রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে মাদক ব্যবসা। র্যাব ও পুলিশের একাধিক অভিযানেও মাদক কারবারিরা বন্ধ করেনি তাদের অপরাধ কর্মকাণ্ড।
রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত যৌথ বাহিনী গোটা জেনেভা ক্যাম্প কর্ডন করে অভিযান চালিয়েছে।
সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের নির্দেশনায় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়।
এ সময় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী পিচ্চি রাজা ও তিন নারীসহ ৩৫ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানে ২টি পিস্তল, ২০ রাউন্ড গুলি, ৬টি চাইনিজ কুড়াল, ৩৯টি ছুরি, ১৬টি রাম দা, ৮টি চাপাতি, ১২ প্যাকেট স্প্লিন্টার, ৫৩টি পেট্রল বোমা ও ৫০টি হেলমেট উদ্ধার করা হয়েছে। আটকরা হলেন, রাজিউল ইসলাম ওরফে পিচ্চি রাজা, সোহেল, আরমান, মুনায়েম, লাল মোহাম্মদ, আবির, সবুজ, দিলখোস, রোহান ও খাবির। অন্যদের নাম জানা যায়নি।
এ বিষয়ে র্যাব-২ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শিহাব করিম জানান, জেনেভা ক্যাম্পে যৌথ বাহিনীর অভিযান চালানো হয়েছে। এ অভিযানে র্যাবও অংশ নিয়েছিল। ওই অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী আটকসহ বেশকিছু অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। আটকদের মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সোহরাব হাসান নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, জেনেভা ক্যাম্প ঢাকার মাদকের বড় একটি হাট। এই ক্যাম্প ঘিরে মাদকের বড় সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। ক্যাম্পে মাদকের ব্যবসা করে প্রায় ১৪টি ছোট ও বড় চক্র রয়েছে। এই চক্রগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যদের ঘুষ দিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে মাদকের কারবার করে যাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক র্যাব-২ এর এক কর্মকর্তা খবরের কাগজকে জানান, জেনেভা ক্যাম্পে মাদক ব্যবসা নিয়ে একাধিক পক্ষের দ্বন্দ্ব রয়েছে। কয়েক দিন আগে এদেরই দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। তারা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছে। দুই পক্ষের সংঘর্ষের কারণে সাদ্দাম হোসেন সনু নামে এক রিকশাচালক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ১৭ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত জেনেভা ক্যাম্প। খুবই ঘনবসতিপূর্ণ এই ক্যাম্পে বাংলাদেশে আটকে পড়া বিহারিদের সবচেয়ে বড় আবাসস্থল।