদের একটি প্রকল্প। ‘ন্যাচারাল পার্ক’ এলাকার একটি টিলাকে অক্ষত রেখে স্থাপন করা হচ্ছে টিলাবান্ধব প্রকল্প। প্রায় ৮০ ভাগ প্রকল্পকাজ সম্পন্নের পর স্থানটি পরিদর্শন করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। প্রকল্প এলাকা ঘুরে তিনি জানিয়েছেন, এই প্রকল্প এলাকা ঘিরে হবে ‘পর্যটন হাব’।

জেলা পরিষদের টিলাবান্ধব প্রকল্পটি নিয়ে গত বছরের ২৮ এপ্রিল খবরের কাগজে ‘শত বছর পর টিলাবান্ধব প্রকল্প’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল। প্রতিবেদনটিতে প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে প্রকাশ হয়েছিল এ রকম প্রকল্প প্রায় শত বছর পর নেওয়া হয়েছে।

ইতিহাস ঘেঁটে বলা হয়েছিল, এমসি (মুরারিচাঁদ) কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৮৯২ সালে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠার প্রায় ৩০ বছর পর ১৯২১ সালে কলেজটি সিলেট শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে টিলাগড় এলাকার ‘থ্যাকারে টিলা’ নামক স্থানে স্থানান্তর হয়। স্থানীয় ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে, ১৭ শতকের শেষভাগে যখন ব্রিটিশ সরকার সিলেট প্রশাসনিক কার্যক্রম তথা কালেক্টরেট সাজায়, তখন টিলাভূমি বেছে নেওয়া হয়েছিল। সিলেটের প্রথম কালেক্টরেট (ডিসি) উইলিয়াম ম্যাইকপিস থ্যাকার তার দাপ্তরিক ভবন নির্মাণ করেছিলেন টিলার চূড়ায়। বর্তমানে এমসি কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত সেই টিলাটি অবিকল থাকায় নাম হয়েছে ‘থ্যাকারের টিলা’।

এমসি কলেজ ক্যাম্পাসের ১২৪ একর জায়গার পুরোটা টিলাভূমি। প্রথম অবকাঠোমো নির্মাণ হয় ১৯২১ সালে। নির্মাণরীতিতে সেমিপাকা আসাম প্যাটার্নের স্থাপনা স্থাপন করার মূলে ছিল টিলা রক্ষা করা। মূল ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন আসামের তৎকালীন গভর্নর স্যার উইলিয়াম মরিস। নির্মাণ শেষে ১৯২৫ সালে উদ্বোধন করেছিলেন আসামের আরেক গভর্নর স্যার উইলিয়াম রীড। শত বছর আগে সরকারিভাবে টিলাবান্ধব সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও পরবর্তী সময়ে তা আর অনুসরণ হয়নি।

বাইশটিলার অবস্থান এমএজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লাগোয়া। নিরিবিলি পরিবেশ ও প্রকৃতি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। সবুজ-পাহাড়-টিলা আর হাওর-বিলের জলরাশি সেখানকার প্রাকৃতিক আকর্ষণ। বাইশটিলার লালবাগ দক্ষিণপাড়ায় সিলেট জেলা পরিষদের নিজস্ব জায়গা ‘ন্যাচারাল পার্ক’ প্রস্তাবিত এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

জেলা পরিষদের মোট ৫৬ একর  জায়গার একটি অংশ বিমানবন্দরের রানওয়ের সংরক্ষিত সীমানাপ্রাচীর সম্প্রসারণে ছেড়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে পাঁচটি টিলা ও একটি জলাশয় মিলিয়ে মোট ৪০ একর জায়গা রয়েছে। ন্যাচারাল পার্ক প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে সেখানকার প্রকৃতিকে অক্ষত রাখতে। প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রায় ৮০ ভাগ কাজ সমাপ্ত হওয়ার পর বাণিজ্যমন্ত্রী স্থানটি পরিদর্শন করেন।

টিলাবান্ধব প্রকল্পের নকশা করেছেন স্থপতি রাজন দাশ। প্রকৃতিকে নষ্ট না করার প্রথম ধাপের কাজ সম্পন্নে স্থপতির কথা শুনেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির। এরপর পুরো এলাকাকে পর্যটন-হাব করার কথা জানান।

স্থপতি রাজন খবরের কাগজকে বলেন, এখানকার টিলাগুলোর মধ্যে একটি টিলা আইসোলেটেড (বিচ্ছিন্ন)। স্থপতির চোখে এটি ‘নিঃসঙ্গ টিলা’ হিসেবে চিহ্নিত । টিলার চূড়ায় স্থাপনা স্থাপন করা হবে। সেকালে থ্যাকারের টিলা থেকে এ কালের বাইশটিলার ‘নিঃসঙ্গ টিলা’ নিয়ে স্থপতির ভাষ্য, ‘প্রকৃতির লীলাখেলা প্রাকৃতিকভাবে দেখতে আমরা নিঃসঙ্গ টিলার নিঃসঙ্গতা চিরতরে ঘোচাতে চাই।

প্রথম ধাপের কাজ শেষে টিলার ঢালে ঋতুভিত্তিক গাছগাছালি রোপণ করা হবে। আলাদা করে চিহ্নিত করা থাকবে বর্ষার গাছ, বসন্তের গাছ। এর মধ্যে এমনও ভাবনার বাস্তবায়ন চিন্তা রয়েছে যে, বছরের ছয়টি ঋতুতে প্রকৃতির ছয় রকম সাজে সজ্জিত হবে এলাকা। যাতে একেক ঋতুতে প্রকৃতির একেক সাজ দেখা যায়। এসবের নকশা মন্ত্রীকে দেখানো হয়েছে।’

জেলা পরিষদ সূত্র জানায়, প্রকল্পটির নাম ‘দিনব্যাপী প্রাকৃতিক অবকাশ যাপন কেন্দ্র’। বাইশটিলার অনেক টিলার মধ্যে নিঃসঙ্গটিলা ও তার তিন পাশজুড়ে থাকা প্রাকৃতিক জলাশয়কে কেন্দ্র করে জেলা পরিষদ কর্তৃক গৃহীত ‘বাইশ টিলা ন্যাচারাল পার্ক’ প্রকল্পের প্রথম ধাপের অংশ। এতে জলাশয়ের একপাড় সরকারি রাস্তার পাশে একটি ঘাট থাকবে (ভিজিটরস রিসেপশন পয়েন্ট) যেখান থেকে টিকিটিং ও সিকিউরিটি চেক-আপের পর স্পিডবোট/দেশীয় নৌকা করে বিপরীত পাড়ের ঘাটে (ল্যান্ডিং ডেকে) নামতে হবে এবং সেখান থেকে টিলার গা-বেয়ে ওঠা সিঁড়ি দিয়ে ক্রমশ ওপরে উঠলেই ছাউনি পাওয়া যাবে। সেখান থেকে আরেকটু এগোলেই টিলার খাঁজে খাঁজে বিভিন্ন উচ্চতায় তৈরি করা দোচালা চৌচালা বসার ব্যবস্থা।

গাছগুলো আগের মতোই আছে। তবে আকাশমণি গাছের প্রাধান্য বেশি। প্রকল্পে তাই দেশি ও সিলেটের স্থানীয় বৃক্ষ-গুল্মকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই চাউনিগুলোতে বসলে চারদিকের বৃক্ষরাজি ও জলাশয়ের মেলবন্ধনে রচিত দৃশ্য ব্যক্তিমাত্রকেই বিমোহিত করবে। এখানে রাত্রিযাপনের কোনো ব্যবস্থা থাকবে না। মিষ্টি সকাল, স্তব্ধ দুপুর আর নরম রঙিন বিকেল কাটানোর এক একান্ত পরিসর হবে এটি। একটি কিচেন ও রেস্টরুম থাকবে, যাতে ব্যবহারকারীরা হালকা খাবার খাওয়ার সুযোগ পান। ঝিলের মাঝখানে একটি মাটির ঢিবি আছে যেখানে একটি দড়ি দিয়ে তৈরি ঝুলন্ত সেতু থাকবে উপভোগের অংশ হিসেবে। এ ছাড়া বড়শি দিয়ে মাছ ধরার ব্যবস্থাও রয়েছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলেছেন, প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হয়নি। সেই সব বিষয়গুলো নিয়েই বাণিজ্যমন্ত্রীর সরজেমিন পরিদর্শন শেষে তার পরামর্শ গ্রহণ করা হয়েছে। বাইশটির বড় টিলার চতুর্দিকে ক্যাবল-কার লাইন, শিশুদের জন্য বিভিন্ন রাইড ও খেলার ব্যবস্থা, ফুডকোর্ট, অ্যাম্পিথিয়েটার, মেলার স্থান, রিসোর্ট, পার্কিং ও রেস্টরুমের ব্যবস্থার কথা মাথায় রেখেই পরবর্তী মাস্টারপ্ল্যান করা হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী বাইশটিলাকে একটি পর্যটকবান্ধব স্থানে পরিণত করার আশা ব্যক্ত করেন।

চাকরি মেলায় সাড়া, রাজশাহীতে ৫০ শতাংশ প্রার্থীর তাৎক্ষণিক নিয়োগ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
চাকরি মেলায় সাড়া, রাজশাহীতে ৫০ শতাংশ প্রার্থীর তাৎক্ষণিক নিয়োগ
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীতে দিনব্যাপী এক ব্যতিক্রমধর্মী চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলায় অংশ নেওয়া শতাধিক চাকরিপ্রত্যাশীর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ প্রার্থী প্রাথমিক বাছাই ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরির সুযোগ পেয়েছেন।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকার শাহ ডাইন কনভেনশন সেন্টারে এ চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় এবং ‘রেইজ’ প্রকল্পের আওতায় ‘প্রয়াস’সহ তিনটি সামাজিক সংগঠন যৌথভাবে মেলার আয়োজন করে।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, মেলায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের ২৭টি প্রতিষ্ঠান এবং তিন শতাধিক চাকরিপ্রত্যাশী অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টলে দক্ষ জনবলের ব্যাপক চাহিদা লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষ কর্মী, সেলসম্যান এবং কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগের জন্য বিপুলসংখ্যক আবেদন গ্রহণ করা হয়।

মেলায় চাকরিপ্রত্যাশীরা নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সিভি জমা দেন এবং সরাসরি মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। প্রার্থীদের দক্ষতা ও যোগ্যতা যাচাই শেষে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আবেদনকারীকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরির জন্য নির্বাচিত করা হয়।

নিয়োগ কার্যক্রমের পাশাপাশি চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য সিভি হালনাগাদ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন এবং চাকরির প্রস্তুতি বিষয়ক পরামর্শ ও সেমিনারের আয়োজন করা হয়। ফলে তরুণ চাকরিপ্রত্যাশীরা একই স্থানে চাকরি খোঁজার পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগও পান।

আয়োজকরা জানান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণ-তরুণীদের বিভিন্ন কর্মমুখী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করা এবং তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করাই এ মেলার মূল উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে শতফুল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক নাজিম উদ্দীন মোল্লার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) টুকটুক তালুকদার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)-এর উপমহাব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম, রেইজ প্রকল্পের পিকেএসএফ উপ-প্রকল্প সমন্বয়কারী গোলাম জিলানী, প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক হাসিব হোসেন এবং শাপলা গ্রাম উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মোহসিন আলীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এনায়েত করিম/এসএন

‘ফেনীর সাংবাদিকতার ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায় ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল’

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
‘ফেনীর সাংবাদিকতার ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায় ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল’
ছবি: সংগৃহীত
ফেনীর সাংবাদিকতার অঙ্গনে দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের যে আলোকবর্তিকা জ্বালিয়ে রেখেছিলেন এনটিভি ও জনকণ্ঠের প্রবীণ সাংবাদিক ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল, তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে নাগরিক শোকসভা করেছে ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটি। তিনি এ সংগঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন।
 
শোকসভায় বক্তারা বলেন, ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল শুধু একজন সাংবাদিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন ফেনীর সংবাদজগতের এক প্রতিষ্ঠান। তার মৃত্যুতে ফেনীর সাংবাদিকতায় এমন এক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
 
শনিবার (১৩ জুন) বিকালে শহরের রাজাঝির দিঘির পশ্চিম পাড়ে ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটি প্রাঙ্গণে এ শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন। সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল, জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুফতি আবদুল হান্নান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, ফেনী আদালতের জিপি নুরুল আমীন খান, জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক আ ন ম আবদুর রহিম।
 
বক্তারা বলেন, ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল ছিলেন ফেনীর চারণ সাংবাদিক। তিনি সংবাদকে কেবল পেশা হিসেবে নয়, মানুষের অধিকার ও জনস্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার হিসেবে দেখতেন। তিনি চলে গেলেও তার সততা, মানবিকতা, পেশাদারিত্ব এবং সাংবাদিকতার প্রতি দায়বদ্ধতা ফেনীর সংবাদজগতে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার কর্মময় জীবন আগামী দিনের সাংবাদিকদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
 
তারা আরও বলেন, ফেনীর সাংবাদিক সমাজে ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল ছিলেন একটি নির্ভরতার নাম। পেশাগত প্রতিযোগিতার ঊর্ধ্বে উঠে তিনি সহকর্মীদের সহযোগিতা করতেন। সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন, নতুনদের পথ দেখানো এবং সত্য প্রকাশে আপসহীন অবস্থানের জন্য তিনি সবার কাছে সম্মানিত ছিলেন। তার মৃত্যুতে শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো জেলার সংবাদমাধ্যম অঙ্গন একজন অভিভাবককে হারিয়েছে।
 
শোকসভায় স্মৃতিচারণ করে আরও বক্তব্য রাখেন ফেনী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবু তাহের ও আবদুর রহিম, ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান দারা, ফেনী সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান, ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি আরিফুল আমিন রিজভী, শুকদেব নাথ তপন ও এনামুল হক পাটোয়ারী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক যতন মজুমদার, মরহুমের মামাতো ভাই নাসির উদ্দিন হায়দার সাইমুন, সাংস্কৃতিক সংগঠক শান্তি চৌধুরী, সহকর্মী আক্তার হোসেন, টেলিভিশন জার্নালিস্ট ক্লাবের সভাপতি আতিয়ার সজল, ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির সহসভাপতি মো. মাঈন উদ্দিন, সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর সভাপতি সিদ্দিক আল মামুন, ফেনী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনির, ইউনিটির নির্বাহী সদস্য নুর উল্লাহ কায়সার, কোষাধ্যক্ষ শফি উল্লাহ রিপন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ নিলয়।
 
অনুষ্ঠানে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন মরহুমের একমাত্র ছেলে রুথান মাহমুদ। 
 
শোকসভার শেষে মরহুম ওছমান হারুন মাহমুদ দুলালের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন ফেনী কোর্ট জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মীর হোসেন।
 
এসএন/

একদিনে ৫ মরদেহ উদ্ধার, বরগুনায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ পিএম
একদিনে ৫ মরদেহ উদ্ধার, বরগুনায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

বরগুনায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জেলায় চরম উদ্বেগ, আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার দুপুর থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত সদর, পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

২৪ ঘন্টায় বরগুনায় আত্মহত্যা, পিটুনি, রহস্যজনক মৃত্যুর ও অস্বাভাবিক মৃত্যু থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উৎকণ্ঠার যেমন জন্ম দিয়েছে তেমনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। তবে পুলিশ বলছে, প্রতিটি ঘটনাই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ চলছে। 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া গেছে, একজন নিহত হয়েছেন পিটুনিতে এবং অপর একজন অটোরিকশাচালকের মরদেহ সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিনজন সদর উপজেলার বাসিন্দা। আর বাকি দুজন পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলার।

শনিবার সকালেই সদর উপজেলার আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের লেমুয়া গ্রামে নিজ বসতঘর থেকে মোসা. কনা (৩৪) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

একই সময়ে সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের নলী এলাকায় সালেহা বেগম (৯৩) নামে এক বৃদ্ধার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে শুক্রবার সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নে একটি সহিংস ঘটনার জেরে ইব্রাহিম হোসেন কালু (২৮) নামে এক যুবক নিহত হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্যকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে ক্ষুব্ধ জনতা পাল্টা হামলা চালিয়ে কালুকে পিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আলীম বলেন, দুই নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং পিটুনিতে নিহতের ঘটনাটিও গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে পুলিশ নিজ উদ্যোগে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে।

এদিকে পাথরঘাটা উপজেলায় মিজানুর রহমান (৪৫) নামে এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার ভোরে পৌরসভার পানি উন্নয়ন বোর্ডের দক্ষিণ পাশের সড়ক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত মিজানুর রহমান স্থানীয় ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। 

পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার রাতে খাবার শেষে তিনি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। রাত দেড়টা থেকে দুইটার মধ্যে কোনো এক সময় বাড়ি থেকে বের হয়ে যান এবং এরপর আর ফেরেননি। ভোরে স্থানীয়রা সড়কের পাশে তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন।

পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হক বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে শনিবার দুপুরে বামনা উপজেলার কলাগাছি এলাকা থেকে এহসান (১৮) নামে এক কলেজছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা জানান, ঘটনাস্থলে তার কানে হেডফোন ছিল। যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।

বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জব্দ করা হয়েছে। বিস্তারিত তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মহিউদ্দিন অপু/এসএন

সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম
সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেকে গোসল করতে নেমে কিশোরীসহ একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। 

শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যা পর্যন্ত দক্ষিন কদমতলী এলাকায় ডিএনএ লেক থেকে একে একে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন- গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার মনোহরদী এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে রাশেদুজ্জামান, নড়াইলের কালিয়া থানার রঘুনাথপুর এলাকার বাসিন্দা আকরাম মিয়ার ছেলে মো. গালিব এবং মেয়ে সুরাইয়া আক্তার। তারা সিদ্ধিরগঞ্জের দক্ষিণ কদমতলী এলাকার অ্যাডভোকেট জালাল মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন।

প্রতক্ষদর্শী ও পরিবারের সদস্যরা জানায়, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শ্যালক ও শালিকাকে নিয়ে গোসল করতে ডিএনপি খালে নামে দুলাভাই রাশেদুজ্জামান। প্রায় আধঘন্টা পর তাদের কোন খোঁজ খবর না পাওয়ায় তাদের খোঁজাখুজি শুরু করেন পরিবারের লোকজন। খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এসে খালে তল্লাশি শুরু করে।

উপ-সহকারি পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন জানান, খালে তিনঘন্টা ব্যাপী তল্লাশি চালিয়ে প্রথমে দুলাভাই রাশেদুজ্জামান ও শ্যালক গালিবের মৃতদেহ উদ্ধার করে। পরে আরও এক ঘন্টা পর শ্যালিকা সুরাইয়া আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরসহ পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

বিল্লাল হোসাইন/রিফাত/

‘সবুজ সাথী’ সম্মাননায় ভূষিত সিলেট সিটি করপোরেশন

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম
‘সবুজ সাথী’ সম্মাননায় ভূষিত সিলেট সিটি করপোরেশন
অতিথিদের কাছ থেকে সম্মাননা গ্রহণ করছেন সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন। ছবি: খবরের কাগজ

সিলেট নগরীর পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতে সম্ভাবনাময় পরিবর্তনের জন্য সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগকে পরিবেশবাদী সংগঠনের পক্ষ থেকে 'সবুজ সাথী’ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে সিলেট নগরীর মিরবক্সটুলায় রয়েল মার্ক হোটেলের সম্মেলনকক্ষে এক অনুষ্ঠানে সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) প্রবর্তিত এই সম্মাননা সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীনের নেতৃত্বাধীন দপ্তরকে।

সম্মাননা প্রবর্তনকারী সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে এই সম্মাননা প্রবর্তন করা হয়েছে। দেশে প্রতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তি উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে ‘সবুজ সাথী’ দেওয়া হয়। সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার দৃষ্টান্ত সারা দেশের মধ্যে অনন্য বিবেচনায় এবং এ কাজে সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধানের একাগ্রতায় সম্মাননা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর হাত থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেন সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন। তার কার্যক্রম নিয়ে গত ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে খবরের কাগজে ‘একাগ্র একলিম, পরিচ্ছন্ন সিলেট’ শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল।

ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সিলেট শাখার আহ্বায়ক ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। 

বিশেষ অতিথি ছিলেন ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব শরীফ জামিল, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, পরিবেশ অধিদপ্তর, সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই সিলেট সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। নাহিদা খান সুর্মির সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার ও  ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সিলেট শাখারবসদস্য সচিব আব্দুল করিম চৌধুরী কিম। আলোচনায় অংশ নেন প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতাল অ্যাসিয়েশনের সভাপতি ডা. নাসিম আহমেদ,  প্রবাসী বিনিয়োগকারী উইন্ডসর হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী  ব্যারিস্টার মইনুল ইসলাম,  শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নাজিয়া চৌধুরী, ড্যাব সভাপতি  ডা. শামিমুর রহমান,  বারাকা পাওয়ার লিমিটেড ও কুইন্স হসপিটালের  ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম আহমেদ চৌধুরী, লেখক ও গবেষক মিহির কান্তি চৌধুরী,  শ্রীহট্ট আর্কিটেকের স্বত্ত্বাধীকারী  মিনহাজুল আবেদিন চৌধুরী ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফাদার জোসেফ গোমেজ।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘১০ লাখ লোকের বসবাস এই শহরে। ইতিহাস ঐতিহ্য ও পযর্টনের শহর হিসেবে সিলেটের পরিচিতি দেশ বিদেশে সর্বত্র আছে। তাই এই সুনাম ধরে রাখতে হলে সিলেট শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। আর এই পরিচ্ছন্নতার কাজটা করে যাচ্ছে সিলেট সিটি করপোরেশন। সত্যি কথা বলতে সিসিকের বর্জ্য বিভাগে যারা কাজ করেন তাদের বেতনই আমরা ঠিকভাবে দিতে পারি না। কারণ সিসিকের সেই পরিমান আয় নেই। নগরীর যে অংশ বর্ধিত হয়েছে সেই অংশে এখনো হোল্ডিং ট্যাক্সের আওতায় আনা যায়নি নানা কারণে। কিন্তু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুফল তারাও পাচ্ছেন।  এত কিছুর মাঝেও আমাদের বর্জ্য বিভাগের দায়িত্বশীল অফিসার ও  কর্মীরা সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।  আমাদের প্রধানমন্ত্রী আমাকে সিসিকের দায়িত্ব দেওয়ার পর বলেছেন জনগণের জন্য কাজ করতে তিনি সার্বিক সহযোগিতা করবেন। তার দিকনির্দেশনা মতই আমি কাজ করে যাচ্ছি।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব শরীফ জামিল এবারের বাজেটে পরিবেশ ও নদীর কথা চিন্তা করে বরাদ্দ রাখার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ‘এই প্রথমবারের মতো বাজেটে দেশের পরিবেশের কথা চিন্তা করে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কতটুকু রাখা হয়েছে সেই তর্কে না গিয়ে সরকার প্রধানকে ধন্যবাদ জানাই। কারণ অন্তত তিনি তো দেশের পরিবেশ প্রতিবেশের কথা চিন্তায় রেখেছেন।’

‘সবুজ সাথী’ সম্মাননা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিগত চার বছর ধরে আমরা এই সসম্মাননা দিয়ে আসছি। আমার সবসময়ই সিটি করপোরেশন,  পৌরসভাসহ  বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সমালোচনাই করে থাকি।  তবে এবার যখন সম্মাননার জন্য সিলেট সিটি করপোরেশনের নাম এলো তখন মনে হয়েছে খারপ বা ভুল কাজের সমালোচনা করা যেমন জররি, তেমনি ভালো কাজের জন্য সম্মাননা জানানোও জরুরি। এতে যারা কাজ করেন তাদের কর্মস্পৃহা বাড়ে। তবে আমি সিসিক কতৃপক্ষের প্রতি আহবান জানাবো, আপনার যদি সিলেট নগরীর পরিবেশ-প্রতিবেশ ভালো রাখতে চান, তাহলে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করে এসব পরিকল্পনার কাজে আমাদের সম্পৃক্ত করুন। তাহলে সিলেট নগরীর বাসিন্দাদের জন্য সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলা যাবে।’

‘সবুজ সাথী’ সম্মাননা গ্রহণের পর সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন বলেন, ‘এই অর্জন শুধু আমাদের নয়, সমগ্র সিলেট নগরবাসীর। সবুজ সাথী সম্মাননা সিলেট মহানগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আরও ইতিবাচক ও সম্ভাবনাময় পরিবর্তন আনবে। এই সম্মাননা গ্রহণ করতে পেরে আমরা গর্বিত ও অনুপ্রাণিত। এই স্বীকৃতি কেবল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের নয়; এটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য সিলেট নগর গড়ে তোলার অভিযাত্রায় সম্পৃক্ত সকল নগরবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টারই স্বীকৃতি।’

এসএন/