নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পৌর শহরের কালিকাপুর মহল্লার একটি বিলাসবহুল বাড়ি এখন যেন এক ছোট্ট জার্মানি। কারণ, ওই বাড়ির দিকে দৃষ্টি পড়লেই মনে হয় যেন জার্মানি। এর মূল কারণ বিশালাকার জার্মান পতাকা। প্লাস্টিকের পাইপ, বাড়ির দেয়াল এমনকি ছাদেও পতপত করে উড়ছে জার্মানির পতাকা।
জানা গেছে বাড়ির মালিক জার্মান প্রবাসী সাগর কুলেন্তুনু।
সাগর কুলেন্তুনুর স্বজন ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জার্মান প্রবাসী সাগর কুলেন্তুনুর বাড়ি ও আঙিনা মিলিয়ে প্রায় এক একর জায়গা। বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ উপলক্ষে জার্মান দলের সমর্থনে ওই বাড়ি সাজানো হয়েছে জার্মানির জাতীয় পতাকায়।
জার্মানির সমর্থকরা ওই দৃশ্য দেখে অভিভূত ও অনুপ্রাণিত।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির মালিকপক্ষ ওই বাড়ি ও আঙিনায় ৪০টি জার্মান জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করেছেন। এর পাশাপাশি রয়েছে ১০টি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।
তবে নিজ জন্মভূমি বাংলাদেশের সম্মান উচ্চে রাখতে জার্মান পতাকার চেয়ে ১ ফুট উঁচুতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, ওই বাড়ির দেয়াল ও টিনের ছাদ ছাড়াও বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ২০০টির বেশি গাছ জার্মান পতাকার রঙে রাঙানো হয়েছে।
ওই বাড়ির আঙিনায় ফুটবল মাঠের আদলে সাজানো হয়েছে। সেখানে জার্মান জাতীয় দলের সব খেলোয়াড়ের প্রতিকৃতি বসানো হয়েছে। পাশেই রয়েছে গোলপোস্ট।
তৈরি করা মাঠের মাঝখানে বিশ্বকাপের প্রতিকৃতি রয়েছে, যেখানে গত চারবারের বিশ্বকাপজয়ের সালগুলো উল্লেখ করা হয়েছে।
জার্মান সমর্থক ও স্থানীয়দের দাবি, নান্দনিক এই সাজসজ্জা পথচারী ও দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ছে। অনেকেই সেখানে গিয়ে সেলফি ও ছবি তুলছেন।
সংশ্লিষ্ট পরিবার সূত্রে জানা যায়, সাগরের বাবা সুবাস কুলেন্তুনু ঢাকাস্থ আমেরিকান ক্লাবে চাকরি করতেন। মা কানন গমেজ গৃহিণী। বাবা-মায়ের তিন ছেলের মধ্যে সাগর মেজো। তার বর্তমান বয়স ৩৬ বছর।
তিনি ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর চট্টগ্রামের চকরিয়া ব্যাপ্টিস্ট মিশন হাসপাতালে প্যাথলজি বিষয়ে ডিপ্লোমা করেন। পাশাপাশি চকরিয়া সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক (সম্মান) সম্পন্ন করেন।
২০১৪ সালের মে মাসে সাগর কুলেন্তুনুর বাবা মারা যান। এরপর সেপ্টেম্বর মাসে তার বড় ভাই কল্লোল কুলেন্তুনু বাহরাইনে চাকরির জন্য যান। পরে ভাইয়ের সহযোগিতায় নভেম্বর মাসে সাগর কুলেন্তুনু বাহরাইনের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে প্যাথলজি বিভাগে চাকরিতে যোগ দেন। এরপর ২০১৬ সালে বাহরাইন থেকে জার্মানিতে নার্সিং বিষয়ে পড়াশোনার জন্য যান এবং পাশাপাশি জার্মান ভাষা শেখেন।
নার্সিংয়ে ডিপ্লোমা অর্জনের পর তিনি জার্মানির ডর্টমুন্ডের একটি হাসপাতালে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি ওই হাসপাতালের নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর পদে কর্মরত আছেন।
স্থানীয়দের দাবি, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে সাগর যশোরের মেয়ে এমলিনা সরকারকে বিয়ে করেন। ওই সময়ও তিনি বনপাড়া পৌর শহরের কালিকাপুরের নিজ বাড়িটি জার্মান পতাকার আদলে সাজান। এবার বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে আবারও বাড়িটি সাজানো হয়েছে।
ওই বিষয়ে জানতে চাইলে সাগর কুলেন্তুনুর মা কানন গমেজ জানান, ছেলে জার্মানি থেকে ভিডিও কলে নির্দেশনা দিয়েছেন, সেই অনুযায়ী বাড়ি সাজানো হয়েছে।
জার্মান দলের সমর্থক ও স্থানীয় এক অধিবাসী জানান, ওই অপূর্ব দৃশ্য তাদের অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি সেখানে গিয়ে সেলফিও তুলেছেন।
স্থানীয় অধিবাসী রেজাউল করিম রেজা জানান, প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা ওই বাড়ি দেখতে আসছেন। এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্যে তারা সবাই অভিভূত।
কামাল/রিফাত/