ফরিদপুর শহরের পৌর এলাকার বিসর্জন ঘাটে বসেছে অস্থায়ী ছাগল-খাসি ও ভেড়ার জমজমাট হাট। হাট জুড়ে কোরবানির পশু কেনাবেচায় যেন উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।
রবিবার (২৪ মে) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দিনভর এ হাটে চলে ব্যাপক বেচাকেনা। দুর-দুরান্ত থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে হাট এলাকা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকাল ৯টা থেকেই একে একে খাসি, ছাগল ও ভেড়া নিয়ে হাটে আসতে থাকেন বিক্রেতারা। দুপুরের পর ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাঝে জমে ওঠে দরদাম ও কেনাবেচা। সন্ধ্যা পর্যন্ত হাটে ছিল উপচেপড়া ভিড়। কেউ পরিবার নিয়ে পশু কিনতে এসেছেন, আবার কেউ ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে একাধিক পশু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
হাটে ফরিদপুর শহর ছাড়াও সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, ভাঙ্গা, নগরকান্দা, বোয়ালমারী, মধুখালী ও রাজবাড়ী জেলার কিছু এলাকা থেকেও বিক্রেতারা পশু নিয়ে এসেছেন। স্থানীয় খামারিদের পাশাপাশি ছোট ব্যবসায়ীরাও তাদের পালিত খাসি ও ছাগল নিয়ে অংশ নেন এ হাটে।
বিক্রেতারা জানান, অন্যান্য বড় পশুর হাটের তুলনায় এখানে হাসিল তুলনামূলক কম। যার কারনে স্বাচ্ছন্দ্যে ছাগল-খাশি ও ভেড়া নিয়ে আসতে পারছেন। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ভালো থাকায় চুরি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ভয় কম।
হাটে বিভিন্ন জাতের ও আকারের খাসি, ছাগল ও ভেড়ার মধ্যে ছোট আকারের খাসির দাম ৮/৯ হাজার টাকা। মাঝারি আকারের খাসি ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় ও উন্নত জাতের খাসির দাম ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এছাড়া ভেড়ার দাম ৮ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে ওঠানামা করতে দেখা গেছে। অনেক ক্রেতা দরদাম করে কোরবানির জন্য পছন্দের পশু কিনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
খাসি কিনতে আসা ক্রেতা আকাশ খান বলেন, এখানে শুধু ছাগল-খাসি ও ভেড়া পাওয়া যায়। এখানে কোন গরু পাওয়া যায় না। পশুর দাম তুলনামূলক এবার মোটামুটি সহনীয়।
হাটে আগত মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, এখানে গরু না থাকায় হাটটি বেশ গোছালো। বউ-বাচ্চাকে নিয়ে খাসি কিনতে এসেছি। ঘুরে ঘুরে দেখলাম। যদিও এ হাটে কিনিনি, আগামী হাটে এসে কিনবো।
ছাগল-খাসি বিক্রেতা মো. আক্কাস আলী জানান, সকাল থেকেই ভালো বেচাকেনা হচ্ছে। এ হাটে বেশ কয়েকটি ছাগল-খাসি বিক্রি করেছি। আশা করছি আগামী হাটে আরও বেশি ক্রেতা আসবে।
হাটের ইজারাদার জয়নাল আবেদীন চৌধুরীর এ বিষয়ে বলেন, এটি শুধুমাত্র ছাগল-খাসি আর ভেড়া কেনাবেচার হাট। কয়েক বছর ধরে এখানে এ ধরনের হাট বসছে। এ হাটে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া পুরো হাট এলাকায় সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি রাখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, রবিবার ছিল এবারের প্রথম হাট। ঈদুল আযহার আগে বুধবার অর্থাৎ ঈদের আগের দিন এখানে সর্বশেষ আরও একটি ছাগল-খাসি ও ভেড়ার বড় হাট অনুষ্ঠিত হবে।
এন কে বি নয়ন/অন্তরা