ময়মনসিংহের তারাকান্দায় টর্চার সেলে আটকে নির্যাতন করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে এক ছাত্রদল নেতা ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১১ আগস্ট) ভোরে দুই সহযোগী ও রাত ৯টার দিকে ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হিজবুল আলম জিয়েস (২৬) একই উপজেলার বানিহালা ইউনিয়নের মাঝিলি গ্রামের বাসিন্দা এবং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। আর তার দুই সহযোগী রাফি (১৯) ও আবদুল্লাহ (২০) একই উপজেলার বাসিন্দা।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বিকেলে হিজবুলকে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে সোমবার আদালতের নির্দেশে তার দুই সহযোগীকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে টর্চার সেলে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ভিডিও কলে হিজবুলকে রেখে তার দুই সহযোগী এক যুবককে করছে। ওই যুবকের গলায় অস্ত্র ধরে ৪০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পরে চাঁদার টাকা দিতে রাজি হলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের আগস্টের পর বানিহালা ইউনিয়নে ব্যাপকভাবে আধিপত্য বিস্তার করেন হিজবুল। বিভিন্ন ব্যক্তিকে তার টর্চার সেলে আটকে রেখে নির্যাতন করে টাকা আদায় করতেন। গত ৮ আগস্ট মাঝিয়ালি বাজারে চুল কেটে টাকা না দিয়ে উল্টো দোকানি হক মিয়ার কাছে পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে হিজবুল। টাকা না দেওয়ায় সেলুন বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে হক মিয়াকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে সেলুনে তালা লাগিয়ে দেয়। পরদিন বিকেলে ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসম্পাদক মামুন সরকারের আশ্বাসে সেলুন খুলেন হক মিয়া। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে মামুনকে মারধর করেন হিজবুল। এ ঘটনায় সোমবার (১২ আগস্ট) তারাকান্দা থানায় মামুন বাদী হয়ে মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে হিজবুলকে প্রধান আসামি ও ৪-৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করে। এই মামলায় হিজবুল ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় মাঝিয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে হিজবুলের একটি মাছের খামারে গড়ে তোলা ‘টর্চার সেল’ থেকে নির্যাতনে ব্যবহৃত বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার করা হয় নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পও।
মারধরের শিকার হক মিয়া বলেন, ‘চুল কাটার পর পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে হিজবুল। টাকা না দিলে হিজবুল ও তার অনুসারীরা আমাকেসহ আমার বড় ভাই লাক মিয়াকেও মারধর করে দোকানে তালা লাগিয়ে দেয়। পরে মামুন ভাইয়ের কথায় দোকান খুললে আবার আক্রমণ করে মামুন ভাইকে মেরে রক্তাক্ত করা হয়।’
মাঝিয়ালি গ্রামের জুয়েল ও রাসেল হিজবুলের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তারা জানান, প্রভাব খাটিয়ে তাদের কাছে টাকা পাবে মর্মে ভিডিও ‘স্বীকারোক্তি আদায়’ করতে মারধর করেন হিজবুলসহ তার সহযোগীরা। প্রাণনাশের ভয়ে স্বীকারোক্তি দেওয়া হয়েছে।
ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসম্পাদক মামুন সরকার বলেন, ‘হিজবুল গত বছরের ৫ আগস্টের পর চাঁদাবাজিসহ নানা কর্মকাণ্ডে বেপরোয়া হয়ে পড়েন। সংগঠনের পদ ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, তার টর্চার সেলে সাধারণ মানুষকে ধরে এনে নির্যাতন, মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে থাকে। চুল কেটে নাপিতকে টাকা না দিয়ে উল্টো চাঁদা দাবি করা ছাত্রদলের আদর্শের পরিপন্থি। এর প্রতিবাদ করায় হিজবুল আমাকে মারধর করে আহত করেছে। তাই মামলা করেছি।’
ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন তালুকদার বলেন, ‘ঘটনাটি আমাদের নজরে এসেছে। ফলে সোমবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে হিজবুলকে তার পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ টিপু সুলতান বলেন, ‘হিজবুলকে মঙ্গলবার বিকেলে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার দুই সহযোগীকে সোমবারই আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।’
কামরুজ্জামান/সালমান/