ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
যেমন থাকবে আজকের আবহাওয়া পা ভাঙা রাজহাঁস নিয়ে থানায় নারী রাঙামাটিতে সেনাবাহিনীর অভিযানে ৯০ লাখ টাকার অবৈধ সেগুন কাঠ জব্দ হারিয়ে যেতে বসা হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ উদ্ধার সাহাবিদের জন্য রাসুল (সা.) কী ধরনের পোশাক পছন্দ করতেন হাঁসের বাচ্চায় বদলে যাওয়া গ্রাম নকআউটে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ কে? জেনে নিন রাউন্ড অব ৩২-এর সমীকরণ বাংলা একাডেমিতে মানিক রফিক আজাদ ও চন্দ্রাবতীকে স্মরণ ক্যালকুলেটর দিয়ে হিসাব করে ঘুষ নেন দেবীগঞ্জের পিআইও! কূটনৈতিক সাফল্য পেল পাকিস্তান বেলজিয়াম দলে ফিরছেন জেরেমি ডোকু ব্রিটেনে ১০ বছরে ৬ প্রধানমন্ত্রী, কেন বাড়ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা? আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচ ঘিরে বেরোবির স্মারক মাঠে উৎসবের আমেজ কুষ্টিয়ার মিরপুরে গায়েবি প্রকল্পে অর্থ তছরুপ রাজধানী ও গাজীপুরে আ.লীগের ৪৪ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার উপসচিব হলেই আগের এসিআর পাঠাতে হবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে হাইড্রেশন ব্রেক ম্যাচের গতি নষ্ট করছে: টুখেল বাজেট ঘোষণার পর ঊর্ধ্বমুখী রডের বাজার ফরিদপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের উদ্যোগে আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন মানবাধিকার কমিশন আইন সংশোধনের দাবি ‘মেসির মতো আর কেউ আসবে না’ বরিশালে অর্থনৈতিক ইউনিট বেড়েছে, পিছিয়ে কর্মসংস্থানে সেনেগালকে হারিয়ে নক আউট পর্বে নরওয়ে ২৩ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল সহযোগিতার নতুন দিগন্তে ঢাকা-কুয়ালালামপুর আমাদের স্যার শেয়ারবাজারে ঢালাও দরপতন ২৩ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল প্রস্তাবিত বাজেটে তরুণদের জন্য সবকিছুই থাকছে ডালাসের গর্জনে টিএসসিতে উল্লাস

শেবাচিম হাসপাতাল এলাকায় অভিযান, ৮ দালাল আটক

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম
শেবাচিম হাসপাতাল এলাকায় অভিযান, ৮ দালাল আটক
ছবি: খবরের কাগজ

বরিশালে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে দালালচক্রের ৮ সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৮)।

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে এ অভিযান চালানো হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটকদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন- মো. রুবেল (২২), তাসনিম জাহান মিম (২৩), হাফিজা আক্তার, সুমি আক্তার (১৯), লাবনী আক্তার নাজমা (২৮), আয়েশা সিদ্দিকা (৩০), ছাবিনা (৩০) ও রুমান সরদার (১৭)।

র‍্যাব-৮ সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাসপাতাল এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগে আটজনকে আটক করা হয়। তারা রোগীদের ভালো চিকিৎসার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যেতেন। এ ছাড়া আগে ডাক্তার দেখানো, হাসপাতালের বেড পাইয়ে দেওয়া এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে অবৈধভাবে টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

র‍্যাব-৮-এর কোম্পানি অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান জানান, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সাতজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে। অপর একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় সতর্কতামূলক মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, হাসপাতালকেন্দ্রিক দালালচক্র সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করছে এবং প্রতারণার মাধ্যমে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ ধরনের দালালচক্র ও আইনশৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে র‍্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মঈনুল/এসজি/

পা ভাঙা রাজহাঁস নিয়ে থানায় নারী

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
পা ভাঙা রাজহাঁস নিয়ে থানায় নারী
ছবি: রাজহাঁস নিয়ে থানায় ভুক্তভোগী নারী সুবর্ণা

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় রাজহাঁসের পা ভেঙে দেওয়ার বিচার চাইতে গিয়ে সুবর্ণা (২০) নামের এক নারী হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে বিচার চাইতে তিনি সেই রাজহাঁস নিয়ে থানার দ্বারস্থ হয়েছেন। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার দুপুরে শ্রীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই নারী।

অভিযোগে ভুক্তভোগী সুবর্ণা উল্লেখ করেন, তিনি উপজেলার বাড়ৈখালি এলাকার বাসিন্দা। সোমবার সকালে তার একটি রাজহাঁস প্রতিবেশী বিবাদীর বাড়িতে গেলে সেটির পা ভেঙে দেওয়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি প্রতিবাদ করতে গেলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

ওই নারীর অভিযোগ, তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে বিবাদীরা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি উদ্ধার হন।

আহত সুবর্ণা জানান, ঘটনার পর তিনি শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

শ্রীনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত মিল্টন দত্ত জানান, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

রাঙামাটিতে সেনাবাহিনীর অভিযানে ৯০ লাখ টাকার অবৈধ সেগুন কাঠ জব্দ

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
রাঙামাটিতে সেনাবাহিনীর অভিযানে ৯০ লাখ টাকার অবৈধ সেগুন কাঠ জব্দ
ছবি: খবরের কাগজ

রাঙামাটির জুরাছড়িতে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে ৯০ লাখ টাকার অবৈধ সেগুন কাঠ জব্দ করা হয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পাচারের উদ্দেশ্যে এসব কাঠ মজুদ করে রাখা হয়েছিল। তবে এঘটনায় পাচারকারীদের কাউকেই আটক করা যায়নি। 

সোমবার (২২ জুন) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জুরাছড়ি জোনের একটি টহল দল এসব কাঠ জব্দ করে।

জোন উপ-অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ মুশফাক আমিন চৌধুরী ও ক্যাপ্টেন মো. শাহরিয়ার পারভেজের নেতৃত্বে নির্দিষ্ট এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়।

এ সময় সেনাসদস্যরা এলাকাটি ঘিরে রেখে তল্লাশি চালিয়ে এসব কাঠ জব্দ করে। তবে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জব্দ করা কাঠ স্থানীয় বন বিভাগ ও প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

অবৈধভাবে বনজসম্পদ আহরণ ও পাচার দেশের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড রোধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

মেজর মোহাম্মদ মুশফাক আমিন চৌধুরী বলেন, স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, প্রাকৃতিকসম্পদ সংরক্ষণ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জিয়াউর জুয়েল/খাদিজা রুমি/

হাঁসের বাচ্চায় বদলে যাওয়া গ্রাম

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:২২ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
হাঁসের বাচ্চায় বদলে যাওয়া গ্রাম
দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহের জন্য হাঁসের বাচ্চা প্রস্তুত করছেন ব্যবসায়ীরা। ছবিটি তাড়াশ উপজেলার মান্নান নগর এলাকা থেকে তোলা।

একসময় দারিদ্র্য ও বেকারত্বে জর্জরিত ছিল সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের মহেশরৌহালী গ্রাম। জীবিকার সন্ধানে অনেককেই এলাকা ছাড়তে হতো। সেই গ্রামই এখন দেশের অন্যতম হাঁসের বাচ্চা উৎপাদনকেন্দ্র। হাঁসের গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পাওয়া মহেশরৌহালী থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ হাঁসের বাচ্চা দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এই শিল্প ঘিরে বদলে গেছে গ্রামের অর্থনীতি।

প্রায় তিন দশক আগে গ্রামের শাহ আলম কৃত্রিম উপায়ে হাঁসের ডিম ফুটানোর উদ্যোগ নেন। একটি হারিকেন ও ধানের তুষ ব্যবহার করে শুরু করা সেই উদ্যোগ এখন বড় শিল্পে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে গ্রামটিতে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১২০টি হ্যাচারি গড়ে উঠেছে। খামারিদের দাবি, এসব হ্যাচারিতে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ লাখ হাঁসের বাচ্চা উৎপাদিত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৯৫ সালে শাহ আলম পরীক্ষামূলকভাবে কৃত্রিম উপায়ে হাঁসের ডিম ফুটানো শুরু করেন। শুরুতে অনেকেই বিষয়টিকে অবিশ্বাসের চোখে দেখলেও দীর্ঘ গবেষণা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি সফলতা পান। তার সেই উদ্যোগই পরবর্তী সময়ে পুরো গ্রামের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করে।

প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে হারিকেন ও তুষের জায়গা দখল করেছে আধুনিক বৈদ্যুতিক ইনকিউবেটর। গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবার এখন কোনো না কোনোভাবে হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন, পরিচর্যা ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও ডিম সংগ্রহ, বাছাই ও বাচ্চা পরিচর্যার কাজে অংশ নিচ্ছেন।

খামারিদের তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদনকারীরা সাধারণত একদিন বয়সী হাঁসের বাচ্চা প্রতি পিস ৩০ থেকে ৪০ টাকায় পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন। তবে খুচরা বাজারে একই বাচ্চার দাম ৮০ থেকে ৯০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। ডিম উৎপাদনের জন্য জনপ্রিয় খাকি ক্যাম্পবেল ও ইন্ডিয়ান রানার জাতের হাঁসের বাচ্চার চাহিদা বেশি থাকায় এসব জাতের দাম তুলনামূলক বেশি।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, ‘একসময় গ্রামের মানুষের নুন আনতে পান্তা ফুরাত। এখন প্রায় প্রতিটি পরিবার এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সবাই উৎপাদন ও সরবরাহের কাজে ব্যস্ত থাকে।’

উদ্যোক্তা শাহ আলম বলেন, ‘শুরুটা ছিল খুবই কঠিন। মানুষ বিশ্বাসই করত না যে, কৃত্রিম উপায়ে হাঁসের ডিম ফুটিয়ে বাণিজ্যিকভাবে সফল হওয়া সম্ভব। কিন্তু চেষ্টা ও পরিশ্রমের ফলেই আজ এই অবস্থানে পৌঁছানো গেছে।’ তিনি জানান, এই গ্রামের উৎপাদিত খাকি ক্যাম্পবেল, বেইজিং ও ইন্ডিয়ান রানার জাতের হাঁসের বাচ্চার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

উদ্যোক্তা জামাল উদ্দিন জানান, ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে ছোট ইনকিউবেটর দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। বর্তমানে প্রায় ৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে দুটি বড় ইনকিউবেটর পরিচালনা করছেন। মাসে প্রায় ৩০ হাজার হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন করে তিনি সাড়ে ৩ লাখ টাকার বেশি আয় করছেন।

প্রতিদিন কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, বরিশাল, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা মহেশরৌহালী গ্রামে আসেন। বিশেষ খাঁচায় প্যাকেটজাত করে দেশের প্রায় সব জেলায় সরবরাহ করা হয় এসব হাঁসের বাচ্চা।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আনোয়ারুল হক বলেন, মহেশরৌহালীসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ৬০০ খামার গড়ে উঠেছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগ নিয়মিত প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও ভ্যাকসিনসহ বিভিন্ন সহায়তা দিচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহজ শর্তে ঋণ বাড়ানো গেলে এ শিল্প জাতীয় অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে পারবে।

ক্যালকুলেটর দিয়ে হিসাব করে ঘুষ নেন দেবীগঞ্জের পিআইও!

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:১১ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
ক্যালকুলেটর দিয়ে হিসাব করে ঘুষ নেন দেবীগঞ্জের পিআইও!
বাবুল চন্দ্র রায়

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাবুল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে ক্যালকুলেটরে হিসাব করে ১৫ শতাংশ কমিশন (ঘুষ) গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া পিআইওর কার্যালয়ে কয়েকজন প্রকল্প সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের সঙ্গে অর্থ লেনদেন ও কমিশন নির্ধারণসংক্রান্ত ৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, দেবীগঞ্জের পিআইও বাবুল চন্দ্র রায় কয়েকটি প্রকল্পের বরাদ্দের পরিমাণ ক্যালকুলেটরে হিসাব করে ১৫ শতাংশ কমিশনের অঙ্ক নির্ধারণ করছেন। একপর্যায়ে তিনি এক ইউপি সদস্যকে বলেন, ‘৩২ হাজার টাকা করে ৮ টন গম হলে মোট ২ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এর ১৫ শতাংশ দিলে ৩৮ হাজার টাকা হয়।’

জবাবে ওই ইউপি সদস্য বলেন, ‘স্যার, ৩৮ হাজার টাকা! একটু কম করে নেন। কাজেও তেমন লাভ হয়নি।’ তখন পিআইও বলেন, ‘মেম্বারদের কোনো দিন লাভ হয় না। আমি এতদিন পিআইও হিসেবে কাজ করছি, কোনো মেম্বারকে বলতে শুনিনি যে তার লাভ হয়েছে।’

ভিডিওর আরেক অংশে এক ব্যক্তি একটি টিআর প্রকল্পের বরাদ্দ ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করলে পিআইও ক্যালকুলেটরে হিসাব করে ২৪ হাজার টাকা কমিশনের কথা বলেন। ওই সদস্য শতভাগ কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানালে বাবুল চন্দ্র রায় বলেন, ‘আগে আপনাদের পরিষদে আসতে দেয়নি, এর পর থেকে আপনারাও আসতে দেবেন না, শোধবোধ।’

এ ছাড়া ১ লাখ ২০ হাজার টাকার প্রকল্পের বিপরীতে ১৮ হাজার টাকা এবং একাধিক প্রকল্প মিলিয়ে অন্য একজনের কাছে ৫৬ হাজার টাকা দাবি করার কথাও ভিডিওতে শোনা যায়। ভিডিওর শেষদিকে কয়েকজনকে টাকা গুনতে এবং ফাইলের সামনে অর্থ রাখতে দেখা যায়।

যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করে পিআইও বাবুল চন্দ্র রায় বলেন, ‘ওরা কাজ না করেই বিল নিতে এসেছিল। সে কারণেই এ ধরনের কথা হয়েছে।’ 
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহা বলেন, ‘বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি। জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে। স্থানীয়ভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কুষ্টিয়ার মিরপুরে গায়েবি প্রকল্পে অর্থ তছরুপ

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:২০ এএম
কুষ্টিয়ার মিরপুরে গায়েবি প্রকল্পে অর্থ তছরুপ
মিরপুর উপজেলার সাবেক ইউএনও নাজমুল ইসলাম

কুষ্টিয়ার মিরপুরে গায়েবি প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে সদ্য সাবেক ইউএনও নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে। কাগজে-কলমে ১৭টি প্রকল্পের কাজ শেষ দেখানো হয়েছে। এর বিপরীতে প্রায় ৩৪ লাখ টাকা উত্তোলনও করা হয়েছে। তবে বাস্তবে এসব কাজের কোনো অস্তিত্ব নেই। প্রকল্প কমিটির সভাপতিরা কাজের ব্যাপারে কিছুই জানেন না। ঠিকাদারি কাজে সুবিধা পেতে ও ইউএনওকে খুশি করতে চেকে সই দিয়েছেন বলে দাবি তাদের।

জানা গেছে, মিরপুর উপজেলার উন্নয়ন তহবিল থেকে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ধুবাইল ইউনিয়নের গোবিন্দগুনিয়া গ্রামের কফিল উদ্দীনের বাড়ির সামনের একটি কালভার্টের অ্যাপ্রোচ নির্মাণের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাগজে-কলমে কাজ শেষ করে টাকা উত্তোলন করেছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি সোহেল রানা। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই স্থানে কোনো কালভার্টের অস্তিত্ব নেই। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদক তথ্য অনুসন্ধান করলে নড়েচড়ে বসেন উপজেলা প্রকৌশলী জহীর মেহেদী হাসান। তিনি কাগজে-কলমে কাজটি সঠিকভাবে করা হয়েছে দেখাতে গিয়ে বিষয়টি আরও জটিল করে ফেলেন। বিল ফাইলের কাগজে ওভার রাইটিং করে ধুবাইল ইউনিয়ন কেটে বাড়ুইপাড়া ইউনিয়নের নাম লেখেনভ। তবে ধুবাইল ইউনিয়নের গোবিন্দগুনিয়া গ্রামে যেভাবে কোনো কালভার্টের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি, তেমনি সংশোধিত বাড়ুইপাড়া ইউনিয়নেও গোবিন্দগুনিয়া নামের কোনো গ্রাম খুঁজে পাওয়া যায়নি। 

অন্যদিকে, এই প্রকল্পের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি যাকে বানানো হয়েছে, সেই সোহেল রানা কাজটির বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন। তিনি জানান, সদ্য সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম লোক পাঠিয়ে একটি ২ লাখ টাকার চেকসহ কিছু কাগজে তার সই করিয়ে নিয়ে যান। এটি ছাড়া এই কাজে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ইউএনওকে খুশি করার জন্য তিনি তার কথার বাইরে যেতে পারেননি বলেও উল্লেখ করেন পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের মিরপুর শাখার ব্যবস্থাপক এবং এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি সোহেল রানা।

ঠিক এভাবেই বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ না করে লাখ লাখ টাকা তছরুপের অভিযোগ উঠেছে মিরপুর উপজেলার সদ্য সাবেক ইউএনও নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ১৭টি প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় ৩৪ লাখ টাকা উত্তোলন হলেও কাজের কোনো অস্তিত্ব মেলেনি। অধিকাংশ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতিরাই জানেন না যে তিনি কোন প্রকল্পের সভাপতি, কিংবা প্রকল্পের টাকা কোথায় খরচ করা হয়েছে। 

অভিযোগ উঠেছে, নাজমুল ইসলাম মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকার সময় তিনি একাধারে মিরপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলার পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে তিনি বনে যান ‘ক্ষমতার পাওয়া হাউস’। সেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেই ঠিকাদারি করে এসব প্রকল্পের টাকা নয়ছয় করেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয় ঠিকাদার ও জনপ্রতিনিধিদের। এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউএনও নাজমুল ইসলাম। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে একই তহবিল থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবারহ প্রকল্প বাবদ ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই টাকার বিষয়ে জানেন না প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস। তিনি বলেন, ‘ইউএনও স্যার ডেকে কিছু কাগজ আর ২ লাখ টাকার চেক সই করিয়ে নেন। আমি স্যারের কথামতো সই করে দিয়ে আসি। আমরা বিভিন্ন সময় ছোটখাটো কাজ নিয়ে স্যারের কাছে যাই, স্যার আমাদের ওপর খুশি থাকলে সেই কাজগুলো সহজেই করে দেন।’ তাই ইউএনওকে খুশি করতে চেকে সই করে দেন, এর বেশি কিছু জানেন না তিনি। 

অপরদিকে, এই প্রকল্পের টাকার কোনো চিকিৎসাসামগ্রী বুঝে পাননি বলে জানান মিরপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. পিজুস কুমার। তিনি জানান, কোনো একদিন ইউএনও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কিছু এক্স-রে ফ্লিম দিয়েছিলেন। যার দাম খুব বেশি হলেও ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা হতে পারে। তবে এটি কোন ফান্ড থেকে দেওয়া হয়েছে, সেটা তাকে বলা হয়নি। এ ছাড়া ২ লাখ টাকা বা এই পরিমাণে কোনো চিকিৎসাসামগ্রী সম্পর্কে তিনি জ্ঞাত নন।

একইভাবে মিরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছের চারা রোপণ বাবদ ২ লাখ টাকা, চেয়ারম্যান ভবন মেরামত বাবদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকাসহ প্রায় ১৭টি প্রকল্প দেখিয়ে ৩৪ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতিদের দাবি, উপজেলা প্রকৌশলী জহীর মেহেদী হাসানের সহযোগিতায় সদ্য সাবেক ইউএনও নাজমুল ইসলাম এসব প্রকল্পের টাকা তুলে নেন। 

অন্যদিকে মিরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছের চারা রোপণ বাবদ ২ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি সায়েম আলী। উপজেলা চেয়ারম্যানের ভবন মেরামত বাবদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন প্রকল্পের সভাপতি জামসেদ আলী।

তাদের কাছে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে একই জবাব পাওয়া যায়। সায়েম আলী নিজে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে ইউএনও নাজমুল ইসলামের কথামতো টাকা তার কাছে জমা দিয়ে আসেন। আর ইউএনও তার লোক পাঠিয়ে বিল ভাউচারসহ চেকের পাতায় সই করিয়ে নিয়ে যান বলে দাবি করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি জামসেদ আলী। 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ঠিকাদারদের অভিযোগ, একটি উপজেলার প্রধান সরকারি কর্মকর্তা হয়েও সদ্য সাবেক এই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাগজে-কলমে পছন্দের লোকের নাম ব্যবহার করে ‘নিজেই ঠিকাদারির’ কাজ করতেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সদ্য সাবেক মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘কাজ করতে গেলে কিছু ভুল ত্রুটি হতে পারে। আমার ক্ষেত্রে হয়তো তেমনটা হয়ে থাকবে। তবে কাজ না করে টাকা উত্তোলনের মতো কোনো কাজ করিনি।’
 
উপজেলা প্রকৌশলী জহীর মেহেদী হাসানের দাবি, ‘কাজ করা হয়েছে বিধায় বিল উত্তোলনের জন্য টাকা ছাড় করা হয়।’ 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) আহাম্মেদ মাহাবুব উল ইসলাম বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী একটি প্রকল্প পাস হলে, সেই প্রকল্পের কাজ সম্পাদনে জন্য একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি হবে। সেই কমিটির বাইরে কারও কাজ করা বা অর্থ উত্তোলনের সুযোগ নেই। যদি এসব অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তা হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবশ্যই বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’