কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় মোবাইল মেরামতের পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে আব্দুল হামিদ (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ শামীমকে (২১) আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ লরাবাক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুল হামিদ ওই এলাকার আবুল কালামের ছেলে। তিনি পেশায় মোবাইল মেকানিক ছিলেন এবং স্থানীয় একটি ব্যাবসাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। আটক শামীম একই এলাকার বাসিন্দা।
নিহতের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বলেন, “প্রায় এক মাস আগে আব্দুল হামিদের দোকানে মোহাম্মদ শামীম একটি মোবাইল ফোন মেরামত করেন। মেরামতের বিল ছিল ৮০০ টাকা। তখন তার কাছে টাকা না থাকায় পরে পরিশোধ করবেন বলে জানান শামীম। তবে দীর্ঘদিনেও টাকা পরিশোধ না করায় হামিদ কয়েক দফা তাগাদা দেন। এ নিয়ে দোকান মালিকও পাওনা আদায়ের জন্য হামিদকে চাপ দিচ্ছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, “মঙ্গলবার সকালে পাওনা টাকা চাইতে হামিদ শামীমের বাড়িতে গেলে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে শামীমের এক বোন হামিদকে চড় মারেন। পরে ধস্তাধস্তির সময় শামীম পেছন দিক থেকে হামিদকে ছুরিকাঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শামীমকে পালানোর সময় ধাওয়া দিয়ে আটক করেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। আহত হামিদকে প্রথমে ঈদগাঁওয়ের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি দেখে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে খুরুশকুল এলাকায় পৌঁছালে তার মৃত্যু হয়।”
ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম শিফাতুল মজুমদার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত শামীমকে আটক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে মোবাইল মেরামতের পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেছে। তবে প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত করছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।”
তারেকুর রহমান/নাঈম