ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
চট্টগ্রামে এইডসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা ময়মনসিংহ বিভাগ: নীরবে বাড়ছে এইচআইভির বিস্তার বরিশালে ভুয়া ভাড়ার তালিকা নিয়ে বিভ্রান্তি শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক নীলিমাইব্রাহিমের মৃত্যুবার্ষিকী আজ নদী খননের মাটির নিচে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পশুর শিংয়ে নান্দনিক শিল্পকর্ম কসাইয়ের ‘এইভাবে পইড়া থাকলে বাচ্চা দুইডা মইরা যাইব’ ছড়িয়ে পড়ছে এইডস: আক্রান্ত তরুণ ও শিক্ষার্থীরা কালীগঙ্গা নদীর ওপর সেতু আছে, তবু খেয়া পারাপার ১৮ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৮ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল প্রথম জয়ের খোঁজে… বসনিয়া চ্যালেঞ্জ সুইসদের ১৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি কানাডার সামনে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নরা ৬ গোলের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে হারাল ইংল্যান্ড দুবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরল ক্রোয়েশিয়া ফুটবল তার শক্তি দেখাল, মাঠে আসছেন ভোজিনহার মা বিশ্বমঞ্চে নিস্তেজ রোনালদো রোনালদোর পর্তুগালকে আটকে দিয়ে বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গোর ইতিহাস অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস বিশ্বকাপে প্রথম গোলে পর্তুগালের বিপক্ষে সমতায় কঙ্গো ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল মেসির পর রোনালদোর কীর্তি পর্তুগালের একাদশে রোনালদো ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন লায়লা বাউলের পাশে দাঁড়াল সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের
Nagad desktop

ঝাড়ফুঁকের সময় ধর্ষণের চেষ্টা, দেখে ফেলায় মা-মেয়েকে হত্যা

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:১৪ এএম
আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:২৬ এএম
ঝাড়ফুঁকের সময় ধর্ষণের চেষ্টা, দেখে ফেলায় মা-মেয়েকে হত্যা
সুমাইয়া আফরিন-তাহমিনা বেগম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন ও তার মা তাহমিনা বেগমকে হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. মোবারক হোসেন (২৯) নামে এক কবিরাজকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশ বলেছে, ভুক্তভোগীদের বাসায় ওই কবিরাজের যাতায়াত ছিল। ঝাড়ফুঁক করার সময় তিনি সুমাইয়াকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। মা দেখে ফেলায় প্রথমে তাকে বালিশচাপা দিয়ে এবং পরে সুমাইয়াকে গলা টিপে হত্যা করা হয়।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন ও বিচার চেয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটার দিকে কুমিল্লা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খান গ্রেপ্তারের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।

এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার সময় কুমিল্লা নগরীর বাগিচাগাঁও এলাকা থেকে মোবারক হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি জেলার দেবিদ্বার উপজেলার কাবিলপুর গ্রামের মৃত আবদুল জলিলের ছেলে।

মোবারক হোসেনকে মূল হত্যাকারী আখ্যায়িত করে এসপি নাজির আহমেদ বলেন, ‘ঝাড়ফুঁক করার সুবাদে মোবারক হোসেন সুমাইয়া আফরিনদের বাসায় যাতায়াত করতেন। রবিবার সকাল সাড়ে ৮টায় সুমাইয়াদের ভাড়া বাসা নগরীর কালিয়াজুড়ী এলাকায় নেলি কটেজ নামক বাসায় প্রবেশ করেন মোবারক। এরই মধ্যে তিনি তাদের বাসায় ঝাড়ফুঁক করে পানি ছিটিয়ে বেরিয়ে যান। আবার বেলা সাড়ে ১১টায় ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন, যা সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা গেছে।’

পুলিশ সুপার বলেন, ‘মোবারক তাদের বাসায় থাকাকালীন একপর্যায়ে সুমাইয়া আফরিনকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় তার মা বাধা দেন। এতে মোবারক ক্ষুব্ধ হয়ে সুমাইয়াকে একটি রুমে আটকে রাখেন। পরে মা তাহমিনা বেগমকে অন্য একটি রুমে নিয়ে বালিশচাপায় হত্যা করেন। এরপর সুমাইয়াকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় সুমাইয়া প্রতিরোধ করলে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মোবারক সুমাইয়াদের ঘর থেকে চারটি মোবাইল ফোন ও একটি ল্যাপটপ নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান।’

ধর্ষণ হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, ‘বিষয়টি ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপারের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ‘আগের দিন আপনারা একজনকে আটক করে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে বলেছিলেন, আজকে বলছেন মোবারক মূল অভিযুক্ত।’ তখন পুলিশ সুপার বলেন, ‘আগের দিন যাকে আটক করা হয়েছিল তিনিও কবিরাজ। তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছিল। আজকে যে মোবারককে গ্রেপ্তার করা হয়েছেন তিনি মূল অভিযুক্ত। সিসিটিভি ফুটেছে তাকেই দেখা গেছে।’ 

এদিকে মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সুপার জানালেও তার কার্যালয়ের সামনে গতকাল দিনভর বিক্ষোভ করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, ‘আমরা প্রকৃত ঘটনা জানতে চাই। কেন হত্যা করা হলো বিষয়টির সুস্পষ্টতা দরকার। তার আগের দিন আপনারা (পুলিশ) একজনকে গ্রেপ্তারের কথা বলেছেন। আজকে এসে আরেকজনকে গ্রেপ্তারের কথা বলছেন, আমরা প্রকৃত মোটিভ জানতে চাই। পুলিশ সুপারের কাছ থেকে এ বিষয়ে সরাসরি বক্তব্য শুনতে চাই।’

এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপারের কাছে দুবার প্রতিনিধি পাঠালেও বেলা সোয়া ৩টা পর্যন্ত পুলিশ সুপার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।

নিহত সুমাইয়া আরফিন (২৩) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি কুমিল্লা নগরীর সুজানগর এলাকার বাসিন্দা ও কুমিল্লা আদালতের সাবেক হিসাবরক্ষক মৃত নুরুল ইসলামের মেয়ে। তারা গত চার বছর ধরে নগরীর কালিয়াজুড়ী এলাকায় নেলি কটেজের দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন। সোমবার সকালে ওই বাসা থেকে সুমাইয়া আফরিন ও তার মা তাহমিনা বেগমের লাশ উদ্ধার করা হয়। মা ও বোনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বড় ভাই ফয়সাল বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন। 

গফরগাঁওয়ে স্বামীকে ঘরে বেঁধে গৃহবধূকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম
গফরগাঁওয়ে স্বামীকে ঘরে বেঁধে গৃহবধূকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে স্বামীকে ঘরে বেঁধে স্ত্রীকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার পাগলা থানার নিগুয়ারী ইউনিয়নের কুরচাই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর বুধবার (১৭ জুন) গৃহবধূর মা পাগলা থানায় অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পারিবার সূত্রে জানা যায়, ওই গৃহবধূ তার মায়ের বাড়িতে বসবাস করছিলেন। একই বাড়ির পৃথক কক্ষে তিনি স্বামী ও তিন বছর বয়সি সন্তান নিয়ে থাকতেন। রাত ১টার দিকে মুখোশধারী সাত-আটজন দুর্বৃত্ত ঘরে ঢুকে স্বামীকে বেঁধে মারধর করেন। পরে তারা গৃহবধূকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে প্রায় দেড় শ মিটার দূরে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীকে চিকিৎসা ও পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিবদ্ধ করা হবে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

কামরুজ্জামান মিন্টু/আজহার/

জয়পুরহাটে পুত্রবধুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০২:১১ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম
জয়পুরহাটে পুত্রবধুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার
ছবি: খবরের কাগজ

জয়পুরহাট সদর উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকায় পুত্রবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সাকোয়াত হোসেন আদা নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল মঙ্গলবার ভিকটিম বাদী হয়ে জয়পুরহাট সদর থানায় মামলা করলে রাতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার সাকোয়াত হোসেন একই এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় বটতলী বাজারের একজন জিলাপি ব্যবসায়ী।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত ৮ জুন বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে সাকোয়াত হোসেন তার পুত্রবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

জয়পুরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিকী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ

এদিকে আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুরের খাতুনে জান্নাত মহিলা কওমি মাদরাসার পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে মাদরাসাটির পরিচালকের স্বামী জায়ের আলীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৬ জুন) শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে আক্কেলপুর থানায় মামলা করেছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, মাদরাসাটির পরিচালক আফরোজার স্বামী জায়ের আলী দীর্ঘদিন ধরে ওই শিক্ষার্থীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। গত ১৩ জুন আফরোজা বেগম মাথায় তেল দেওয়ার জন্য ওই শিক্ষার্থীকে তার কক্ষে ডাকেন। একপর্যায়ে তিনি প্রকৃতির ডাকে  সাড়া দিতে বাইরে গেলে কক্ষে থাকা জায়ের আলী শিক্ষার্থীর শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করেন। শিক্ষার্থীর চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে বিষয়টি পরিবারকে জানানো হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্তের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে আফরোজা বেগম বলেন, ঘটনাটি সত্য নয়। প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

‎আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সাগর কুমার/খাদিজা রুমি/

কালুখালীতে অগ্নিদগ্ধ মরদেহ: মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৩১ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
কালুখালীতে অগ্নিদগ্ধ মরদেহ: মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৩
ছবি: খবরের কাগজ

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় যুবক আশাদুল ইসলামকে হত্যা করে মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঋণের টাকা পরিশোধ নিয়ে বিরোধের জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে জানায় পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গত ১৫ জুন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের সূর্যদিয়া গ্রামের একটি মাদরাসার পেছনের পাটখেত থেকে আশাদুল ইসলামের (২২) অগ্নিদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি উপজেলার বিল মানুষমারি গ্রামের শাহজাহান মণ্ডলের ছেলে।

ঘটনায় নিহতের বাবা শাহজাহান মণ্ডল বাদী হয়ে কালুখালী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পর কালুখালী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে।

পুলিশ জানায়, প্রায় চার মাস আগে আশাদুল ইসলাম মদাপুর গ্রামের কাউসার শেখের ছেলে মিজান শেখের (২৪) কাছ থেকে ৬৮ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধ করতে না পারায় দুজনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মিজান শেখ ও তার সহযোগীরা আশাদুলকে হত্যা করেন। পরে হত্যার আলামত নষ্ট এবং পরিচয় গোপনের উদ্দেশ্যে মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) দেবব্রত সরকারের নেতৃত্বে কালুখালী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি যৌথ টিম অভিযান চালিয়ে মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তাররা হলেন- মদাপুর গ্রামের মিজান শেখ (২৪), পশ্চিম রতনদিয়া গ্রামের আসমত মণ্ডলের ছেলে আনোয়ার মণ্ডল (৪৪) এবং সূর্যদিয়া গ্রামের শাহাজউদ্দীনের ছেলে আব্দুল করিম মোল্লা (৩৫)।

পুলিশ আরও জানায়, মামলার মূল আসামি মিজান শেখ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, রক্তমাখা একটি হেলমেট, একটি এসএস পাইপ (রড) এবং একটি লোহার ফোল্ডিং স্টিক উদ্ধার করা হয়েছে।

কালুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল বলেন, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মিজান শেখ। তার কাছ থেকেই ভিকটিম টাকা ধার নিয়েছিল। ঋণের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। হত্যার পর মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, যাতে কোনো ধরনের আলামত বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট না থাকে।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সুমন বিশ্বাস/খাদিজা রুমি/

জাল ভিসায় ইউরোপে মানব পাচারের অভিযোগ

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
জাল ভিসায় ইউরোপে মানব পাচারের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

জাল ‘শেনজেন’ ভিসায় ইউরোপের দেশ ইতালিতে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আখলাছুর রহমান (৪০) বিমানের জুনিয়র অফিসার (গ্রাউন্ড সার্ভিস, আইএনএস গেট) হিসেবে কর্মরত। গতকাল মঙ্গলবার (১৬জুন) ভোরে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলক্ষীয়া বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।
 
গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লা জানান, ইতালিতে চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে মানব পাচারকারী একটি চক্র কয়েকজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকায় চুক্তি করে। চুক্তির ২০ লাখ টাকা অগ্রিম নিয়ে তাদের নেপাল ও ইতালিগামী টিকিট, বোর্ডিং পাস এবং ইতালির ভুয়া শেনজেন ভিসা সরবরাহ করে চক্রটি।

সিআইডি জানায়, গত ২৬ মে বিমানের একটি ফ্লাইটে ইতালির উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর রোমের ফিউমিচিনো লিওনার্দো দা ভিঞ্চি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তারা পৌঁছালে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ভিসাগুলো পরীক্ষা করে জাল বলে শনাক্ত করেন। পরে ভুক্তভোগীদের আটক রেখে দুই দিন পর ২৮ মে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। দেশে ফিরলে ইমিগ্রেশন পুলিশ, সিআইডি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার বিস্তারিত তথ্য দেন। সেই তদন্তে উঠে আসে, মানব পাচারকারী চক্রটি বৈধ কর্মসংস্থানের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে জাল ভিসা সরবরাহের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছে। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়েছে। পরে গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তে বিমানের ওই জুনিয়র অফিসার আখলাছুর রহমানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার বদরুল আলম বলেছেন, এ ধরনের অপকর্মে একাধিক সংস্থার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। মানব পাচারে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মানব পাচার চক্রের মূল হোতা ও অন্যান্য সহযোগীকে শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মসংস্থান বা অভিবাসনের ক্ষেত্রে শুধু সরকার অনুমোদিত ও বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানান সিআইডির এই কর্মকর্তা।

গোপালগঞ্জে যৌতুকের জন্য স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ১০:১১ পিএম
গোপালগঞ্জে যৌতুকের জন্য স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন
প্রতীকী ছবি

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় যৌতুকের দাবিতে শিল্পী বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ইকবাল সিকদারের বিরুদ্ধে। হতভাগা শিল্পী বেগম তিন সন্তানের জননী ছিলেন। মাকে হারিয়ে তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে এখন দিশেহারা।

সোমবার (১৫ জুন) সকালে কোটালীপাড়া উপজেলার রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের বুরুয়াবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘাতক ইকবালের বাড়ি উপজেলার রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের বুরুয়ারবাড়ী গ্রামে।

নিহত শিল্পী বেগমের ভাই ছারোয়ার কাজী অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকসহ নানা অজুহাতে আমার বোনের ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন স্বামী ইকবাল সিকদার। গত রবিবার রাতে তাকে পুনরায় অমানুষিক নির্যাতন ও বেদম মারপিট করা হয়। মারধরের একপর্যায়ে শিল্পী বেগমের মৃত্যু হলে ঘাতক স্বামী মরদেহটি গোয়ালঘরে ফেলে পালিয়ে যান। আমরা আমার বোনের হত্যাকারীর ফাঁসি চাই।

কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রিয়াদ মাহমুদ জানান, সকালে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী ইকবাল সিকদার পলাতক থাকলেও, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্তের বড় ভাই জাকির সিকদারকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বাদল সাহা/নাঈম