রংপুর মহানগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে সক্রিয় অপরাধচক্র শনাক্ত করে কঠোর নজরদারির আওতায় আনতে গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি)। একই সঙ্গে চোর, ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ীসহ সমাজবিরোধী চক্রগুলোর ওপর তথ্যভিত্তিক নজরদারি বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সোমবার (৯ জুন) সকাল ৯টায় আরপিএমপির হলরুমে সিটিএসবিতে কর্মরতদের অংশগ্রহণে এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) মো. হাবিবুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।
সভায় মহানগরীর সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয় এবং ওয়ার্ডভিত্তিক অপরাধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় সক্রিয় অপরাধী ও অপরাধচক্র সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ এবং নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে।
তিনি বলেন, সভায় চোর, ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী, ভবঘুরে এবং বিভিন্ন সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল ও তাদের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সাংগঠনিক তৎপরতা, সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় সদস্যদের তথ্য হালনাগাদ করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, প্রতিটি থানার আওতাধীন এলাকায় সার্বিক নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে। যেকোনো ঘটনার ক্ষেত্রে তারিখ, সময়, স্থান, ভুক্তভোগীর পরিচয় ও ঘটনার প্রকৃতি সম্পর্কে শতভাগ নির্ভুল তথ্য নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় বিশেষভাবে হাজীরহাট থানা এলাকায় সম্প্রতি জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ বেড়ে যাওয়ায় এ ধরনের ঘটনার কারণ, সংশ্লিষ্ট পক্ষ এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে আগাম তথ্য সংগ্রহের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় আরও বলা হয়, আরপিএমপির তথ্যভিত্তিক কার্যক্রমই আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সময়োপযোগী ও নির্ভুল গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে অপরাধ দমন, মাদক ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধ, অবৈধ দখলমুক্তকরণ এবং জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আরপিএমপি বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।
এর মধ্যে রয়েছে অ্যাম্বুলেন্স ও হাসপাতাল দালালচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান, মাদক ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার কার্যক্রম।
অনুষ্ঠানের শেষে পেশাগত দক্ষতা, নিষ্ঠা ও সফল তথ্যভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী কর্মকর্তা ও সদস্যদের পুরস্কৃত করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
সেলিম সরকার/খাদিজা রুমি/