চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় ইয়াবাসহ মো. কামাল ওরফে পিচ্চি কামালকে সেনাবাহিনীর হাতে ধরিয়ে দিয়েছে এমন সন্দেহে শাহাদাত হোসেন নামে এক চা-পান বিক্রেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গতকাল রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়নের চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া রাস্তার মাথা মডেল মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) ভোর ৫টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহাদাতের মৃত্যু হয়।
নিহত শাহাদাত হোসেন উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজপাড়া এলাকার মৃত মোহাম্মদ শফির ছেলে। তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
ঘটনার পর পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালালেও কাউকে এখনও পর্যন্ত আটক করতে পারেনি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের পরিবারসূত্রে জানা যায়, রবিবার শাহাদাত সাতকানিয়া রাস্তার মাথা মডেল মসজিদ এলাকায় তার টং দোকানের সামনে বসে মোবাইল ফোন দেখছিল। রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং তিন-চারটি মোটরসাইকেলে ১০-১৫ জনের মুখোশধারী দুর্বৃত্ত দোকানের সামনে নেমে তার পিছন থেকে হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়।
পরে শাহাদাতকে প্রথমে উপজেলার কেরানীহাট এলাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। সেখানে আইসিইউ খালি না থাকায় নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোর ৫টার টার দিকে শাহাদাত মারা যান।
নিহত শাহাদাত হোসেনের বড় ভাই মোবারক হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমার ভাই দোকানের সামনে একটি চেয়ারে বসে মোবাইল দেখছিলেন। ওই সময় পিচ্চি কামালের নেতৃত্বে ১০-১৫ জনের সন্ত্রাসী দল অতর্কিত সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে এসে আমার ভাইয়ের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলে সে গুরুতর আহত হয়। শাহাদাতকে মেরে ফেলার জন্য স্থানীয় কিছু ব্যক্তি পিচ্চি কামালকে কারাগার থেকে বের করেছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভাই (শাহাদাত) পিচ্চি কামাল গ্রেপ্তারের পর ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পেরেছে, এখানে তার হাত নেই। পূর্বে একবার পিচ্চি কামাল ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়েছিল, তখন শাহাদাতের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল। সে সময় নিজের টাকা খরচ করে কামালকে জামিন করিয়েছিল শাহাদাত। সর্বশেষ গ্রেপ্তারের সময়ও কামালের সাথে শাহাদাতের সম্পর্ক ভালো ছিল। তবে কামালের ধারণা শাহাদতই তাকে ধরিয়ে দিয়েছে। তখন থেকে কামালের ভেতর এক প্রকার ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।’
সরেজমিনে ঢেমশা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মাইজপাড়া এলাকায় গিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কিশোর গ্যাং ও মাদককারবারিদের দৌরাত্ম্য চলছে। সাধারণ মানুষ এর প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। সেখানে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাড়লেও প্রশাসনের নজরদারি সীমিত। ফলে মাইজপাড়া এলাকাটি কিশোর গ্যাংয়ের হাতে অনেকটা জিম্মি।
এর আগে গত ২২ এপ্রিল মাইজপাড়ার বাসিন্দা রায়হান নামের এক যুবককে নলুয়া ইউনিয়নের সোনার বাংলা ইটভাটা এলাকায় নিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ বা মামলা হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মো. কামাল ওরফে পিচ্চি কামালের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মঞ্জুরুল হক খবরের কাগজকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরিফুল ইসলাম/অমিয়/