মাগুরার শালিখায় চুরি করা গরু-ছাগল ও বিভিন্ন মালামাল নিয়ে পালানোর সময় খাদে আটকে যায় চোরদের ব্যবহৃত পিকআপটি। এরপর স্থানীয় জনতার ধাওয়ার মুখে পিকআপ ফেলে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। খোঁজাখুঁজির পর তিন চোরকে আটক করে পুলিশ।
বুধবার (১০ জুন) রাতে ৫ নম্বর শালিখা ইউনিয়নের শতপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আটকরা হলেন খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার কাকমারী গ্রামের মো. গোলাম মোড়ল (৩০), বাদুরগাছা গ্রামের আহাদ গাজী (২৮) এবং আড়ংঘাটা এলাকার বাসিন্দা ও পিকআপচালক মো. হাসান গাজী (২৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি নম্বরবিহীন নীল রঙের পিকআপ নিয়ে তারা শতপাড়া গ্রামে আসে এবং দুটি ছাগল চুরি করে দ্রুত এলাকা ত্যাগের চেষ্টা করে।
চুরির বিষয়টি জানতে পেরে ভুক্তভোগীরা পুলিশকে খবর দেন এবং চোরদের পিছু নেয় এলাকাবাসী। ধাওয়ার মুখে পিকআপটি শালিখা থানার গঙ্গারামপুর ও সাবেকখাটোর এলাকা অতিক্রম করে নড়াইল সদর উপজেলার কাঠাঁলবাড়িয়া গ্রামের কাছে পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়।
পিকআপ আটকে যাওয়ায় চোরেরা গাড়ি ফেলে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয় জনতা, ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি চালিয়ে তিন চোরকেই আটক করতে সক্ষম হন।
জব্দ করা পিকআপ থেকে দুইটি চুরি হওয়া ছাগল, কয়েকটি গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার করা হয়। চোর ধরতে গিয়ে কয়েকজন আহত হন। তারা শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুর রহমান খবরের কাগজকে জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে আটক ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্রের সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে তারা বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার গ্রামীণ সড়ক এবং রাস্তার ধারে থাকা গরু-ছাগল ও গবাদিপশু চুরি করে আসছিল। চক্রটি পিকআপ ব্যবহার করে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করায় তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ত। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরির মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় একজন ভুক্তভোগী বাদী হয়ে শালিখা থানায় চুরির মামলা করেছেন। একই সঙ্গে চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জব্দ করা মালামালের প্রকৃত মালিকানা যাচাই-বাছাই করে আইনি প্রক্রিয়ায় ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
কাশেমুর রহমান/থিও