নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে গত ছয় মাসে হত্যা, ডাকাতি, ধর্ষণ ও ছিনতাইসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত অক্টোবর থেকে চলতি মার্চ পর্যন্ত উপজেলায় অন্তত ৯টি হত্যাকাণ্ড, ৬টি ডাকাতি, ১৩টি ছিনতাই এবং দুটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বছরের ১৪ অক্টোবর কাইকারটেকে রেস্টুরেন্ট কর্মী সায়মার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। এরপর ২৮ নভেম্বর নোয়াগাঁ ও চৈতি কম্পোজিট এলাকা থেকে দুই যুবক এবং ২৮ ডিসেম্বর ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে ওমরের লাশ উদ্ধার করা হয়। ২০ জানুয়ারি মুছারচরে অটোরিকশাচালক সোহেল রানা ও ৩০ জানুয়ারি মোগরাপাড়ায় এক অজ্ঞাত যুবকের লাশ পায় পুলিশ। এ ছাড়া ১৬ ফেব্রুয়ারি এশিয়ান হাইওয়েতে আরেক যুবক, ১৫ ফেব্রুয়ারি সুদের জেরে নাঈম নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা এবং ১ মার্চ কাঁচপুর থেকে এক কিশোরের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে।
সোনারগাঁয়ের বসতবাড়ি ছাড়িয়ে এখন ঢাকা-চট্টগ্রাম ও এশিয়ান হাইওয়ে ডাকাতদের অভয়ারণ্য। গত ২৪ ডিসেম্বর এক রাতেই পিরোজপুর, নয়াগাঁও ও আষাঢিয়ারচরে তিনটি বড় ডাকাতি হয়। এতে বিএনপি নেতা শহীদসহ পাঁচজন আহত হন এবং তাদের সর্বস্ব লুট হয়। ৩ জানুয়ারি মেঘনা ব্রিজে যানজটের মধ্যে মাওলানা আবু আইয়ুব আনসারীসহ বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়। এ ছাড়া এশিয়ান হাইওয়েতে ৫ জনকে কুপিয়ে টাকা লুট, প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি ও দড়িকান্দি থেকে চালভর্তি ট্রাক ছিনতাইয়ের ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান ঝিমিয়ে পড়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। ফলে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত। কাঁচপুর ও মোগরাপাড়ায় প্রতিনিয়ত ঘটছে ছিনতাই ও শ্লীলতাহানি। গত ২ মার্চ কুতুবপুরে এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তকে ধরে পুলিশে দিলেও অনেক ক্ষেত্রে মামলা নিতে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে।
মাদকের ভয়াবহ বিস্তারে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, ‘সোনারগাঁয়ের আনাচে-কানাচে মাদক ছেয়ে গেছে; পুলিশের ভূমিকা এখানে প্রশ্নবিদ্ধ।’ তিনি অবিলম্বে মাদক বিক্রেতাদের তালিকা প্রকাশ ও তা নির্মূলের নির্দেশ দেন। সোনারগাঁ শাখার সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মামুন বলেন, ‘পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় মানুষের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।’
অভিযোগ অস্বীকার করে সোনারগাঁ থানার ওসি মো. মহিববুল্লাহ বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক। প্রতিটি ঘটনায় মামলা ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ। ঘরে বসে উদ্বিগ্ন না হয়ে তথ্য নিয়ে থানায় আসার আহ্বান জানাই।’ এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, চেকপোস্ট ও বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে অপরাধ নির্মূলে কাজ চলছে। ঈদের পর আরও জোরদার হবে।