রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় মো. আসাদুজ্জামান (২৪) নামের এক যুবকের হাত-পা বাঁধা ও অগ্নিদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যার পর মরদেহ আগুনে ঝলসে দিয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) সকালে মদাপুর ইউনিয়নের সূর্যদিয়া গ্রামে দাখিল মাদরাসার সামনের মাঠে, ভাটিয়াপাড়া রেলপথ ও চন্দনা নদীর তীরে তোরণ মেম্বারের জমি থেকে তার বিকৃত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত আসাদুজ্জামান মদাপুর ইউনিয়নের বিল মানুষমারি গ্রামের মো. শাহজাহান মন্ডলের ছেলে। তিনি মীর মোশাররফ হোসেন কলেজের ছাত্র ছিলেন এবং পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার সঙ্গে কৃষিকাজ করতেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১৪ জুন) বাদ আসর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন আসাদুজ্জামান। রাত ৮টার দিকে তিনি সৌদি প্রবাসী দুলাভাইয়ের কাছে মোবাইলে জরুরি ৫ হাজার টাকা প্রয়োজন বলে জানান। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
নিহতের ফুপাতো ভাই মো. হাফিজুল ইসলাম এবং স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল মোল্লা খবরের কাগজকে জানান, আসাদুজ্জামান অত্যন্ত নম্র ও ভালো স্বভাবের ছেলে এবং এলাকায় কারও সঙ্গে তার কোনো বিবাদ বা শত্রুতা ছিল না। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
খবর পেয়ে কালুখালী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এ বিষয়ে পাংশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার দেবব্রত সরকার খবরের কাগজকে বলেন, 'এটি অত্যন্ত নৃশংস ঘটনা। একটি পাটক্ষেতের পাশ থেকে হাত-পা বাঁধা ও অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটনে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং আশা করছি খুব দ্রুতই অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।'
সুমন বিশ্বাস/থিও/