কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এস এস দারুল খাঈর মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারে অভিযোগ উঠেছে ওই মাদরাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ওই শিক্ষকের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকালে ফুলবাড়ী উপজেলার রাবাইতারী এলাকায় খড়িবাড়ী বাজার টু নাগেশ্বরী পাকা সড়কের পাশে অবস্থিত মাদ্রাসার প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন তারা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাড়ি উপজেলার রামরাম সেন গ্রামে। অভিযুক্ত শিক্ষক হামিদুল হক নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা।
মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়, গত রবিবার (৫ এপ্রিল) রাতে ওই শ্রেণির অন্য শিক্ষার্থীরা পাশে একটি অনুষ্ঠান দেখতে যায়। তখন মাদ্রাসায় অবস্থান করা তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে একা পেয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক হামিদুল হক বলাৎকার করেন। শিশুটি বাড়ি যেতে চাইলে আটকে রাখেন ওই শিক্ষক।
পরদিন সোমবার বাবার অসুস্থতার কথা বলে বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি জানায় শিশুটি। ঘটনা জানাজানি হলে সোমবার রাতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদ্রাসাটিতে তালা ঝুলিয়ে দেন।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক রয়েছেন। দ্রুত ঘটনা তদন্ত করে দোষী শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয় মানববন্ধনে।
এদিকে, শিশু শিক্ষার্থীর বড় ভাই জানান, সেদিন রাতে সবাই বাইরে অনুষ্ঠানে থাকায় ওই শিক্ষক সুযোগ নিয়ে তার ওপর নির্যাতন চালায়। তার ভাই বাড়িতে এসে কান্নাকাটি করে সব জানায়। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই চান তারা
কথা বলতে শিক্ষক হামিদুল হকের মোবাইল ফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস ছালাম সুজা জানান, এই জঘন্য ঘটনার সঙ্গে যে শিক্ষক জড়িত আমি তার শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈম জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় এসে মৌখিক অভিযোগ করেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গোলাম মাওলা/নাঈম