নড়াইল সদর উপজেলার মুলিয়া ইউনিয়নে পাঁচ একর জমির ওপর নির্মিত হয়েছে হর্টিকালচার সেন্টার। অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শেষ হলেও দীর্ঘদিন ধরে এটি তালাবদ্ধ। জমি অধিগ্রহণ ও জনবল সংকটে থমকে আছে সব কার্যক্রম। ফলে কৃষকরা কোনো উন্নত বীজ বা চারা পাচ্ছেন না। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারের কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কেন্দ্রটি এখন কোনো কাজেই আসছে না।
জানা গেছে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) অধীনে সারা দেশে ৭৩টি হর্টিকালচার সেন্টার রয়েছে। এগুলোর মূল কাজ হলো কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের ফলজ, বনজ, ঔষধি ও সবজির চারা, কলম ও বীজ সুলভ মূল্যে সরবরাহ করা এবং উদ্যান পালন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া। এরই ধারাবাহিকতায় নড়াইল সদর উপজেলার মুলিয়া ইউনিয়নের বনগ্রাম এলাকায় পাঁচ একর আট শতক জমির ওপর নির্মাণ করা হয় হর্টিকালচার সেন্টার।
জানা গেছে, হর্টিকালচার সেন্টার নির্মাণ করা হলেও জমি অধিগ্রহণের কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে। জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। সদর উপজেলা কৃষি অফিসারের কাছে অবকাঠামো নির্মাণ সম্পন্ন করার পর প্রকল্পের পক্ষ থেকে হস্তান্তর করা হয়। তবে প্রকল্পটি কত টাকা ব্যয়, জমি অধিগ্রহণ বা অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় করা হয়েছে তার কোনো তথ্য নেই। ২০২৫ সালের জুন মাসে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে হর্টিকালচার সেন্টারটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। কৃষকদের জন্য এটি নির্মাণ করা হলেও কোনো কাজে আসছে না। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এটি চালু করা হোক।
স্থানীয় কৃষক বিমল বিশ্বাস বলেন, কৃষকদের জন্য এখানে একটা অফিস হয়েছে। তবে এটি সব সময় বন্ধ থাকে। আমাদের কোনো কাজে আসে না। এমন অফিস বানিয়ে লাভ কী?
আরেক বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই অফিস তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। এ অফিসের কাজ কী আমরা জানি না।
নিমাই দাস নামে আরেকজন বলেন, হর্টিকালচার সেন্টার চালু হলে আমাদের উপকার হবে। উন্নত জাতের ফলজ, বনজ, ঔষধি ও সবজির চারা, কলম ও বীজ সুলভ মূল্যে সরবরাহ করা হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে জনবল নিয়োগসহ চালুর দাবি জানান তিনি।
সদর উপজেলা কৃষি অফিসার ও হর্টিকালচার সেন্টারে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান বলেন, উন্নত মানের চারা বা কলম তৈরি করে কৃষকদের মাঝে বিতরণের জন্য হর্টিকালচার সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের কাজ এখনো কিছু বাকি রয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ হয়েছে। জনবল না থাকায় কার্যক্রম চালু করা যাচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানটি চালু হলে এ অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে উন্নত মানের বীজ, চারা ও কলম বিতরণ করা সম্ভব হবে।’
হর্টিকালচার সেন্টারের প্রকল্প পরিচালক আবদুল হালিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।